রোটারড্যাম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব (IFFR) এর ৫৫তম সংস্করণে নরওয়েজিয়ান লেখক‑নির্দেশক ইটোনজে সয়িমার গুট্টোরমসেনের নতুন চলচ্চিত্র ‘বাটারফ্লাই’ বিশ্বপ্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করেছে। চলচ্চিত্রের শিরোনাম, সেটিং এবং প্রধান অভিনেত্রী রেনেট রেইনসভের তথ্য উৎসবের অফিসিয়াল প্রোগ্রামে প্রকাশিত হয়েছে।
‘বাটারফ্লাই’ চলচ্চিত্রটি গ্রান কানারিয়ার পটভূমিতে রচিত, যেখানে দুই অর্ধবোন লিলি এবং ডায়ানা তাদের পিতামাতার মৃত্যুর পর শৈশবের বাড়িতে পুনর্মিলিত হয়। লিলি একজন পারফরম্যান্স আর্টিস্ট, আর ডায়ানা অধিক সংযত ও শান্ত স্বভাবের। দুজনকে একসাথে একটি অসমাপ্ত রিসোর্ট এবং একটি গূঢ় রিট্রিট উত্তরাধিকার হিসেবে পাওয়া যায়।
চলচ্চিত্রের মা ভেরা, যিনি রিসোর্টের হোস্টেস হিসেবে কাজ করতেন, তার অতীতের কাজকর্ম এবং পরিবারের গোপনীয়তা গল্পের কেন্দ্রীয় অংশ গঠন করে। দুই বোনের সম্পর্কের জটিলতা এবং তাদের পারিবারিক ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত অদ্ভুত পরিবেশের মিশ্রণ চলচ্চিত্রের মূল থিম হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে।
ইটোনজে সয়িমার গুট্টোরমসেনের এই কাজটি তার দ্বিতীয় ফিচার ফিল্ম, যা পূর্বে টিগার প্রতিযোগিতায় তার প্রথম ফিল্মের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মঞ্চে স্বীকৃতি পেয়েছিল। পাঁচ বছর পর IFFR-এ ফিরে এসে তিনি ‘বিগ স্ক্রিন’ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করছেন, যা তার ক্যারিয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত।
চলচ্চিত্রে রেনেট রেইনসভের পাশাপাশি হেলেন ব্জর্নেবি, নুমান আকার এবং লিলিয়ান মুলারও প্রধান ভূমিকায় উপস্থিত। রেইনসভে পূর্বে ‘দ্য ওরেস্ট পার্সন ইন দ্য ওয়ার্ল্ড’ এবং ‘সেন্টিমেন্টাল ভ্যালু’ চলচ্চিত্রে তার পারফরম্যান্সের জন্য আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেন। তার উপস্থিতি ‘বাটারফ্লাই’কে অতিরিক্ত আকর্ষণ যোগ করেছে।
প্রোডাকশন কোম্পানি প্রোডিজোনিস্ট পিকচার্স চলচ্চিত্রের বিক্রয় পরিচালনা করছে, যেখানে মের ফিল্ম, কুইডিটি ফিল্মস, জেন্ট্রোপা ইন্টারন্যাশনাল সুইডেন এবং নর্ড ফিল্মসহ বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক পার্টনার যুক্ত। মারিয়া একারহোভদ প্রযোজক হিসেবে প্রকল্পের তত্ত্বাবধান করছেন।
IFFR-এ চলচ্চিত্রের নির্বাচনকারী ভানজা কালুডজেরচিকের মন্তব্য অনুযায়ী, ‘বাটারফ্লাই’ আধুনিক সংস্কৃতির স্ব-প্রতিফলনের প্রবণতা এবং নিজের গল্প গড়ে তোলার প্রচলনকে সমালোচনামূলক দৃষ্টিতে উপস্থাপন করে। তিনি উল্লেখ করেন যে চলচ্চিত্রটি অন্ধকার প্রবাহের মধ্যে হাস্যরস খুঁজে পায়, আত্মগর্ব, অযৌক্তিকতা এবং দৈনন্দিন অদ্ভুততা তুলে ধরে।
ফেস্টিভ্যালে চলচ্চিত্রের থিম এবং বর্ণনাশৈলীর উপর জোর দেওয়া হয়েছে, যা দর্শকদের নিজেদের পরিচয় ও অতীতের সঙ্গে সম্পর্কিত প্রশ্ন তুলতে উদ্বুদ্ধ করে। চলচ্চিত্রের কাঠামো এবং চরিত্রের পারস্পরিক ক্রিয়া আধুনিক সমাজের কল্পনা ও বাস্তবতার মধ্যে সেতু গড়ে তোলার প্রচেষ্টা হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
‘বাটারফ্লাই’ এর বিশ্বপ্রদর্শনী IFFR-এ অনুষ্ঠিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র সমালোচক এবং শিল্পকর্মের প্রেমিকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। যদিও প্রকাশ্যভাবে দর্শক প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশিত হয়নি, তবে ফেস্টিভ্যালের প্রোগ্রাম তালিকায় এই চলচ্চিত্রের স্থান নিশ্চিত করেছে যে এটি শিল্পের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
চলচ্চিত্রের নির্মাণে ব্যবহৃত স্থানীয় দৃশ্যপট এবং গ্রান কানারিয়ার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য চলচ্চিত্রের ভিজ্যুয়াল আকর্ষণ বাড়িয়ে তুলেছে। রিসোর্টের অসমাপ্ত অবস্থা এবং গূঢ় রিট্রিটের উপস্থিতি গল্পের মিস্টিক্যাল পরিবেশকে সমর্থন করে, যা দর্শকের কল্পনাশক্তিকে উদ্দীপিত করে।
‘বাটারফ্লাই’ রোটারড্যাম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশগ্রহণের মাধ্যমে নরওয়েজিয়ান সিনেমার বৈশ্বিক উপস্থিতি শক্তিশালী করেছে এবং রেনেট রেইনসভের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। চলচ্চিত্রটি ভবিষ্যতে অন্যান্য আন্তর্জাতিক উৎসবেও প্রদর্শিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা নরওয়েজিয়ান চলচ্চিত্র শিল্পের বিকাশে সহায়ক হবে।
এই চলচ্চিত্রের মাধ্যমে ইটোনজে সয়িমার গুট্টোরমসেন আধুনিক মানবিক সম্পর্ক, পারিবারিক গোপনীয়তা এবং স্ব-পরিচয়ের জটিলতা নিয়ে নতুন দৃষ্টিকোণ উপস্থাপন করেছেন। ‘বাটারফ্লাই’ রোটারড্যাম চলচ্চিত্র উৎসবে তার প্রথম বিশ্বপ্রদর্শনী দিয়ে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র জগতে একটি উল্লেখযোগ্য স্থান অর্জন করেছে।



