ইজরায়েলি সরকার অক্টোবর ৭, ২০২৩-এ হামাসের আক্রমণের পর একটি নতুন মৃত্যুদণ্ড আইন প্রণয়নের প্রচেষ্টায় মুখোমুখি, যেখানে লক্ষ্য হল ইজরায়েলি আদালতে ফাঁসির অপরাধে দোষী ঘোষিত প্যালেস্টাইনি নাগরিকদের জন্য শাস্তি পুনরায় চালু করা।
ইতিহাসে ইজরায়েলি সরকার মাত্র দু’বার মৃত্যুদণ্ড ব্যবহার করেছে; সর্বশেষটি ছিল ছয় দশকেরও বেশি আগে, যখন নাজি যুদ্ধাপরাধী অ্যাডলফ আইখম্যানকে ফাঁসি দেওয়া হয়।
অক্টোবর ২০২৩-এ হামাসের আক্রমণ ইজরায়েলকে তার সর্বোচ্চ মৃত্যুহারযুক্ত দিন হিসেবে চিহ্নিত করে, ফলে রাজনৈতিক শীর্ষে একটি তীব্র চাপ তৈরি হয়, যাতে ফাঁসির শাস্তি পুনরায় চালু করা যায় বলে দাবি করা হয়।
সাংসদ ও জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির ডানপন্থী চেয়ার জভিকা ফোগেল বলেন, “এটি আমাদের প্রতিরক্ষার প্রাচীরের আরেকটি ইট। মৃত্যুদণ্ড আনা সবচেয়ে নৈতিক, সবচেয়ে ইহুদি এবং সবচেয়ে মানবিক পদক্ষেপ।” তার এই মন্তব্য আইনটির নৈতিকতা ও জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত করার প্রচেষ্টা প্রকাশ করে।
মানবাধিকার সংস্থা গোষ্ঠী এই প্রস্তাবকে ইজরায়েলি ইতিহাসের অন্যতম কঠোর আইনগত উদ্যোগ হিসেবে চিহ্নিত করে এবং এটিকে “জাতিগতভাবে বৈষম্যমূলক শাস্তি” বলে সমালোচনা করে, কারণ এটি শুধুমাত্র প্যালেস্টাইনি নাগরিকদের ওপর প্রয়োগের জন্য নকশা করা হয়েছে।
ইজরায়েলি সংসদে রাব্বি, ডাক্তার, আইনজীবী ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে তীব্র শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে; যেখানে উভয় পাশে তীব্র যুক্তি ও আবেগময় বক্তব্য শোনা গেছে।
আক্রমণে প্রাণ হারানো পরিবারগুলোও এই আলোচনায় উপস্থিত হয়েছে; কিছু পরিবার শাস্তি পুনরায় চালু করার পক্ষে যুক্তি দেয়, আবার অন্যরা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিরোধিতা করে।
ডা. ভ্যালেন্টিনা গুসাক, যিনি নিজের মেয়ের মৃত্যুর পর শোকাহত, তিনি বলেন, “আইনের মাত্র ১০ থেকে ২০ শতাংশই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে, বাকি অংশটি প্রতিরোধ ও নিরুৎসাহের উদ্দেশ্যে।” তার বক্তব্য আইনটির দ্বৈত উদ্দেশ্যকে তুলে ধরে।
গুসাক তার ২১ বছর বয়সী মেয়ে মার্গারিটা ও প্রেমিক সাইমন ভিগডারগাউসের ছবি তুলে ধরেন; তারা ২০২৩ সালে নোভা সঙ্গীত উৎসব থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় গুলিতে নিহত হয়। মার্গারিটা চিকিৎসা শিখতে চেয়েছিলেন, যা তার পরিবারের জন্য বড় ক্ষতি ছিল।
ডা. গুসাক মৃত্যুদণ্ডকে “প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা” হিসেবে ব্যাখ্যা করেন এবং এটিকে “পরবর্তী হত্যার বিরুদ্ধে টিকাদান” বলে উল্লেখ করেন, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি উপায় হিসেবে তিনি দেখেন।
বিলটি এখন সংসদে তীব্র বিতর্কের মধ্যে রয়েছে; সমর্থকরা এটিকে জাতীয় নিরাপত্তার জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে উপস্থাপন করেন, আর বিরোধীরা এটিকে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও জাতিগত বৈষম্যের উদাহরণ হিসেবে দেখেন।
ইজরায়েলি সরকারের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা এই আইনটির গৃহীত হওয়া বা না হওয়ার ওপর নির্ভর করবে, যা দেশের অভ্যন্তরীণ বিভাজনকে আরও তীব্র করতে পারে এবং আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখোমুখি হতে পারে।



