21 C
Dhaka
Saturday, January 31, 2026
Google search engine
Homeবিনোদনসালমান খানের মানহানি মামলায় মুম্বাই সিভিল কোর্টে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা

সালমান খানের মানহানি মামলায় মুম্বাই সিভিল কোর্টে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা

মুম্বাইয়ের একটি সিভিল কোর্টে বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা সালমান খানকে লক্ষ্য করে দায়ের করা মানহানি মামলায় অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। আদালত শুক্রবারের আদেশে চলচ্চিত্র নির্মাতা অভিনব কাশ্যাপ এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্টদের সালমান খান ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে কোনো মন্তব্য, প্রকাশনা বা পুনরায় শেয়ার করা থেকে বিরত রাখতে নির্দেশ দিয়েছে। এই আদেশটি মামলার শোনার সময় পর্যন্ত প্রযোজ্য এবং উভয় পক্ষকে আদালতে উপস্থিত হয়ে তাদের প্রতিক্রিয়া জমা দিতে হবে।

অভিনব কাশ্যাপ, কমল মেহরু, খুশবু হাজারে এবং কয়েকটি সামাজিক মাধ্যম প্ল্যাটফর্মকে বাদী হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, কাশ্যাপ এবং তার সহযোগীরা ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকাশিত প্রায় ২৬টি ভিডিও সাক্ষাৎকার ও পডকাস্টে সালমান খান ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে আপত্তিকর এবং মিথ্যা মন্তব্য করেছেন।

সালমান খান এই ধরনের প্রকাশের ফলে তার পেশাগত সুনাম এবং ব্যক্তিগত চরিত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করে চূড়ান্ত নিষেধাজ্ঞা এবং ৯ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ চেয়েছেন। আদালতে উভয় পক্ষের বিবৃতি শোনার আগে, বিচারক পি.জি. ভোসলে অস্থায়ী আদেশে উল্লেখ করেছেন যে, মত প্রকাশের অধিকার সংবিধানিক সত্ত্বেও তা কোনো ব্যক্তির প্রতি অপমানজনক বা হুমকিমূলক ভাষা ব্যবহারকে অনুমোদন করে না।

বিচারক আরও জোর দিয়ে বলেছেন যে, কোনো ব্যক্তির পরিবারকে লক্ষ্য করে মানহানিকর মন্তব্য করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং প্রত্যেকের গোপনীয়তা ও সুনাম রক্ষার জন্য আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এই রায়ে অভিযুক্তদেরকে কোনো নতুন ভিডিও, অডিও বা লিখিত বিষয়বস্তু তৈরি, আপলোড, প্রকাশ, পুনরায় পোস্ট বা হোস্ট করা থেকে নিষেধ করা হয়েছে, যতক্ষণ না তারা আদালতে তাদের অবস্থান উপস্থাপন করে।

অভিনব কাশ্যাপ এবং অন্যান্য অভিযুক্তদেরকে এখন থেকে এই নিষেধাজ্ঞা মানতে হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে আরোপিত আদেশের বিরোধিতা করতে চাইলে যথাযথ সময়সীমার মধ্যে আপিল করতে হবে। আদালত উল্লেখ করেছে যে, যদি অভিযুক্তরা এই আদেশ লঙ্ঘন করেন তবে তাদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

এই মামলাটি মানহানি আইনের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে, যেখানে প্রকাশিত বক্তব্যের সত্যতা, প্রকাশের উদ্দেশ্য এবং তা ব্যক্তির সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত করেছে কিনা তা বিচারকের সমীক্ষার বিষয়। মামলায় উল্লেখিত ২৬টি সাক্ষাৎকার ও পডকাস্টের বিষয়বস্তু এখন পর্যন্ত প্রকাশিত হয়নি, তবে আদালতের আদেশের ফলে সেগুলোর পুনরায় প্রকাশ বা বিতরণ বন্ধ করা হয়েছে।

সালমান খানের আইনজীবী দল দাবি করে যে, এই ধরনের মানহানিকর মন্তব্যের ফলে তার ক্লায়েন্টের মানসিক চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং তার পেশাগত সুযোগসুবিধা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তারা আদালতকে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা এবং উল্লেখিত ক্ষতিপূরণ প্রদান করার অনুরোধ করেছে।

অভিনব কাশ্যাপের পক্ষ থেকে এখনো কোনো প্রকাশ্য মন্তব্য শোনা যায়নি, তবে তারা আদালতের আদেশ মেনে চলার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে এবং যথাসময়ে তাদের প্রতিক্রিয়া জমা দেওয়ার কথা জানিয়েছে।

এই অস্থায়ী রায়ের ফলে সাময়িকভাবে সামাজিক মাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সালমান খান ও তার পরিবারের সম্পর্কে কোনো নতুন তথ্য বা মন্তব্য দেখা যাবে না। সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মগুলোকে বিষয়বস্তু মুছে ফেলতে এবং ভবিষ্যতে এমন কোনো প্রকাশনা না করার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।

মামলার পরবর্তী ধাপ হবে উভয় পক্ষের লিখিত বিবৃতি ও প্রমাণাদি আদালতে জমা দেওয়া, যার পর বিচারক বিষয়টি নিয়ে পূর্ণাঙ্গ শুনানি নির্ধারণ করবেন। সেই শুনানিতে আদালত চূড়ান্ত রায় দিয়ে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা, ক্ষতিপূরণ বা অন্য কোনো আইনি ব্যবস্থা নির্ধারণ করতে পারেন।

এই ঘটনা বলিউডের শিল্পী ও মিডিয়া পরিবেশে প্রকাশের সীমা ও দায়িত্ব সম্পর্কে নতুন আলোচনার সূচনা করেছে। বিশেষ করে সামাজিক মাধ্যমের বিস্তৃত ব্যবহার এবং দ্রুত তথ্য প্রচারের সময় মানহানি মামলার প্রভাব ও প্রয়োজনীয়তা নিয়ে শিল্প জগতে মনোযোগ বাড়ছে।

সালমান খান ও তার আইনজীবী দল এই রায়কে তার সুনাম রক্ষার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন, আর অভিযুক্ত পক্ষের জন্য এটি একটি সতর্কবার্তা যে, প্রকাশের স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার মধ্যে সমতা বজায় রাখতে আইনগত সীমা মেনে চলা আবশ্যক।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Bollywood Hungama
বিনোদন প্রতিবেদক
বিনোদন প্রতিবেদক
AI-powered বিনোদন content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments