বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি আজ রাজধানীর পরীবাগে সরকারকে আন্তজেলা ও দূরপাল্লা বাস রিকুইজিশন স্থগিত করার দাবি জানিয়ে একটি প্রেস ব্রিফিং আয়োজন করে। নির্বাচনের প্রস্তুতি চলাকালে রিকুইজিশন বাড়ার ফলে ভোটারদের যাতায়াতে বাধা সৃষ্টি হতে পারে, এ নিয়ে সমিতি স্পষ্টভাবে মত প্রকাশ করেছে।
সরকারের সিদ্ধান্তে নির্বাচনের কাজে ব্যবহার করার জন্য আন্তজেলা রুটে চলমান এবং দীর্ঘ দূরত্বের বাসগুলোকে রিকুইজিশন করা হচ্ছে। সমিতির মতে, এই রিকুইজিশনের ফলে প্রায় অর্ধেক আন্তজেলা বাস সেবায় থেকে বেরিয়ে গেছে, যা গ্রামীণ ও শহরতলির ভোটারদের চলাচলে বড় সমস্যার সৃষ্টি করবে।
মো. সাইফুল আলম, সমিতির মহাসচিব, রিকুইজিশন প্রক্রিয়ার সঙ্গে সঙ্গে চালক ও বাস মালিকদের জন্য কোনো আর্থিক সহায়তা ঘোষিত না হওয়ার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “যারা নির্বাচনের পুরো সময়ে সেবা প্রদান করবে, তাদের ক্ষতিপূরণ কত হবে তা সরকার স্পষ্ট করে জানাতে হবে।” অতীতেও সরকার ক্ষতিপূরণ দিয়ে বাস চালিয়েছে, তাই এখনও তহবিলের উৎস ও পরিমাণ জানানো জরুরি।
সমিতি জানায়, ২৭ জানুয়ারি তারা নির্বাচন কমিশনের কাছে রিকুইজিশন সংক্রান্ত জটিলতা সমাধানের জন্য একটি চিঠি পাঠায়, তবে কোনো উত্তর পায়নি। একই চিঠি সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এবং সব জেলা প্রশাসকদের কাছে পাঠানো হয়েও কোনো প্রতিক্রিয়া না পাওয়া যায়।
কার্যকরী সভাপতি এম এ বাতেন উল্লেখ করেন, নির্বাচনের সময় অনেক মানুষ গ্রাম বা অন্য জেলা থেকে ভোট দিতে যাবে। রিকুইজিশন চালু থাকলে এই যাত্রা বিপদজনক হয়ে উঠতে পারে, ফলে ভোটারদের ভোগান্তি বাড়বে। তিনি বলেন, “আমরা গাড়ি না দেওয়ার জন্য নয়, তবে রিকুইজিশনের পরে যদি হাজার হাজার যাত্রী অসুবিধায় পড়ে, তবে আমাদের দায়িত্বে আনা যাবে না।”
বাতেনের প্রস্তাব অনুযায়ী, সরকার আন্তজেলা ও দূরপাল্লা বাসের পরিবর্তে শহর ও শহরতলির বাস, পাশাপাশি সরকারি পরিবহন পুলের যানবাহন রিকুইজিশন করতে পারে। এভাবে ভোটারদের চলাচল সহজ হবে এবং রিকুইজিশনের ফলে সৃষ্ট অপ্রয়োজনীয় কষ্ট কমবে।
এই দাবিগুলো নির্বাচনের আগে সরকারের নীতি ও কার্যক্রমের প্রতি জনসাধারণের নজর বাড়িয়ে তুলেছে। রিকুইজিশন সংক্রান্ত বিতর্ক যদি সমাধান না হয়, তবে তা ভোটারদের অংশগ্রহণের হার এবং নির্বাচনী পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সমিতি এখন সরকারকে দ্রুত একটি স্পষ্ট নীতি ও ক্ষতিপূরণ পরিকল্পনা উপস্থাপন করার আহ্বান জানাচ্ছে। যদি সরকার এই অনুরোধে সাড়া না দেয়, তবে সমিতি আইনি বা প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণের সম্ভাবনা প্রকাশ করেছে, যাতে রিকুইজিশনের ফলে সৃষ্ট অস্বস্তি দূর করা যায়।



