রিয়াল মাদ্রিদে কিলিয়ান এমবাপ্পের গোলের পরিমাণ এবং সামগ্রিক পারফরম্যান্সের বিশদ পর্যালোচনা আজ প্রকাশিত হয়েছে। ২০২১ সালের কোপা আমেরিকা জয়ের আগে আর্জেন্টিনার মেসি একা কী করবেন—এই প্রশ্ন সামাজিক মাধ্যমে ঘুরে বেড়াত, আর এখন রিয়াল মাদ্রিদে এমবাপ্পের জন্য একই রকম উদ্বেগ দেখা দিচ্ছে।
চ্যাম্পিয়নস লিগের বেনফিকা বিরোধী গত রাতের ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদ ৪-২ হারে পরাজিত হয়। সেই ম্যাচে এমবাপ্পে সর্বোচ্চ শট (৪টি) এবং ড্রিবল (৪টি) করেন, এবং আক্রমণাত্মক তৃতীয়াংশে সর্বোচ্চ ২২টি পাস দিলেন। গুলেরের ছয়টি সুযোগের পরে এমবাপ্পে তিনটি গোলের সুযোগ তৈরি করেন এবং নিজে একটি গোলের মাধ্যমে স্কোরে অবদান রাখেন।
মৌসুম জুড়ে এমবাপ্পের পারফরম্যান্সকে পরিসংখ্যানিকভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, রিয়াল মাদ্রিদের ৩৩টি ম্যাচে মোট ৭৫টি গোলের মধ্যে এমবাপ্পে একাই ২৯টি ম্যাচে ৩৬টি গোল করেছেন। অন্য কোনো খেলোয়াড়ের গোলের সংখ্যা দ্বি অংকে পৌঁছাতে পারেনি; দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভিনিসিয়ুসের গোল ৭টি, আর জুড বেলিংহামের গোল ৬টি।
লা লিগে এই মৌসুমে এমবাপ্পে সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে ২০টি ম্যাচে ২১টি গোলের রেকর্ড বজায় রেখেছেন। তার পরের স্থান দখল করেছেন ভিনিসিয়ুস, যিনি ২১টি ম্যাচে ৫টি গোল করেছেন এবং সব দলের মধ্যে মোট গোলের সংখ্যা অনুযায়ী ২৩তম স্থানে রয়েছেন। এই পার্থক্য রিয়াল মাদ্রিদের আক্রমণাত্মক নির্ভরতা স্পষ্ট করে।
চ্যাম্পিয়নস লিগে এমবাপ্পের পারফরম্যান্সও অনন্য। তিনি ৭টি ম্যাচে ১৩টি গোলের মাধ্যমে টুর্নামেন্টের শীর্ষ স্কোরার। বেলিংহাম এই তালিকায় ২টি গোল নিয়ে ৫৪তম স্থানে রয়েছেন, যা দেখায় এমবাপ্পের তুলনায় অন্য খেলোয়াড়দের অবদান সীমিত।
রিয়াল মাদ্রিদের কোচ স্কালোনি এই পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে দলের কৌশল পুনর্বিবেচনা করছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, দলটি এমবাপ্পের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা কমিয়ে অন্যান্য আক্রমণাত্মক বিকল্প তৈরি করা প্রয়োজন। যদিও স্কালোনি চার ঘণ্টা আগে বিশ্বকাপের দল নির্বাচন নিয়ে মন্তব্য করেননি, তবে তার বর্তমান পরিকল্পনা রিয়াল মাদ্রিদের আক্রমণকে বৈচিত্র্যময় করার দিকে ইঙ্গিত দেয়।
লিগের শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার সঙ্গে রিয়াল মাদ্রিদের পয়েন্টের পার্থক্য মাত্র এক পয়েন্টে সীমাবদ্ধ। এই সূক্ষ্ম পার্থক্য দলকে পরবর্তী ম্যাচে জোরালো জয় নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত প্রচেষ্টা করতে বাধ্য করছে।
রিয়াল মাদ্রিদের পরবর্তী চ্যাম্পিয়নস লিগ ম্যাচটি বেনফিকার পরবর্তী রাউন্ডে নির্ধারিত, যেখানে দলটি এমবাপ্পের নেতৃত্বে আক্রমণাত্মক রণনীতি বজায় রাখবে। লা লিগের পরবর্তী প্রতিপক্ষের সঙ্গে ম্যাচে ভিনিসিয়ুসের ভূমিকা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
সামগ্রিকভাবে দেখা যায়, রিয়াল মাদ্রিদের গোলের অধিকাংশই এমবাপ্পের কাছ থেকে আসছে, যা দলের আক্রমণাত্মক ভারসাম্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। অন্যান্য খেলোয়াড়দের গোলের সংখ্যা দ্বি অংকে না পৌঁছানো দলীয় আক্রমণকে একক খেলোয়াড়ের ওপর নির্ভরশীল করে তুলেছে।
এই পরিস্থিতি রিয়াল মাদ্রিদের ভবিষ্যৎ কৌশলগত পরিকল্পনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সংকেত প্রদান করে। স্কালোনি এবং তার সহকর্মীরা এখনো দলীয় প্রশিক্ষণ এবং ট্যাকটিক্যাল পরিবর্তনের মাধ্যমে অন্যান্য আক্রমণাত্মক বিকল্প উন্মোচনের চেষ্টা করছেন।
রিয়াল মাদ্রিদের ভক্তরা এমবাপ্পের গোলের ধারাবাহিকতা নিয়ে উচ্ছ্বসিত হলেও, দীর্ঘমেয়াদে দলকে একাধিক হুমকি তৈরি করতে হবে। লা লিগ এবং ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় রিয়াল মাদ্রিদকে শীর্ষে রাখতে এই বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
শেষে, রিয়াল মাদ্রিদের বর্তমান পরিসংখ্যান এবং এমবাপ্পের অবদান স্পষ্টভাবে দলীয় নির্ভরশীলতা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তা উন্মোচন করে। দলটি শীঘ্রই এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নতুন কৌশল প্রয়োগের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।



