কুষ্টিয়া জেলার খোকসা থানা গোপন তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার রাত আটটায় রেলস্টেশনের পশ্চিম পাশে অবস্থিত একটি বাড়িতে অভিযান চালায়। অভিযান শেষে ককটেল তৈরির সরঞ্জাম ও তাজা তিনটি ককটেল উদ্ধার করে দুইজন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশের মতে, রেললাইনের পাশে ফারুকের বাড়িতে যুবকরা ককটেল প্রস্তুত করছিল। ঘাঁটি ধ্বংসের সময় কোনো ক্ষতি না ঘটলেও, তৎকালীন সময়ে উপস্থিত কর্মকর্তারা দ্রুত স্থানটি সুরক্ষিত করে লাল টেপসহ অন্যান্য উপকরণ জব্দ করে।
গ্রেফতারকৃত দুইজনের মধ্যে ৩৫ বছর বয়সী হাসান, বরইচারা রঘুনাথপুর গ্রাম থেকে, ওসমানের পুত্র, এবং ৪০ বছর বয়সী রাজীব, রাজনাথপুর গ্রাম থেকে, শাহজাহানের পুত্র। উভয়কে স্থানীয়ভাবে ককটেল তৈরির কারিগর হিসেবে চেনা যায়।
তাদের কাছ থেকে সদ্য প্রস্তুত করা তিনটি ককটেল, ককটেল তৈরির লাল টেপ, গ্যাস সিলিন্ডার, মিক্সিং পাত্র এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি উদ্ধার করা হয়। জব্দকৃত সামগ্রীগুলো বিশ্লেষণের জন্য ফরেনসিক ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে।
খোকসা থানার অফিসার ইনচার্জ মোতালেব হোসেন জানান, গোপন সূত্রের ভিত্তিতে পরিচালিত এই অভিযানটি নির্বাচনের আগে নাশকতার উদ্দেশ্যে ককটেল তৈরি করা হতে পারে বলে প্রাথমিক ধারণা তৈরি হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই ধরনের পদার্থের ব্যবহার নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে পারে, তাই দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি চলাকালীন সময়ে এমন ধরনের সন্ত্রাসী কার্যকলাপের সম্ভাবনা নিয়ে নিরাপত্তা দপ্তর সতর্কতা প্রকাশ করেছে। হোসেনের মতে, গ্রেফতারকৃত দুজনের ককটেল তৈরির পদ্ধতি ও লক্ষ্য সম্পর্কে আরও তদন্ত চলছে।
হাসান ও রাজীবের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে একাধিক অপরাধমূলক মামলা দায়ের হয়েছে। তাদের পূর্বের রেকর্ডে সন্ত্রাসী সংযোগ, অবৈধ অস্ত্রধারী এবং গ্যাং সংশ্লিষ্ট অপরাধ অন্তর্ভুক্ত। বর্তমানে এই দুইজনকে অপরাধ অনুসন্ধানী আদালতে হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।
অধিক তদন্তের অংশ হিসেবে, গ্রেফতারকৃতদের বাড়ি ও আশেপাশের এলাকায় অতিরিক্ত অনুসন্ধান চালানো হবে। এছাড়া, ককটেল তৈরিতে ব্যবহৃত কাঁচামাল ও সরবরাহ চেইন চিহ্নিত করার জন্য বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুসারে, পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপের ফলে সম্ভাব্য সন্ত্রাসী পরিকল্পনা রোধ করা সম্ভব হয়েছে। তবে হোসেন জোর দিয়ে বলেন, নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে সতর্কতা বজায় রাখতে হবে এবং কোনো সন্দেহজনক কার্যকলাপের ক্ষেত্রে তৎক্ষণাৎ হস্তক্ষেপ করতে হবে।



