মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর শুক্রবার পেন্টাগন থেকে জানানো তথ্যের ভিত্তিতে সৌদি আরবকে প্যাট্রিয়ট এডভান্সড ক্যাপাবিলিটি‑৩ (PAC‑3) মিসাইল সেগমেন্ট এনহ্যান্সমেন্ট এবং সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম বিক্রির সম্ভাব্য চুক্তি অনুমোদন করেছে। এই অনুমোদন ডিফেন্স সিকিউরিটি কো‑অপারেশন এজেন্সি (DSCA) প্রকাশ করেছে এবং চুক্তির মোট মূল্য প্রায় ৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হিসেবে অনুমান করা হয়েছে।
অনুমোদিত বিক্রয় প্যাকেটের মধ্যে উন্নত সমন্বিত আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (IAMD) এর অংশ হিসেবে আধুনিক প্যাট্রিয়ট এডভান্সড মিসাইল সরবরাহ অন্তর্ভুক্ত। এই সিস্টেমগুলো সৌদি আরবকে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ হুমকির মোকাবিলায় সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্যাকেটের মূল উপাদানগুলোতে PAC‑3 মিসাইলের উন্নত সেগমেন্ট, রাডার ও কমান্ড‑কন্ট্রোল সরঞ্জাম, এবং প্রশিক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ সেবা অন্তর্ভুক্ত। এই প্রযুক্তিগত আপগ্রেড সৌদির আকাশ প্রতিরক্ষা জালকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে এবং দীর্ঘপরিসরের লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসে সক্ষমতা বাড়াবে।
একজন কূটনৈতিক বিশ্লেষক উল্লেখ করেছেন, এই চুক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা কাঠামোকে পুনর্গঠন করার বৃহত্তর কৌশলের অংশ, যেখানে সৌদি আরবকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার মূল অংশীদার হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। একই সঙ্গে, প্যাকেটের বাস্তবায়ন সৌদির বিদ্যমান সিস্টেমের সঙ্গে সমন্বয় সাধন করে সামগ্রিক প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ককে একীভূত করবে।
চুক্তির প্রধান ঠিকাদার হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস রাজ্যের লকহিড মার্টিন কর্পোরেশন নিযুক্ত হয়েছে। লকহিড মার্টিনের উৎপাদন সুবিধা থেকে সরবরাহিত মিসাইল ও সংশ্লিষ্ট সিস্টেমগুলো আন্তর্জাতিক মানের গুণগত মান বজায় রেখে সরবরাহ করা হবে।
এই বিক্রয় অনুমোদনকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহযোগিতা নীতি এবং সৌদি আরবের কৌশলগত অংশীদারিত্বের ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দু’দেশের মধ্যে নিরাপত্তা ও জ্বালানি ক্ষেত্রে বহু চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে, যা উভয় পক্ষের আঞ্চলিক প্রভাবকে শক্তিশালী করেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিবেশে প্যাট্রিয়ট এডভান্সড মিসাইলের সংযোজন সৌদির আকাশ রক্ষা ক্ষমতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবে, যা ইরানসহ অন্যান্য প্রতিবেশী দেশের সামরিক পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষত, আধুনিক মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেমের উপস্থিতি আঞ্চলিক উত্তেজনা হ্রাসের পাশাপাশি প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে কাজ করবে।
চুক্তির চূড়ান্ত বাস্তবায়নের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের অনুমোদন এবং সংশ্লিষ্ট রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের অনুমোদন প্রয়োজন। অনুমোদন প্রাপ্তির পর সরবরাহের সময়সূচি নির্ধারিত হবে, যা সাধারণত কয়েক মাসের মধ্যে শুরু হয় এবং বহু বছর ধরে রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রশিক্ষণ সেবা অন্তর্ভুক্ত থাকে।
সারসংক্ষেপে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই বিক্রয় অনুমোদন সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়িয়ে আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোকে পুনর্গঠন করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের উচ্চপ্রযুক্তি অস্ত্রের স্থানীয়করণ এবং প্রশিক্ষণ প্রোগ্রামগুলো উভয় দেশের কূটনৈতিক ও সামরিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করবে।



