বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন (বিএসসি) নতুন জাহাজ ‘বাংলার নবযাত্রা’কে তার নৌবহরে অন্তর্ভুক্ত করেছে। চীনের জিংজিয়াং নানয়াং শিপইয়ার্ডে বৃহস্পতিবার জাহাজটি বিএসসির প্রতিনিধিদের হস্তান্তর করা হয়। এই অনুষ্ঠানে বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক উপস্থিত ছিলেন এবং তিনি রোববার থেকে বাণিজ্যিক যাত্রা শুরু হওয়ার কথা জানিয়েছেন।
‘বাংলার নবযাত্রা’তে বর্তমানে ২৪ জন ক্রু কর্মরত। জাহাজটি আধুনিক প্রযুক্তি সমৃদ্ধ এবং ২০ বছর পর্যন্ত সেবা দেওয়ার জন্য নকশা করা হয়েছে। এর চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিএসসির মোট জাহাজের সংখ্যা সাতটি হয়ে দাঁড়ায়, যা গত বছর ২৭ অক্টোবর যুক্ত হওয়া ‘বাংলার প্রগতি’ জাহাজের পরিপূরক।
বিএসসি গত বছর প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের মাধ্যমে দুইটি নতুন জাহাজের ক্রয় প্রক্রিয়া শুরু করে। নিজস্ব তহবিল ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের হেলেনিক ড্রাই বাল্ক ভেঞ্চারস এলএলসি কোম্পানি থেকে চীন থেকে সরবরাহের চুক্তি সম্পন্ন হয়। উভয় জাহাজই চীনের শিপইয়ার্ডে নির্মিত এবং আধুনিক নকশা ও ইঞ্জিনের সমন্বয়ে গঠিত।
দুইটি জাহাজের মোট ক্রয়মূল্য ৭ কোটি ৬৬ লাখ ৯৮ হাজার ডলার, যা বর্তমান বিনিময় হারে প্রায় ৯৩৫ কোটি টাকার সমান। বিএসসি এই বিনিয়োগের মাধ্যমে বার্ষিক প্রায় ১৫০ কোটি টাকার আয় অর্জনের লক্ষ্য স্থির করেছে। জাহাজগুলো সম্পূর্ণ স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে চালু হওয়ায় অতিরিক্ত লোডিং ও আনলোডিং খরচ কমে, ফলে লাভের মার্জিন বাড়বে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, আন্তর্জাতিক বাল্ক কার্গো বাজারে চাহিদা স্থিতিশীল থাকায় নতুন জাহাজের যোগদান বিএসসির শিপিং ক্ষমতা বাড়াবে। বিশেষ করে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় রুটে কাঁচামাল ও পণ্যের পরিবহন বৃদ্ধি পেলে বিএসসির শিপিং ফি বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া, নতুন জাহাজের আধুনিক ইঞ্জিন ও জ্বালানি দক্ষতা পরিবেশগত মানদণ্ড পূরণে সহায়তা করবে, যা আন্তর্জাতিক চুক্তিতে সুবিধা এনে দিতে পারে।
তবে কিছু ঝুঁকিও রয়েছে। জাহাজের সেবা জীবনের শেষের দিকে রক্ষণাবেক্ষণ খরচ বাড়তে পারে, এবং জ্বালানি দামের ওঠানামা আয়কে প্রভাবিত করতে পারে। এছাড়া, বৈশ্বিক বাণিজ্যিক অস্থিরতা বা শুল্ক নীতি পরিবর্তন হলে লোডিং ভলিউম কমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় বিএসসির উচিত দীর্ঘমেয়াদী রক্ষণাবেক্ষণ পরিকল্পনা এবং জ্বালানি হেজিং কৌশল গ্রহণ করা।
‘বাংলার নবযাত্রা’র বাণিজ্যিক যাত্রা শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিএসসির আয়-ব্যয় কাঠামোতে ইতিবাচক পরিবর্তন প্রত্যাশিত। নতুন জাহাজের যোগদান শিপিং শিল্পে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান শক্তিশালী করবে এবং দেশের বাণিজ্যিক নৌবহরের আধুনিকায়নে অবদান রাখবে।
বিএসসি ইতিমধ্যে জাহাজের চালু হওয়ার পর প্রথম ত্রৈমাসিকে প্রাথমিক আয় লক্ষ্য অর্জনের জন্য রুট পরিকল্পনা তৈরি করেছে। প্রধান রুটগুলোতে কাঁচামাল, গৃহস্থালী পণ্য এবং রপ্তানি পণ্যের পরিবহন অন্তর্ভুক্ত থাকবে, যা দেশের বাণিজ্যিক চাহিদা পূরণে সহায়তা করবে।
সংক্ষেপে, ‘বাংলার নবযাত্রা’ বিএসসির বহরে যুক্ত হওয়া শুধু জাহাজের সংখ্যা বাড়ায় না, বরং কোম্পানির আয় সম্ভাবনা ও বাজার অবস্থানকে দৃঢ় করে। দীর্ঘমেয়াদে সেবা জীবনের ধারাবাহিকতা ও রক্ষণাবেক্ষণ পরিকল্পনা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হলে এই বিনিয়োগের রিটার্ন আরও বাড়বে।



