বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমান আজ সিরাজগঞ্জের বি.এস.সি.আই.সি. ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের পূর্বাভাসমূলক র্যালিতে ভোটারকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা ব্যক্তিদের ‘গুপ্তো’ বলে চিহ্নিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। র্যালি দুপুরে অনুষ্ঠিত হয় এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিশাল সংখ্যক সমর্থক উপস্থিত ছিলেন।
র্যালিতে উপস্থিত ভিড়ের আকার বিশাল ছিল; স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী কয়েক হাজার মানুষ একত্রিত হয়ে তারেকের বক্তৃতা শোনার জন্য অপেক্ষা করছিল। উপস্থিতির তীব্রতা তারেকের বক্তব্যের প্রভাব বাড়িয়ে তুলেছে এবং সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাসের স্রোত তৈরি করেছে।
তাঁরেক রহমান উল্লেখ করেন, যারা নির্বাচনের সময় মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে, তাদেরকে ‘গুপ্তো’ বলে সম্বোধন করা উচিত। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যদি কেউ ভুল তথ্য ছড়ায়, তবে সরাসরি তাকে ‘গুপ্তো’ বলে চিহ্নিত করা দরকার, যাতে জনমতকে পরিষ্কার রাখা যায়।
এছাড়া তিনি অতীতের রাজনৈতিক ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, গত ষোলো বছর ধরে এমন ব্যক্তিদের দেখা যায়নি; তারা আগস্ট ৫ তারিখে দেশের বাইরে গিয়ে গোপনে ফিরে এসেছেন। স্বাধীনতার পর থেকে ১৯৮৬, ১৯৯৬ ইত্যাদি নির্বাচনের সময়ও তারা একই রকম গোপন চিত্রে কাজ করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
র্যালিতে উপস্থিত ভিড়ের বিশাল সংখ্যাকে দেখে তিনি বললেন, যদি তিনি ইচ্ছা করতেন তবে প্রতিপক্ষের সম্পর্কে বহু কথা বলতে পারতেন এবং হয়তো তালি পেতে পারতেন, তবে তা জনগণের উপকারে আসবে না। তিনি সমর্থকদের স্মরণ করিয়ে দেন, তালি ও উল্লাসের চেয়ে বাস্তব নীতি ও কর্মই গুরুত্বপূর্ণ।
তারেকের মতে, বিএনপি একমাত্র অভিজ্ঞ দল যা দেশের সুষ্ঠু পরিচালনা ও অগ্রগতির জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা রাখে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, অন্য কোনো দল দেশের পরিচালনায় সমান সক্ষমতা প্রদর্শন করতে পারেনি।
তিনি সমাবেশে উপস্থিত সবাইকে একতা ও সতর্কতার আহ্বান জানান, যাতে কোনো গোপন ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ভোটারদের অধিকার আবার হরণ করা না যায়। গত ষোলো বছর ধরে যারা মানুষের অধিকার রক্ষার জন্য প্রাণ দিয়েছেন, তাদের স্বর পুনরায় দমন না করা জরুরি, তিনি জোর দিয়ে বলেন।
এই আহ্বানের পর সমাবেশের অংশগ্রহণকারীরা একসাথে জোরে ‘হ্যাঁ’ বলে সাড়া দেন, যা তারেকের বার্তাকে শক্তিশালী করে তুলেছে।
প্রতিপক্ষের নেতারা র্যালির পরবর্তী দিনে এই আহ্বানকে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ানোর প্রচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করতে পারেন এবং ভোটারকে বিভ্রান্তি থেকে রক্ষা করার জন্য অন্য পদ্ধতি প্রস্তাব করতে পারেন। তবে বিশাল সমর্থক গোষ্ঠীর উপস্থিতি এবং তারেকের স্পষ্ট বক্তব্য ভবিষ্যৎ নির্বাচনে বিএনপির অবস্থানকে শক্তিশালী করতে পারে।
জাতীয় নির্বাচন আসন্ন হওয়ায় এই ধরনের র্যালি ও বক্তৃতা রাজনৈতিক পরিবেশকে তীব্র করে তুলছে। ভোটারদের সচেতনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সকল দলকে সমন্বিতভাবে কাজ করা প্রয়োজন, তা না হলে নির্বাচনের ফলাফলকে প্রভাবিত করার ঝুঁকি বাড়বে।



