ইসলামিক মুভমেন্ট বাংলাদেশের আমির সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম গত শুক্রবার রাতের নরসিংদি সদর উপজেলার ঢাকা‑সিলেট মহাসড়ক‑সংলগ্ন পুলিশ লাইনস এলাকায় অনুষ্ঠিত নির্বাচনী সভায় জামায়াত-এ-ইসলামির গোপন কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলে কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, দলটি জনসমক্ষে এক রকম কথা বলে, আর গোপনে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে বৈঠক করে।
রেজাউল করীমের মতে, জামায়াত-এ-ইসলামি ভারতের সঙ্গে গোপন আলোচনায় লিপ্ত হয়েছে, যা তিনি “গোপন বৈঠকের কারণ কী” প্রশ্নের মাধ্যমে প্রকাশ করেন। তিনি এ বিষয়ে জোর দিয়ে বলেন, গোপন বৈঠকের মধ্যে “ডাল মে কুচ কালো হে” – অর্থাৎ অন্ধকারে লুকিয়ে থাকা স্বার্থপরতা।
বক্তা উল্লেখ করেন, বিএনপি‑জামায়াত-এ-ইসলামি জোট ক্ষমতায় আসার পর জনগণের চাহিদা ও লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “এখন আর ধোঁকায় ফেলা যাবে না, মানুষ বোকা নয়।”
রেজাউল করীম ৫ আগস্টের গণ‑অভ্যুত্থানকে স্মরণ করে, ঐ ঐতিহাসিক মুহূর্তের পর দেশের পুনর্গঠন ও ইসলামের শক্তিশালীকরণে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশের কথা বলেন। তিনি যুক্তি দেন, “সুন্দর দেশ গড়ে ইসলামকে শক্তিশালী করা, মানবতা রক্ষা করা আমাদের লক্ষ্য।”
ইসলামিক মুভমেন্টের নেতৃত্বে সমঝোতা না করে এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্তের পেছনে নীতি‑অবস্থানগত মতবিরোধ রয়েছে। রেজাউল করীম বলেন, “সমঝোতার নেতৃত্ব ও নীতিগত অবস্থান নিয়ে মতবিরোধের কারণে আমরা একা লড়াই করব।”
বক্তা জামায়াত-এ-ইসলামির “ইসলামের বাক্স” ধারণাকে সমালোচনা করে, বর্তমান প্রচলিত আইনে দেশ পরিচালনার দাবি তুলে ধরেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ে তোলার দাবি কি ৫৪ বছর পরই বাস্তবায়িত হয়েছে?” এবং এটিকে “সম্পূর্ণ ধোঁকা” বলে উল্লেখ করেন।
রেজাউল করীম ভোটারদের আহ্বান জানান, “যারা দেশ ও ইসলামকে ভালোবাসেন, তারা একত্রে ভোট দিয়ে পরিবর্তন আনতে পারেন।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, “এখন আর চুপ থাকার সময় নেই।”
সভায় ইসলামিক মুভমেন্টের নরসিংদি‑১ আসনের প্রার্থী ও জেলা সভাপতি আশরাফ হোসেনের সভাপতিত্বে আলোচনা চালানো হয়। নরসিংদি‑২ আসনের প্রার্থী ছাইফুল্লাহ, নরসিংদি‑৩ আসনের প্রার্থী ওয়ায়েজ হোসেন ভূঁইয়া এবং নরসিংদি‑৫ আসনের প্রার্থী বদরুজ্জামানসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সাময়িকভাবে জামায়াত-এ-ইসলামি পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য বা ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। রেজাউল করীমের মন্তব্যের পর দলটির প্রতিনিধিদের কাছ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, রেজাউল করীমের এই প্রকাশনা এবং এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত আগামী নির্বাচনে ইসলামিক মুভমেন্টের ভোটভিত্তি ও জোট গঠনের সম্ভাবনাকে প্রভাবিত করতে পারে। বিশেষ করে নরসিংদি জেলায় এই রকম সরাসরি সমালোচনা স্থানীয় ভোটারদের মনোভাব গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অধিকন্তু, রেজাউল করীমের যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের সঙ্গে গোপন বৈঠকের অভিযোগ দেশের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের আলোচনায় নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ করতে পারে। যদি এই অভিযোগগুলো বাস্তবায়িত হয়, তবে তা জামায়াত-এ-ইসলামির রাজনৈতিক অবস্থানকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, রেজাউল করীমের বক্তব্য নরসিংদি নির্বাচনী পরিবেশে তীব্রতা যোগ করেছে এবং ইসলামিক মুভমেন্টের ভবিষ্যৎ কৌশল ও জোট গঠনের দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ সূচক হয়ে দাঁড়াবে।



