বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা‑৮ আসনের প্রার্থী মির্জা আব্বাস ৩১ জানুয়ারি শনিবার পল্টনের আনন্দ ভবন কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও জাল ভোটের সম্ভাবনা নিয়ে সতর্কতা প্রকাশ করেন। হজ, রিক্রুটিং ও ট্রাভেল এজেন্সির মালিকদের সমাবেশে তিনি উল্লেখ করেন, কিছু গোষ্ঠী ৪০ লক্ষ বোরকা (বোরখা) প্রস্তুত করে ভোটের গণ্ডগোল ঘটাতে পারে, যার ফলে পুরুষরা নারীর ভোটিং বুথে অনুপ্রবেশের ঝুঁকি তৈরি হবে।
মির্জা আব্বাসের মতে, বোরকা ব্যবহার করে জাল ভোটের প্রচেষ্টা সহ্য করা যাবে না এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে তৎক্ষণাৎ থামাতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত না হলে জনগণের অধিকার নষ্ট হবে এবং ফলাফল ঘোষণায় ১২ ঘণ্টার বেশি বিলম্ব হলে তা দুর্নীতির ইঙ্গিত হিসেবে গণ্য করা উচিত।
সভায় মির্জা আব্বাস সরকার ও নির্বাচন কমিশনের ওপর প্রত্যাশা প্রকাশ করেন যে, উভয় সংস্থা একসাথে এমন একটি নির্বাচন পরিচালনা করবে যা জনগণের কাছে ন্যায়সঙ্গত ও নির্ভরযোগ্য হবে। তিনি উল্লেখ করেন, “যদি ফলাফল ঘোষণায় অতিরিক্ত সময় লাগে, তবে তা অসৎ উদ্দেশ্যের লক্ষণ হতে পারে” এবং এ ধরনের কোনো কৌশলকে বাধা দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশকে “অস্বস্তিকর” বলে বর্ণনা করে মির্জা আব্বাস অতীতের তুলনা করেন। তিনি বলেন, হাসিনার শাসনকালে দেশের অবস্থা এখনকের তুলনায় ভিন্ন ছিল; যদিও কিছু ক্ষেত্রে নিরাপত্তা উন্নত হয়েছে, তবু সামগ্রিকভাবে পরিস্থিতি সন্তোষজনক নয়। “একই সময়ে পুলিশ আর উপদ্রব করে না, তবে অন্য দিক থেকে আমরা ভালো নেই” তিনি মন্তব্য করেন।
মির্জা আব্বাস ১৭ বছরের রাজনৈতিক সংগ্রামের পরিপ্রেক্ষিতে প্রশ্ন তোলেন, “আমরা গত ১৭ বছরে কী অর্জন করেছি?” তিনি উল্লেখ করেন, এই সময়ে পাঁচ হাজার কর্মী অদৃশ্য হয়েছে, চার হাজার মানুষ শহীদ হয়েছে এবং বহু বছর জেলখানা কাটাতে হয়েছে। “এগুলোই আমাদের মাটির শক্তি,” তিনি যোগ করেন, যা ভবিষ্যতে নতুন প্রজন্মের জন্য সম্পদ হিসেবে কাজ করবে।
বয়স সম্পর্কে মির্জা আব্বাসের দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট; তিনি বলেন, বয়স মানে অক্ষমতা নয়, বরং অভিজ্ঞতা নতুন প্রজন্মের জন্য মূল্যবান সম্পদ। “অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের মতামত না শোনলে নতুন প্রজন্মের বিকাশে বাধা সৃষ্টি হয়,” তিনি জোর দিয়ে বলেন।
বিএনপির ক্ষমতায় থাকা সময়ের নির্বাচনের কথা উল্লেখ করে মির্জা আব্বাস বলেন, সেই সময়ের নির্বাচনগুলোকে তিনি “ভালো” হিসেবে মূল্যায়ন করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এইবারের নির্বাচনও জনগণের জন্য একটি সঠিক ও ন্যায়সঙ্গত ফলাফল দেবে।
সাময়িকভাবে, রুলিং আওয়ামী লীগ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে মির্জা আব্বাসের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারী পক্ষের কাছ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনও প্রকাশিত হয়নি।
এই সভা নির্বাচনের পূর্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে মতবিনিময়ের একটি অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়। মির্জা আব্বাসের সতর্কতা ও প্রত্যাশা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য সকল সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে ত্বরিত পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানিয়েছে।
ভবিষ্যতে নির্বাচনের ফলাফল ও প্রক্রিয়ার ওপর নজরদারি বাড়বে বলে অনুমান করা হচ্ছে, বিশেষ করে জাল ভোট ও ভোটার হস্তক্ষেপের অভিযোগের প্রেক্ষিতে। মির্জা আব্বাসের এই মন্তব্যগুলো নির্বাচনী পর্যবেক্ষণ গোষ্ঠী ও নাগরিক সমাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা হিসেবে কাজ করবে, যা স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কার্যকর হবে।



