জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) কনভিনার নাহিদ ইসলাম আজ চৌদ্দগ্রাম, কুমিল্লা উপজেলার এইচ জে পাইলট হাই স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত প্রি-ইলেকশন র্যালিতে প্রতিবেশী দেশের নির্বাচনী হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে সতর্কতা প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, শীঘ্রই অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে কিছু বিদেশি শক্তি দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করার চেষ্টা করছে।
র্যালিটি জামায়াত‑ই‑ইসলাম নেতৃত্বাধীন জোটের আয়োজন এবং নাহিদকে বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়। উপস্থিত ভক্ত ও সমর্থকরা রঙিন পতাকা ও পোস্টার নিয়ে নীরবভাবে তার বক্তব্য শোনেন।
নাহিদের মতে, কোনো প্রতিবেশী দেশ সরাসরি ১১‑দলীয় জোটের বিরোধিতা করে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে সমর্থন দিচ্ছে, যা দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি আঘাতস্বরূপ। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এমন কোনো হস্তক্ষেপ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
এ ধরনের বিদেশি হস্তক্ষেপের মুখে দেশের মানুষ নিজস্ব স্বার্থ রক্ষার জন্য স্বতন্ত্র পদক্ষেপ নেবে, এ কথায় নাহিদ স্পষ্ট বার্তা দেন। তিনি বলেন, যদি কোনো দেশ নির্বাচন প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের চেষ্টা করে, তবে তা দেশের নাগরিকদের দ্বারা প্রত্যাখ্যান করা হবে।
নাহিদের বক্তব্যে অ্যান্টি‑ফ্যাসিস্ট আন্দোলনের লক্ষ্যকে তুলে ধরা হয়েছে; তিনি বলেন, এই আন্দোলন ন্যায়বিচার ভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে, যেখানে নাগরিকের অধিকার সুরক্ষিত থাকবে এবং শাসনে জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, আসন্ন নির্বাচন কোনো একক ঘটনা নয়, বরং জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতা, যা দেশের গণতান্ত্রিক পথে অগ্রসর হওয়ার ভিত্তি স্থাপন করেছে। এই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে নির্বাচনকে স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত করা জরুরি।
নাহিদ প্রতিশ্রুতি দেন, যদি ১১‑দলীয় জোট সরকার গঠন করে, তবে জুলাই মাসের গণহত্যা ও শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যার ন্যায়বিচারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তিনি বলেন, এই দুইটি বিষয়ের সমাধান ছাড়া দেশের শান্তি ও উন্নয়ন সম্পূর্ণ হবে না।
র্যালিতে জামায়াত‑ই‑ইসলামের আমীর ড. শফিকুর রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, আর জামায়াতের নায়েব‑এমির ড. সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন। উভয় নেতাই নাহিদের বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়ে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার আহ্বান জানান।
কুমিল্লা-১০ (নাঙ্গালকোট) ও কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) নির্বাচনী এলাকা থেকে জামায়াত‑সমর্থিত প্রার্থীর সমর্থকরা র্যালিতে অংশ নেন। তারা নাহিদের সঙ্গে একমত হয়ে দেশের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য একতাবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানায়।
অন্যান্য বক্তারা ভোটার অধিকার রক্ষার জন্য একতা বজায় রাখার এবং নির্বাচনের স্বচ্ছতা, ন্যায়তা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার গুরুত্বের ওপর জোর দেন। তারা উল্লেখ করেন, সকল রাজনৈতিক দলকে একসাথে কাজ করে দেশের ভবিষ্যৎ গড়তে হবে।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, নাহিদের এই মন্তব্য ও জামায়াত‑ই‑ইসলামের সমর্থন নির্বাচনী পরিবেশে প্রতিবেশী দেশের হস্তক্ষেপের বিষয়ে জনমতকে তীব্রভাবে প্রভাবিত করতে পারে। পরবর্তী সময়ে নির্বাচনের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা হতে পারে।



