25 C
Dhaka
Saturday, January 31, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিমুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় ১২ 'জুলাই যোদ্ধা' গেজেট বাতিল

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় ১২ ‘জুলাই যোদ্ধা’ গেজেট বাতিল

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্প্রতি ১২ জনকে ‘জুলাই যোদ্ধা’ গেজেটের তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে, যা গত বছর ১২৮ জনের গেজেট বাতিলের পর আরেকটি উল্লেখযোগ্য সংশোধন। গেজেট বাতিলের সিদ্ধান্ত সরকারী প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জানানো হয় এবং একই সঙ্গে গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর ধারা ১১(৪) এবং রুলস অব বিজনেস ১৯৯৬-এর শিডিউল‑১ অনুযায়ী প্রদত্ত ক্ষমতায় এই গেজেট বাতিল করা হয়েছে। এই আইনি ভিত্তি বাতিলের বৈধতা নিশ্চিত করে এবং সংশ্লিষ্ট বিধানগুলোর প্রয়োগকে স্পষ্ট করে।

বাতিল হওয়া তালিকায় দিনাজপুর ও চাঁদপুর জেলার মোট বারোজনের নাম রয়েছে। দিনাজপুরের পাঁচজন হলেন তাসফিয়াহ রিফা, মো. আসাদুজ্জামান নূর, মো. সুরুজ মিয়া, মোছা কহিনুর এবং মোছা সখিনা। চাঁদপুরের সাতজনের মধ্যে রয়েছে মো. কামরুল হাসান রাব্বি, মো. রায়হান, মো. ইউছুব আলী, নাহিদুল ইসলাম রাতুল, শাহজালাল, এবং মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন।

প্রজ্ঞাপনে এই বারোজনের গেজেট বাতিলের কারণ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি, তবে মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা যায় যে, তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সময় মিথ্যা তথ্য প্রদান করা হয়েছে বলে তাদের বাদ দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের পেছনে তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের কঠোরতা এবং গেজেটের স্বচ্ছতা বজায় রাখার ইচ্ছা রয়েছে।

গত বছরও একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল, যখন ১২৮ জনের গেজেট বাতিল করা হয়েছিল কারণ তারা মিথ্যা তথ্য দিয়ে গেজেটভুক্ত হয়েছিল। সেই সময়ের এই পদক্ষেপের পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমান বাতিলকরণকে ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা যায়, যা গেজেটের মানদণ্ডকে কঠোর করে তুলছে।

বাতিলকৃত ব্যক্তিদের মধ্যে বেশিরভাগই স্থানীয় স্তরে স্বীকৃত ছিলেন এবং তাদের নামের মাধ্যমে কিছু সামাজিক সুবিধা পেতেন। গেজেটের বাতিলের ফলে তারা আর ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে সরকারী স্বীকৃতি পাবে না, যা ভবিষ্যতে পেনশন, ভাতা এবং পুনর্বাসন সুবিধা প্রাপ্তিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

মন্ত্রণালয় গেজেটের তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও তথ্য সংগ্রহ করে যাচাই করে। এই যাচাই প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম বা তথ্যের অসঙ্গতি পাওয়া গেলে গেজেট থেকে বাদ দেওয়া হয়, যা বর্তমানে ঘটিত বাতিলকরণের মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন যে, গেজেটের স্বচ্ছতা ও নির্ভুলতা নিশ্চিত করা দেশের মুক্তিযুদ্ধের বীরদের মর্যাদা রক্ষার জন্য অপরিহার্য। গেজেটের তালিকায় মিথ্যা তথ্যের প্রবেশ রোধ করা ভবিষ্যতে অনুরূপ সমস্যার পুনরাবৃত্তি রোধে সহায়ক হবে।

বাতিলকরণে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকেরাও অংশগ্রহণ করেছেন, কারণ গেজেটের তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য স্থানীয় স্তরে তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। দিনাজপুর ও চাঁদপুর জেলার প্রশাসনিক দপ্তরগুলো এই প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করেছে বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

এই পদক্ষেপের ফলে গেজেটের তালিকায় আরও শুদ্ধতা আসবে এবং ভবিষ্যতে নতুন ‘জুলাই যোদ্ধা’দের স্বীকৃতি প্রদানেও একই কঠোর মানদণ্ড প্রয়োগ করা হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

গেজেটের বাতিলকরণে প্রভাবিত ব্যক্তিরা আইনগতভাবে আপিলের সুযোগ পেতে পারেন, তবে মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে তাদের তথ্যের সত্যতা নিয়ে যথাযথ তদন্ত সম্পন্ন করেছে বলে জানিয়েছে। আপিলের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আইনি ধারা ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

সামগ্রিকভাবে, গেজেটের এই সংশোধন মুক্তিযুদ্ধের বীরদের স্বীকৃতিতে স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার বজায় রাখার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয় ভবিষ্যতে গেজেটের তালিকা আপডেটের জন্য নিয়মিত পর্যালোচনা চালিয়ে যাবে এবং তথ্যের সঠিকতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments