রটারড্যাম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের (IFFR) 55তম সংস্করণে শনিবার “লেটস টক অ্যাবাউট সেক্স, বেবি” শিরোনামের একটি প্যানেল অনুষ্ঠিত হয়। এই সেশনে এই বছরের নির্বাচিত চলচ্চিত্র নির্মাতারা বড় পর্দায় যৌনতা উপস্থাপনের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় করেন।
প্যানেলে অংশ নেন হোয়ামি আলকাজারেন, গ্যাভিন বেয়ার্ড, অ্যাক্সেল ভিনাস্যাক এবং লুইসা এফ. গনজালেজ। আলকাজারেনের “নুডলস, আওর লাভ ওজ ইনস্ট্যান্ট অ্যান্ড ফরএভার” সিনেমা সাইনমার্ট মার্কেটে প্রদর্শিত হয়, বেয়ার্ডের “ক্লি” শর্ট ও মিড-লেংথ প্রোগ্রামের অংশ, ভিনাস্যাকের “সুদাঁ লেৎ” একই সেকশনে স্ক্রিনিং পায়, আর গনজালেজ পর্ন ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল আমস্টারডামের সঙ্গে যুক্ত গবেষক ও কিউরেটর।
প্যানেলটি পরিচালনা করেন IFFR প্রোগ্রামার ক্রিস্টিনা কোলোজসভারি-কিস, যিনি উল্লেখ করেন এই বছর ফিল্ম সাবমিশনে অপ্রত্যাশিতভাবে ফ্যালাসের উপস্থিতি বেড়েছে। তিনি বলেন, এই প্রবণতা উৎসবের প্রোগ্রামিং দৃষ্টিকোণ থেকে বিশেষভাবে নজরকাড়া।
কোলোজসভারি-কিস আরও জোর দিয়ে বলেন যে, প্যানেলিস্টদের চলচ্চিত্রে যৌনতা কেবল দৃশ্যগত উপাদান নয়; এটি শক্তিশালী সামাজিক কাঠামোকে প্রশ্নবিদ্ধ করার একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। তিনি উল্লেখ করেন, এই কাজগুলো সংবেদনশীল ও সুন্দর, তবু দমনমূলক শক্তিকে ভাঙতে সহায়ক।
গ্যাভিন বেয়ার্ডের “ক্লি” একটি শারীরিক ভয়াবহতা ও যৌন কল্পনার মিশ্রণ, যা কানাডিয়ান উপনিবেশের রোমান্টিক ধারণাকে উল্টে দেয়। 16মিমি ফিল্মে শুট করা এই কাজটি যৌন সংযোগ ও উপনিবেশিক দখলকে একসাথে বর্ণনা করে, যা শান্ত ও তীব্র উভয়ভাবেই অনুভূত হয়।
অ্যাক্সেল ভিনাস্যাকের “সুদাঁ লেৎ” বিচ্ছেদের পর ডেটিং জগতে ফিরে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে এক কঠিন যাত্রা হিসেবে উপস্থাপন করে। পরীক্ষামূলক রোমান্টিক কমেডি হিসেবে এই চলচ্চিত্রটি সংবেদনশীল 16মিমি শট ও অন্তরঙ্গ সংলাপের সমন্বয়ে গঠিত, যা দর্শকের কাছে নতুন দৃষ্টিকোণ এনে দেয়।
হোয়ামি আলকাজারেনের “নুডলস, আওর লাভ ওজ ইনস্ট্যান্ট অ্যান্ড ফরএভার” সিনেমার সংক্ষিপ্তসার প্যানেলে উপস্থাপিত হয়। এই কাজটি প্রেম, তৎক্ষণাৎ সংযোগ এবং দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের থিমকে যৌনতার মাধ্যমে অনুসন্ধান করে, যা সাইনমার্ট মার্কেটের অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
লুইসা এফ. গনজালেজ, পর্ন ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল আমস্টারডামের সঙ্গে যুক্ত, চলচ্চিত্র গবেষক ও কিউরেটর হিসেবে প্যানেলে উপস্থিত হন। তিনি যৌনতা-সম্পর্কিত চলচ্চিত্রের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে, আধুনিক নির্মাতাদের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচনের সম্ভাবনা আলোচনা করেন।
প্যানেলটি চলচ্চিত্র নির্মাতাদের জন্য স্পষ্ট করে তুলে ধরেছে যে, স্পষ্ট যৌন দৃশ্য অন্তর্ভুক্ত করা শিল্পিক দৃষ্টিভঙ্গি ও দর্শকের প্রত্যাশার মধ্যে সূক্ষ্ম ভারসাম্য বজায় রাখতে হয়। অংশগ্রহণকারীরা উল্লেখ করেন, সঠিকভাবে ব্যবহার করলে যৌনতা গল্পের গভীরতা বাড়ায়, তবে অতিরিক্ত হলে বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।
আলোচনার মূল দিক ছিল যৌনতা ব্যবহার করে দমনমূলক শাসনব্যবস্থাকে ভাঙা এবং বৈচিত্র্যময় ইচ্ছা প্রকাশের সুযোগ সৃষ্টি করা। প্যানেলিস্টরা সম্মত হন যে, যৌনতা এখন কেবল শারীরিক আকর্ষণ নয়, বরং সামাজিক কাঠামোকে প্রশ্নবিদ্ধ করার শক্তিশালী হাতিয়ার।
শ্রোতারা প্যানেলকে সাহসী ও উদ্ভাবনী হিসেবে প্রশংসা করেন, যা IFFR-এর পরীক্ষামূলক ও সীমা-চ্যুতি চলচ্চিত্রের প্রতি অঙ্গীকারকে প্রতিফলিত করে। অংশগ্রহণকারীরা উল্লেখ করেন, এই ধরনের আলোচনা চলচ্চিত্র শিল্পকে নতুন দিকনির্দেশে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
সারসংক্ষেপে, রটারড্যাম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের এই প্যানেল যৌনতা বিষয়ক চলচ্চিত্রের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা উন্মোচন করেছে। এটি দেখিয়েছে যে, IFFR নতুন ও চ্যালেঞ্জিং কাজকে সমর্থন করে, যা দর্শকের দৃষ্টিভঙ্গি বিস্তৃত করে এবং শিল্পের সীমা প্রসারিত করে।



