সিরাজগঞ্জের বিসিক শিল্প পার্কে শনিবার বিকেলে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী সমাবেশে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান সরকার গঠন হলে দেশের হ্যান্ডলুম পণ্যকে বিশ্ববাজারে রপ্তানি করার লক্ষ্য ঘোষণা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, সিরাজগঞ্জ‑পাবনা অঞ্চল হ্যান্ডলুম, লুঙ্গি ও রঙের ঐতিহ্যবাহী শিল্পের কেন্দ্র, যেখানে বহু পরিবার এই শিল্পে যুক্ত।
তারেক রহমান বলেন, হ্যান্ডলুম শিল্পের জন্য সুস্পষ্ট পরিকল্পনা গৃহীত হলে উৎপাদিত পণ্যকে ইনশাআল্লাহ সারা বিশ্বে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। তিনি এই লক্ষ্যকে পার্টির ভবিষ্যৎ কর্মসূচির অংশ হিসেবে তুলে ধরেন এবং বলছেন, আগামী দিনে সিরাজগঞ্জ‑পাবনা থেকে রপ্তানি করা পণ্য দেশের অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
সমাবেশে তিনি প্রতিপক্ষের সমালোচনা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। “প্রতিপক্ষের কথা বললেও তা জনগণের কোনো উপকারে আসবে না,” তিনি মন্তব্য করেন এবং জোর দেন, জনগণ এখন এমন একটি রাজনৈতিক দল চায়, যা দেশের উন্নয়ন ও জনগণের মঙ্গলের জন্য বাস্তব পরিকল্পনা উপস্থাপন করবে।
তারেক রহমানের মতে, সিরাজগঞ্জ ও পাবনা অঞ্চলে এখনো অনেক কাজ বাকি আছে, যা সম্পন্ন হলে স্থানীয় মানুষের জীবনের মানোন্নয়ন হবে। তিনি উল্লেখ করেন, শিল্প পার্ক, কৃষি‑নির্ভর শিল্প ও ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটের স্থাপনই এই অঞ্চলের বেকারত্ব কমানোর মূল চাবিকাঠি।
বিএনপি চেয়ারম্যান নতুন শিল্প পার্কের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, কৃষি ও পরিবারিক কার্ডের মাধ্যমে নারী ও কৃষকদের সহায়তা বাড়িয়ে তাদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করা হবে।
সমাবেশের সূচনা করা হয় বিকেল তিনটায় কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে, যা উপস্থিত জনগণের মনোযোগ আকর্ষণ করে। তারেক রহমান বগুড়া থেকে সাড়ে তিনটায় পৌঁছে সমাবেশে অংশ নেন এবং উপস্থিত ভক্তদের সঙ্গে সংলাপ চালিয়ে যান।
তিনি অতীতের সংগ্রাম ও স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের কথা স্মরণ করে বলেন, “আমাদের নেতাকর্মী ও দেশের মানুষ নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছে, স্বৈরাচারকে পরাজিত করেছে।” এখন সময় এসেছে, তিনি যোগ করেন, “দেশ গড়তে সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে।”
তারেক রহমানের বক্তব্যের মধ্যে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রভাবের ইঙ্গিতও রয়েছে। তিনি ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানান, যা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে।
বিএনপি নেতার এই পরিকল্পনা ও আহ্বানকে বিরোধী দলগুলো প্রশ্নবিদ্ধ করেছে, যদিও তারা সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, হ্যান্ডলুম শিল্পের রপ্তানি পরিকল্পনা যদি বাস্তবায়িত হয়, তবে এটি গ্রামীণ অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।
সিরাজগঞ্জ‑পাবনা অঞ্চলের হ্যান্ডলুম শিল্পের ঐতিহ্য ও সম্ভাবনা সম্পর্কে তারেক রহমানের মন্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, তিনি এই শিল্পকে আধুনিকীকরণ ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের জন্য নীতি নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তা জোর দিয়ে বলছেন।
সমাবেশে উপস্থিত ভক্তদের সঙ্গে আলাপের সময় তিনি স্থানীয় উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, সড়ক ও বিদ্যুৎ সরবরাহের উন্নতি উল্লেখ করেন। তিনি আশ্বাস দেন, নতুন শিল্প পার্কের সঙ্গে সঙ্গে এইসব মৌলিক সেবা নিশ্চিত করা হবে।
বিএনপি চেয়ারম্যানের এই ঘোষণার পর, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও হ্যান্ডলুম কারিগররা আশাবাদী দৃষ্টিতে ভবিষ্যৎ দেখছেন। তারা আশা করছেন, সরকার গঠনের পর রপ্তানি নীতি ও আর্থিক সহায়তা তাদের পণ্যকে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে দেবে।
সারসংক্ষেপে, তারেক রহমানের বক্তৃতা হ্যান্ডলুম শিল্পের রপ্তানি, নতুন শিল্প পার্কের স্থাপন, বেকারত্ব সমাধান ও নারীর অর্থনৈতিক অংশগ্রহণের প্রতিশ্রুতি নিয়ে গঠিত। তিনি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের তুলনায় বাস্তব পরিকল্পনার ওপর জোর দিয়ে, দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য সমন্বিত পদক্ষেপের আহ্বান জানান।
এই সমাবেশের পরবর্তী ধাপ হিসেবে, বিএনপি দল রাষ্ট্রীয় নীতি প্রণয়ন ও নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণে মনোযোগ দেবে, যাতে ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের মাধ্যমে স্বৈরাচার বিরোধী শক্তি শক্তিশালী করা যায় এবং হ্যান্ডলুম শিল্পের রপ্তানি লক্ষ্য অর্জন করা যায়।



