হিমাচল প্রদেশের মানালি শহরে ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখে অভিনেতা সানী দোল ও পরিচালক রাজকুমার সান্তোষি একত্রে দেখা করেন। সানী দোল সম্প্রতি “বর্ডার ২” ছবির বক্স অফিস সাফল্যের পর মানালিতে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন এবং ইনস্টাগ্রামে তার আনন্দময় মুহূর্তগুলো শেয়ার করছিলেন।
সানী দোলের ইনস্টাগ্রাম পোস্টে দেখা যায় তিনি হিমালয়ের শীতল বাতাসে রিল্যাক্সড অবস্থায় আছেন, যা তার ভক্তদের কাছ থেকে প্রশংসা পেয়েছে। একই সময়ে, বলিউড হাঙ্গামা জানায় যে রাজকুমার সান্তোষি মানালিতে পৌঁছেছেন, যেখানে তিনি সানী দোলের সঙ্গে “ঘাতক ২” প্রকল্পের স্ক্রিপ্ট নিয়ে আলোচনা করবেন।
সান্তোষি মানালিতে পৌঁছানোর মূল উদ্দেশ্য ছিল সানী দোলকে নতুন গল্পের ধারণা উপস্থাপন করা। তিনি জানিয়েছেন যে “ঘাতক” ছবির ১৯৯৬ সালের মূল সংস্করণে অর্জিত সাফল্যকে ভিত্তি করে একটি সিক্যুয়েল তৈরি করা যেতে পারে। স্ক্রিপ্টের মূল বিষয়বস্তু সানী দোলকে উপস্থাপন করা হয় এবং তিনি তা শোনার পর আগ্রহ প্রকাশ করেন।
সানী দোল স্ক্রিপ্ট শোনার পর তার প্রতিক্রিয়া ইতিবাচক হলেও তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন যে পূর্বের হিট ছবিগুলোর সিক্যুয়েল স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রহণ করবেন না। “গাদার ২” ও “বর্ডার ২” এর বাণিজ্যিক সাফল্যকে ভিত্তি করে কোনো ক্লাসিকের সিক্যুয়েল তৈরি করা হলে দর্শকদের বিশ্বাসঘাতকতা হবে, এ কথায় তিনি দৃঢ় অবস্থান নেন।
রাজকুমার সান্তোষি সানীর এই দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে একমত, তিনি উল্লেখ করেন যে গল্পের গুণমান ও দর্শকের স্বীকৃতি ছাড়া সিক্যুয়েল তৈরি করা উচিত নয়। দুজনের মধ্যে এই মতবিনিময় ভবিষ্যতে প্রকল্পের অগ্রগতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সানী দোল ও রাজকুমার সান্তোষি পূর্বে তিনটি বড় হিট ছবিতে একসঙ্গে কাজ করেছেন। ১৯৯০ সালে “ঘায়াল”, ১৯৯৩ সালে “দামিনি” এবং ১৯৯৬ সালে “ঘাতক” ছবিগুলো উভয়ের ক্যারিয়ারের মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত। এই তিনটি ছবিই আজও দর্শকের স্মৃতিতে তাজা।
বর্তমানে সানী দোলের পরবর্তী বড় প্রকল্প “লাহোর ১৯৪৭”। এই ছবির পরিচালনা আবার রাজকুমার সান্তোষি করছেন এবং প্রযোজক হিসেবে সালমান খান যুক্ত আছেন। ছবিটি ঐতিহাসিক পটভূমিতে নির্মিত হওয়ায় উভয়ের জন্যই নতুন চ্যালেঞ্জের সূচনা।
অধিকন্তু, বলিউড হাঙ্গামা জানিয়েছে যে সান্তোষি “জাত ২” প্রকল্পে অঙ্গীকারবদ্ধ। “জাত” (২০২৫) ছবিতে সানী দোল প্রধান ভূমিকায় ছিলেন এবং সিক্যুয়েলটি একই থিমে তৈরি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই তথ্যগুলো শিল্পের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা জাগিয়ে তুলেছে।
প্রকল্পের সময়সূচি ও অন্যান্য শর্তাবলী এখনও চূড়ান্ত হয়নি, তবে সানী দোল ও সান্তোষি উভয়ই যথাযথ সময়ে সিদ্ধান্ত নেবার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। উভয়ের কাজের গতি ও বাজারের চাহিদা বিবেচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারিত হবে।
সানী দোলের মানালি সফর এবং সান্তোষির উপস্থিতি চলচ্চিত্র জগতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। উভয়ের মধ্যে আলোচনা শেষ হলে “ঘাতক ২” প্রকল্পটি বাস্তবে রূপ নেবে কিনা তা সময়ই বলবে।
শিল্পের ভক্ত ও বিশ্লেষকরা এই মিটিংকে নজরে রাখছেন, কারণ এটি সানী দোলের ক্যারিয়ারের নতুন দিক নির্দেশ করতে পারে। ভবিষ্যতে কোন প্রকল্পে দুজনের সহযোগিতা হবে, তা চলচ্চিত্রপ্রেমীদের জন্য উত্তেজনা বাড়িয়ে দিচ্ছে।



