মঙ্গলবার সকাল ১১ টা ৩০ মিনিটে মিরপুর জাতীয় সুইমিং কমপ্লেক্সের অস্থায়ী ক্যাম্পে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ঢাকা সেক্টর কমান্ডার কর্নেল এস এম আবুল এহসান নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নতুন পরিকল্পনা জানালেন। তিনি উল্লেখ করেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের পূর্বে দেশব্যাপী ৩৭ হাজারেরও বেশি বিজিবি কর্মী মোতায়েন করা হবে এবং কোনো লেথাল ওয়েপন ব্যবহার করা হবে না।
কর্নেল এহসান জানান, দেশের ৪,৪২৭ কিলোমিটার সীমান্ত সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রেখে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ নির্বাচনের সময় সারা দেশে বিশাল সংখ্যক কর্মী অবস্থান করবে। এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হল নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সম্ভাব্য হিংসাত্মক ঘটনার প্রতিরোধ করা।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ৪৯৫টি উপজেলার মধ্যে ৪৮৯টি উপজেলায় নিরাপত্তা দায়িত্ব গ্রহণ করবে। সীমান্তবর্তী ৬১টি উপজেলায় বিজিবি এককভাবে নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবে, যা সীমান্তে সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলায় বিশেষ গুরুত্ব দেয়।
ঝুঁকি বিশ্লেষণের ভিত্তিতে, দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনে মোবাইল ও স্ট্যাটিক ফোর্স হিসেবে বিজিবি কর্মী উপস্থিত থাকবে। এই ফোর্সগুলো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে সক্ষম হবে এবং নির্বাচনের স্বচ্ছতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রতিটি উপজেলায় ২ থেকে ৪ প্লাটুন বিজিবি কর্মী মোতায়েনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই সংখ্যার মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাবে এবং ভোটারদের চলাচল স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ হবে।
নির্বাচনকালীন জরুরি অবস্থা মোকাবিলার জন্য বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ র্যাপিড অ্যাকশন টিম (আরএটি) এবং কুইক রেসপন্স ফোর্স (কিউআরএফ) প্রস্তুত রয়েছে। উভয় টিমের সঙ্গে হেলিকপ্টারও যুক্ত থাকবে, যা প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর সক্ষমতা প্রদান করবে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে বিশেষায়িত কে-৯ ডগ স্কোয়াড ইউনিটও মোতায়েন করা হবে। প্রশিক্ষিত কুকুরগুলো সীমান্তে অবৈধ প্রবেশ ও সন্দেহজনক বস্তু সনাক্তকরণে সহায়তা করবে, যা নির্বাচনের নিরাপত্তা স্তরকে উচ্চতর করবে।
সাক্ষাৎকারে সাংবাদিকদের নির্বাচনের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো উদ্বেগ আছে কিনা জিজ্ঞাসা করলে কর্নেল এহসান স্পষ্ট করে বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের শঙ্কা তিনি দেখেন না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিজিবি মহাপরিচালকের নির্দেশ অনুসারে আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে কোনো লেথাল ওয়েপন ব্যবহার করা হবে না।
বিপক্ষের কিছু রাজনৈতিক দলও নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে প্রশ্ন তুলেছিল। তারা বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকায় সম্ভাব্য হিংসা ও গুলিবিদ্ধের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ তাদের উদ্বেগের উত্তর দিয়ে নিশ্চিত করেছে যে, যথাযথ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মী ও আধুনিক সরঞ্জাম দিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, এই ব্যাপক মোতায়েন নির্বাচন প্রক্রিয়াকে শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সহায়তা করবে এবং ভোটারদের অংশগ্রহণে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ায় রাজনৈতিক দলগুলোও তাদের প্রচারণা চালাতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবে, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বাড়াবে।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ নির্বাচনের সময় নিরাপত্তা বজায় রাখতে যে পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করেছে, তা দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হবে। লেথাল ওয়েপন না ব্যবহার করার স্পষ্ট নির্দেশনা এবং আধুনিক রেসপন্স ইউনিটের উপস্থিতি ভোটার ও রাজনৈতিক দল উভয়েরই আশ্বাস দেবে যে, নির্বাচন প্রক্রিয়া নির্ভয়ে এবং স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হবে।



