কমলায় চৌদ্দগ্রাম উপজেলা, হেজি হাবিবুল্লাহ সরকারী পাইলট হাই স্কুল মাঠে আজ সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে জামায়াত‑ই‑ইসলামির আমীর শফিকুর রহমান একটি বৃহৎ র্যালি পরিচালনা করেন। তিনি উপস্থিত ভিড়কে দুর্নীতি ও জবরদস্তি নির্মূলের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে, এ ধরণের কাজের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
শফিকুর রহমান র্যালিতে উল্লেখ করেন, যারা দুর্নীতি ও জবরদস্তিতে লিপ্ত, তারা শেষ পর্যন্ত তাদের কাজের ফল ভোগ করবে। তিনি অতীতের দমনকে স্মরণ করে, “আপনাদেরও একসময় দমন করা হয়েছিল; এখন কেন দমনকারী হয়ে গেছেন?” বলে সতর্ক করেন এবং জনগণকে আরও কষ্ট না দিতে আহ্বান জানান।
এই সমাবেশের মূল উদ্দেশ্য ছিল চৌদ্দগ্রাম (কমলা‑১১) আসনের ১১‑দলীয় জোটের প্রার্থী সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহেরকে সমর্থন জানানো। র্যালিতে উপস্থিতদেরকে প্রার্থীর প্রতি আস্থা জোগাতে এবং ভোটের মাধ্যমে জোটের লক্ষ্য অর্জনে উৎসাহিত করা হয়।
শফিকুর রহমান ভোটারদেরকে আশ্বাস দেন, যদি জোট সরকারে আসতে পারে, তবে সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহেরকে মন্ত্রিপরিষদের উচ্চপদে নিয়োগ করা হবে। তিনি এই প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, “আপনাদের ভোটই আমাদেরকে ক্ষমতা এনে দেবে, আর আমরা তা দেশের উন্নয়নের জন্য ব্যবহার করব।” এভাবে তিনি চৌদ্দগ্রামের মানুষকে সুযোগটি কাজে লাগাতে আহ্বান জানান।
র্যালিতে তিনি ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কেও কথা বলেন। জোটের নীতি হল প্রতিটি দল তাদের নিজস্ব প্রতীক নিয়ে প্রতিযোগিতা করবে, তবে নির্বাচনী কমিশন যে প্রতীক বরাদ্দ করবে, তা সকলের জন্য একত্রে ব্যবহার করা হবে। শফিকুর এই বক্তব্যে জোটের ঐক্যবদ্ধতা ও স্বতন্ত্রতা উভয়ই জোর দিয়ে বলা হয়েছে।
অধিকন্তু, শফিকুর রহমান জোটের শাসনকালে ‘ঐক্য সরকার’ গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, “যদি আমরা জয়ী হই, তবে আমরা সকলকে, এমনকি আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বীকে, দেশের উন্নয়নে অংশ নিতে আমন্ত্রণ জানাব।” এভাবে তিনি বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে সহযোগিতার সম্ভাবনা উন্মুক্ত করেন।
র্যালিতে অন্যান্য বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রার্থী সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের, ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির সমন্বয়কারী সাহিদুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের আমীর মামুনুল হক। তাদের বক্তব্যে জোটের লক্ষ্য, ন্যায়বিচার ও জনগণের কল্যাণের ওপর জোর দেওয়া হয়।
এই র্যালি চৌদ্দগ্রামের ভোটারদের মধ্যে জোটের সমর্থন বাড়াতে এবং ১৩তম সংসদ নির্বাচনে জোটের অবস্থান শক্তিশালী করতে পরিকল্পিত। বিশেষ করে কমলা‑১১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী পার্টিগুলোর সঙ্গে তীব্র প্রতিযোগিতা প্রত্যাশিত, এবং শফিকুরের আহ্বান ভোটারদের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, শফিকুর রহমানের র্যালি দুর্নীতি ও জবরদস্তি নির্মূলের প্রতিশ্রুতি, জোটের ঐক্যবদ্ধ প্রতীক ব্যবহারের নীতি এবং ভবিষ্যৎ সরকার গঠনের পরিকল্পনা তুলে ধরেছে। র্যালির মাধ্যমে জোটের নেতৃত্বের দৃঢ়তা ও ভোটারদের কাছে তাদের বার্তা পৌঁছানোর প্রচেষ্টা স্পষ্ট হয়েছে।



