শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি, পে স্কেলের দাবি নিয়ে আন্দোলনরত সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা “বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি” নামে একটি নতুন সংগঠন গঠন করে। এই সংগঠনটি সরকারী, আধা-সরকারী ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মীদের কল্যাণ ও অধিকার রক্ষার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত। সমিতির গঠন প্রক্রিয়া একটি বিশেষ আলোচনাসভা শেষে সম্পন্ন হয়, যেখানে ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ও কাঠামো নির্ধারিত হয়।
আলোচনাসভায় সমিতির কেন্দ্রীয় আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। আহবায়ক হিসেবে মো. আব্দুল মালেককে প্রধান নির্বাচিত করা হয়, আর সদস্য সচিব হিসেবে আশিকুল ইসলাম নিযুক্ত হন। মোট ৩১ জন সদস্যের এই কমিটি সমিতির নীতি, কাঠামো ও কার্যক্রমের তত্ত্বাবধান করবে।
সমিতির মূল উদ্দেশ্য হল সরকারি কর্মীদের যৌক্তিক দাবি বাস্তবায়ন, তাদের কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং অধিকার সংরক্ষণ করা। পে স্কেল সংশোধন, বেতন বৃদ্ধি ও কর্মপরিবেশের উন্নতি এসবের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। সংগঠনটি নিজেকে সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক ও কল্যাণমুখী হিসেবে উপস্থাপন করেছে, যাতে কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ না থাকে।
সভার সময়ে সংগঠনের কাঠামো প্রণয়ন, সদস্য অন্তর্ভুক্তি প্রক্রিয়া ও কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণের বিষয়ে বিশদ আলোচনা হয়। সদস্যদের যোগদানের মানদণ্ড, অধিকার ও দায়িত্ব স্পষ্ট করা হয়, যাতে সংগঠনটি স্বচ্ছ ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে পরিচালিত হয়। এছাড়া, সমিতির কার্যক্রমের জন্য একটি সুস্পষ্ট সময়সূচি ও লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়।
কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনের পর, সমিতি তার কার্যক্রমের তত্ত্বাবধানের জন্য উপকমিটি গঠন করবে। এই উপকমিটিগুলি কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, সদস্য নিবন্ধন, আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও যোগাযোগের দায়িত্বে থাকবে। সমিতি দাবি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত করবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় সাধন করবে।
সমিতির সদস্য অন্তর্ভুক্তি প্রক্রিয়া স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হবে; সকল সরকারি কর্মী, আধা-সরকারী কর্মী ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীকে সমান সুযোগ দেওয়া হবে। সদস্যপদ গ্রহণের জন্য আবেদনপত্র, কর্মস্থল ও পদবী সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ করা হবে এবং তা যাচাইয়ের পরই অনুমোদন প্রদান করা হবে। এই পদ্ধতি সংগঠনের অন্তর্ভুক্তি ও প্রতিনিধিত্বের ন্যায়সঙ্গততা নিশ্চিত করবে।
কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণে সমিতি স্বল্পমেয়াদী ও দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। স্বল্পমেয়াদে পে স্কেল সংশোধনের জন্য প্রাথমিক দাবি উপস্থাপন, সরকারী নীতি বিশ্লেষণ ও কর্মীদের সচেতনতা বৃদ্ধি করা হবে। দীর্ঘমেয়াদে কল্যাণমূলক প্রকল্প, স্বাস্থ্য ও বীমা সুবিধা, প্রশিক্ষণ ও ক্যারিয়ার উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।
সমিতি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে যে, এটি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নয় এবং কোনো রাজনৈতিক এজেন্ডা অনুসরণ করবে না। এই অরাজনৈতিক অবস্থান বজায় রাখতে সমিতি তার সকল কার্যক্রমে স্বতন্ত্রতা বজায় রাখবে এবং কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেবে।
প্রাথমিকভাবে, কিছু সরকারি কর্মকর্তার মধ্যে সমিতির গঠনের প্রতি ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে, কারণ এটি তাদের যৌক্তিক দাবি উপস্থাপনের একটি বৈধ প্ল্যাটফর্ম প্রদান করে। তবে, কিছু বিশ্লেষক ও নীতিনির্ধারক সমিতির সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে সতর্কতা প্রকাশ করেছেন, বিশেষ করে পে স্কেল নিয়ে চলমান আলোচনা ও বাজেট প্রক্রিয়ায় এর ভূমিকা।
বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করছেন, সমিতির অরাজনৈতিক স্বভাব এবং বৃহৎ সদস্যসংখ্যা সরকারকে চাপ দিতে পারে, ফলে পে স্কেল সংশোধনের আলোচনায় দ্রুততা আসতে পারে। অন্যদিকে, সরকারী দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, এমন একটি সংগঠনের উদ্ভব কর্মীদের দাবি সংগঠিত করার নতুন পথ তৈরি করতে পারে, যা নীতি নির্ধারণে অতিরিক্ত জটিলতা যোগ করতে পারে।
আসন্ন সপ্তাহগুলোতে সমিতি তার প্রথম কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করবে এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগীয় প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক নির্ধারণের পরিকল্পনা করেছে। পে স্কেল সংশোধনের জন্য প্রস্তাবিত রূপরেখা ও বাস্তবায়ন কৌশল নিয়ে আলোচনা হবে, যা সরকারী বাজেটের অংশ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। সমিতি দাবি করে যে, সকল সরকারি কর্মীর কল্যাণ নিশ্চিত করা জাতীয় উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য, এবং এই লক্ষ্য অর্জনে অরাজনৈতিক পদ্ধতি অবলম্বন করা হবে।
সমিতির গঠন ও পরিকল্পনা সরকারী কর্মীদের স্বার্থ রক্ষার নতুন দিক উন্মোচন করেছে, যা ভবিষ্যতে পে স্কেল ও কল্যাণ নীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। এই প্রক্রিয়া কীভাবে বিকাশ পাবে এবং সরকার কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে, তা দেশের প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক পরিবেশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



