21 C
Dhaka
Saturday, January 31, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকজাতিসংঘের আর্থিক সংকটের মুখে বকেয়া চাঁদা ও বাজেট কাঠামো নিয়ে সতর্কতা

জাতিসংঘের আর্থিক সংকটের মুখে বকেয়া চাঁদা ও বাজেট কাঠামো নিয়ে সতর্কতা

জাতিসংঘ আর্থিক সংকটের গভীরে প্রবেশ করেছে, কারণ সদস্য দেশগুলোর বকেয়া বার্ষিক চাঁদা এবং বর্তমান বাজেট কাঠামো সংস্থার কার্যক্রমকে হুমকির মুখে ফেলছে। এই সপ্তাহের শুরুর চিঠিতে মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস পরিস্থিতি তুলে ধরেছেন এবং ত্বরিত পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন।

গুতেরেসের চিঠিতে সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে আর্থিক নিয়মাবলী সংস্কারে একমত হতে এবং বকেয়া চাঁদা সম্পূর্ণ ও সময়মতো পরিশোধ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, চাঁদা না দিলে সংস্থার প্রোগ্রাম চালিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।

জাতিসংঘের মুখপাত্র ফারহান হক শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন, চাঁদা প্রদান এখনই না করলে ভবিষ্যতে কখনোই সম্ভব না হতে পারে। এই মন্তব্যটি গুতেরেসের চিঠির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে তিনি যোগ করেন।

গুতেরেস কোনো নির্দিষ্ট দেশ উল্লেখ না করলেও, যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের সময়কালে সংস্থার তহবিল কমে যাওয়ায় সংকট তীব্রতর হয়েছে। ট্রাম্প সরকার জাতিসংঘসহ ৬৬টি আন্তর্জাতিক সংস্থার তহবিল থেকে সরে দাঁড়ানোর পরিকল্পনা প্রকাশ করে এবং ‘বোর্ড অব পিস’ নামে নতুন উদ্যোগ চালু করেছে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, সদস্য দেশগুলোর জিডিপি ও অন্যান্য সূচকের ভিত্তিতে বার্ষিক চাঁদা নির্ধারিত হয়। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র মূল বাজেটের প্রায় ২২ শতাংশ এবং চীন ২০ শতাংশ অবদান রাখে। তবে ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ রেকর্ড ১.৫৭ বিলিয়ন ডলার বকেয়া চাঁদা ছিল।

সংস্থার ২০২৬ সালের বাজেট পরিকল্পনা ৩.৪৫ বিলিয়ন ডলার অনুমোদিত হয়েছে, যা পূর্ব বছরের তুলনায় ৭ শতাংশ কম। গুতেরেস সতর্ক করেন, বর্তমান আর্থিক প্রবণতা অব্যাহত থাকলে জুলাইয়ের মাঝামাঝি পর্যন্ত নগদ অর্থ শেষ হয়ে যেতে পারে।

জাতিসংঘের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত ১৯৩টি সদস্য দেশের মধ্যে মাত্র ৩৬টি দেশই ২০২৬ সালের নিয়মিত চাঁদা সম্পূর্ণ পরিশোধ করেছে। বাকি দেশগুলো বকেয়া পরিমাণে বড় পার্থক্য রয়েছে, যা সংস্থার নগদ প্রবাহকে প্রভাবিত করছে।

আর্থিক ঘাটতি সংস্থার শান্তি রক্ষার মিশন, মানবিক সহায়তা এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে চলমান সংঘর্ষে মানবিক সাহায্য প্রদান এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় তহবিলের ঘাটতি উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, জাতিসংঘের আর্থিক স্থিতিশীলতা গ্লোবাল শাসনব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সূচক। যদি সদস্য দেশগুলো সময়মতো চাঁদা না দেয়, তবে অন্যান্য বহুপাক্ষিক সংস্থারও অনুরূপ সংকটের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

গুতেরেসের মতে, আর্থিক নিয়মাবলীর সংস্কার এবং বকেয়া চাঁদার দ্রুত নিষ্পত্তি দুইটি মূল পদক্ষেপ। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সংস্থার কার্যক্রম বজায় রাখতে সদস্য দেশগুলোর সমন্বিত ইচ্ছা এবং দায়িত্বশীলতা প্রয়োজন।

যুক্তরাষ্ট্রের তহবিল প্রত্যাহার এবং নতুন ‘বোর্ড অব পিস’ উদ্যোগের ফলে জাতিসংঘের বাজেট কাঠামো পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে। কিছু দেশ বিকল্প তহবিলের উৎস খুঁজছে, তবে তা এখনও পর্যাপ্ত নয় এবং অতিরিক্ত অবদান প্রয়োজন।

সংস্থার আর্থিক সংকট সমাধানের জন্য আগামী মাসে বিশেষ বৈঠক নির্ধারিত হয়েছে, যেখানে চাঁদা পরিশোধের সময়সূচি এবং ভবিষ্যৎ বাজেটের কাঠামো নিয়ে আলোচনা হবে। এই বৈঠকটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন এবং দায়িত্বশীলতা পরীক্ষা করার গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হবে।

বৈঠকের ফলাফল সংস্থার কার্যক্রম

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments