টোকিওর যাসুকুনি মন্দিরে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল পোকেমন কার্ড গেমের একটি ইভেন্ট, যা শনিবারের পরিকল্পনা ছিল। চীনের নেটওয়ার্কে ব্যাপক প্রতিবাদে কোম্পানি ইভেন্টটি বাতিল করে এবং অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে।
পোকেমন কোম্পানি জানায়, তৃতীয় পক্ষের দ্বারা আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি তার অফিসিয়াল সাইটে ভুলবশত পোস্ট করা হয়েছিল এবং যথাযথ সতর্কতা না নেওয়ার জন্য দায় স্বীকার করেছে। ঘটনাটি সনাক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইভেন্টটি রদ করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞাপনটি সরিয়ে দেওয়া হয়।
যাসুকুনি মন্দিরটি টোকিওর সম্রাটের প্রাসাদের নিকটে অবস্থিত এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধসহ বিভিন্ন যুদ্ধের শহীদদের স্মরণে প্রতিষ্ঠিত। মন্দিরে প্রায় ২.৫ মিলিয়ন নামের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত, যার মধ্যে ১,০০০-এর বেশি দোষী যুদ্ধাপরাধীর নামও রয়েছে, যা বহু দেশকে এই স্থানকে বিতর্কিত করে তুলেছে।
বিশেষ করে চীনের দৃষ্টিতে, যাসুকুনি মন্দিরে অপরাধী যুদ্ধাপরাধীদের অন্তর্ভুক্তি ইতিহাসের সংবেদনশীল বিষয়। তাই চীনা সরকারী মিডিয়া এই ইভেন্টকে জাতীয় গর্বের আঘাত হিসেবে উল্লেখ করে এবং ব্র্যান্ডগুলোকে ইতিহাসের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান জানায়।
চীনের কমিউনিস্ট পার্টির সরকারি সংবাদপত্র ‘পিপলস ডেইলি’ ইভেন্টের প্রকাশের পর মন্তব্য করে, ইতিহাসকে অবহেলা করা এবং চীনা জনগণের অনুভূতিকে আঘাত করা কোনো ব্র্যান্ডের ভবিষ্যৎকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। তারা সামাজিক দায়িত্বের কথা তুলে ধরে, বিনোদনমূলক কার্যক্রমে ইতিহাসের ভারকে হালকা করে দেখা উচিত নয়।
রাষ্ট্রমালিকানাধীন ‘গ্লোবাল টাইমস’ চীনা তরুণ নেটিজেনদের এই ইভেন্টের সমালোচনার প্রশংসা করে এবং উল্লেখ করে, এমন স্থানে শিশুদের জন্য কোনো বিনোদনমূলক কার্যক্রম করা ঐতিহাসিক সত্যের প্রতি সরাসরি আঘাত। এই ধরনের উদ্যোগকে তারা বিশেষভাবে নিন্দা করে।
পোকেমন কোম্পানি তার বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে, ইভেন্টটি ভুলবশত পোস্ট করা হয়েছিল এবং তা দ্রুত রদ করা হয়েছে। তারা সকল প্রভাবিত পক্ষের কাছে আন্তরিক ক্ষমা চেয়ে, ভবিষ্যতে এ ধরনের ভুল এড়াতে যথাযথ সতর্কতা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
এই ঘটনা চীন-জাপান সম্পর্কের বর্তমান উত্তেজনার সঙ্গে যুক্ত, যেখানে জাপানের নতুন প্রধানমন্ত্রী তাইচি উয়ে তাইওয়ানের নীতি নিয়ে কঠোর অবস্থান গ্রহণের ফলে দু’দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। যাসুকুনি মন্দিরের সংবেদনশীলতা এই কূটনৈতিক উত্তেজনাকে আরও তীব্র করে তুলেছে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, চীনের মিডিয়ার তীব্র প্রতিক্রিয়া এবং পোকেমন কোম্পানির দ্রুত পদক্ষেপ উভয়ই আন্তর্জাতিক বাজারে ব্র্যান্ডের সুনাম রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয়। এ ধরনের সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক সংবেদনশীলতা উপেক্ষা করা ব্যবসায়িক ঝুঁকি বাড়ায়, বিশেষ করে এশিয়ার বড় বাজারে।
ভবিষ্যতে জাপানি ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক স্থানগুলোতে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের কার্যক্রমে আরও সতর্কতা অবলম্বন করা হবে বলে আশা করা যায়। এছাড়া, চীন-জাপান কূটনৈতিক সংলাপের মাধ্যমে ঐতিহাসিক বিষয়গুলোকে সংবেদনশীলভাবে পরিচালনা করার প্রয়োজনীয়তা তীব্রতর হবে।
সারসংক্ষেপে, পোকেমন ইভেন্টের বাতিল এবং কোম্পানির ক্ষমা চাওয়া চীনের তীব্র প্রতিবাদ এবং যাসুকুনি মন্দিরের ঐতিহাসিক সংবেদনশীলতার প্রেক্ষাপটে ঘটেছে। এই ঘটনা আন্তর্জাতিক ব্যবসা ও কূটনৈতিক সম্পর্কের জটিলতা তুলে ধরে, যেখানে সাংস্কৃতিক সচেতনতা এবং দায়িত্বশীল যোগাযোগের গুরুত্ব অপরিসীম।



