আন্তর্জাতিক ফিল্ম ফেস্টিভাল রটারড্যাম (IFFR) গত শুক্রবার ডাচ বন্দর শহরে শরণার্থী পরিচালকদের জন্য গঠিত ডিসপ্লেসমেন্ট ফিল্ম ফান্ডের প্রথম পাঁচটি শর্টফিল্মের বিশ্বপ্রদর্শনী আয়োজন করে। এই ফান্ডটি গত বছর ক্যাট ব্ল্যাঙ্কেট এবং IFFR‑এর হিউবার্ট বালস ফান্ডের সমন্বয়ে চালু হয়, যার লক্ষ্য শরণাপন্ন চলচ্চিত্র নির্মাতাদের প্রত্যেককে €১০০,০০০ (প্রায় $১২০,০০০) অনুদান প্রদান করা।
ফান্ডের অধীনে নির্বাচিত পাঁচজন পরিচালক হলেন ইরানের মোহাম্মদ রাসুলফ, ইউক্রেনের মেরিনা এর গর্বাচ, আফগানিস্তানের শাহরবনু সাদাত, সোমালিয়া‑অস্ট্রিয়ার মো হরাওয়ে এবং সিরিয়ার হাসান কাট্টান। প্রত্যেকের কাজের শিরোনাম ও থিম ভিন্ন, তবে সকলেই স্থানচ্যুতি, আশ্রয় এবং বেঁচে থাকার সংগ্রামকে কেন্দ্র করে তৈরি।
ইরানির রূপকথা‑সদৃশ শৈলীতে নির্মিত “দ্য সিড অফ দ্য স্যাক্রেড ফিগ” (The Seed of the Sacred Fig) রাসুলফের দৃষ্টিকোণ থেকে মানবিক মূল্যবোধের পুনর্নির্মাণকে তুলে ধরে। ইউক্রেনের মেরিনা এর গর্বাচের “ক্লন্ডাইক” (Klondike) দেশের যুদ্ধ‑পরবর্তী পুনর্গঠনকে চিত্রিত করে, যেখানে শরণার্থীদের জীবনের নতুন সূচনা দেখা যায়।
আফগানিস্তানের শারবনু সাদাতের “দ্য ভিলেজ নেক্সট টু পারাডাইস” (The Village Next to Paradise) গৃহযুদ্ধের ধ্বংসাবশেষের মধ্যে মানবিক সম্পর্কের পুনর্গঠনকে অনুসন্ধান করে। তিনি বর্তমানে জার্মানিতে বসবাস করছেন এবং আগামী মাসে বার্লিন ফিল্ম ফেস্টিভালে তার কাজের প্রিমিয়ার হবে।
সোমালিয়া‑অস্ট্রিয়ার মো হরাওয়ের “দ্য ভিলেজ নেক্সট টু পারাডাইস” (The Village Next to Paradise) শরণার্থীদের দৈনন্দিন জীবনের সূক্ষ্ম দিকগুলোকে উন্মোচন করে, যেখানে স্বপ্ন ও বাস্তবতার টানাপোড়েন স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। তার কাজের মাধ্যমে তিনি শরণার্থীদের মানবিক পরিচয়কে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছেন।
সিরিয়ার হাসান কাট্টানের ৪০ মিনিটের “অ্যালাইস ইন এক্সাইল” (Allies in Exile) গ্রেইন মিডিয়া প্রযোজনা কোম্পানির সমর্থনে তৈরি, যেখানে তিনি এবং তার দীর্ঘদিনের বন্ধু ফাদি আল‑হালাবি একসাথে শরণার্থীর হোটেলে বসে বেঁচে থাকার নতুন রূপকে ক্যামেরার মাধ্যমে ধারণ করেন। চলচ্চিত্রটি তাদের যুদ্ধ‑ময় অতীতের সঙ্গে বর্তমানের বর্ণনা যুক্ত করে, যেখানে বোমার বদলে ব্যুরোক্রেসি, অপেক্ষা এবং শরণার্থীর প্রতি বাড়তে থাকা বৈরিতা প্রধান থিম। এই কাজটি দেখায় কীভাবে ক্যামেরা কেবল শিল্প নয়, বরং বেঁচে থাকার একটি উপায় হয়ে ওঠে।
কাট্টান ও হরাওয়ে দুজনই রটারড্যামের প্রেস কনফারেন্সে তাদের চলচ্চিত্রের প্রেরণা ও ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গি শেয়ার করেন। তারা উল্লেখ করেন, শরণার্থীর জীবনে চলচ্চিত্র নির্মাণ একটি থেরাপি, যা ব্যক্তিগত ও সামাজিক আঘাতকে সান্ত্বনা দেয় এবং একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক দর্শকের কাছে শরণার্থীর বাস্তবতা পৌঁছে দেয়।
ডিসপ্লেসমেন্ট ফিল্ম ফান্ডের এই উদ্যোগের মাধ্যমে শরণার্থীদের সৃষ্টিশীল ক্ষমতা স্বীকৃতি পায় এবং তাদের গল্পগুলোকে বৈশ্বিক মঞ্চে উপস্থাপন করার সুযোগ তৈরি হয়। রটারড্যামের এই প্রদর্শনী কেবল শিল্পের উদযাপন নয়, বরং মানবিক সহানুভূতি ও আন্তর্জাতিক সমর্থনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। শরণার্থীদের জন্য সিনেমা এখন বেঁচে থাকার একটি অস্ত্র, যা তাদের অভিজ্ঞতা, আশা ও স্বপ্নকে দৃশ্যমান করে।
এই পাঁচটি শর্টফিল্মের প্রিমিয়ার রটারড্যামের দর্শকদের জন্য একটি নতুন দৃষ্টিকোণ উন্মোচন করেছে, যেখানে যুদ্ধ‑পরবর্তী জীবনের জটিলতা, আশ্রয়ের অনিশ্চয়তা এবং সৃজনশীলতা একসাথে মিলিত হয়েছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের ফান্ডের মাধ্যমে আরও বেশি শরণার্থী পরিচালককে সমর্থন দেওয়া হবে বলে আশা করা যায়, যাতে তাদের কণ্ঠস্বর বিশ্বমঞ্চে শোনা যায় এবং মানবিক ন্যায়বিচারকে এগিয়ে নেওয়া যায়।



