আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF) গতকাল প্রকাশিত বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে যে, বাংলাদেশে দুর্বল ব্যাংকগুলোকে কোনো গ্যারান্টি ছাড়া তরলতা সরবরাহ করা উচিত নয় এবং মুদ্রা বিনিময় নীতির সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন জরুরি।
বিবৃতি প্রকাশের পূর্বে তহবিলের নির্বাহী বোর্ড বাংলাদেশে আর্টিকেল IV পরামর্শ সম্পন্ন করে, যা $5.5 বিলিয়ন ঋণের শর্তাবলীর অগ্রগতি মূল্যায়নের অংশ ছিল।
তহবিলের মতে, আন্তর্জাতিক মানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি দৃঢ় ব্যাংকিং সংস্কার পরিকল্পনা প্রয়োজন, যাতে অপ্রতুল মূলধনের পরিমাণ নির্ধারণ, আর্থিক সহায়তার সীমা নির্ধারণ এবং আইনি ভিত্তিক পুনর্গঠন ও সমাধান প্রক্রিয়া অন্তর্ভুক্ত থাকে।
এছাড়া, সমস্ত সিস্টেমিক ও রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকের সম্পদ গুণমান পর্যালোচনা, ঝুঁকি‑ভিত্তিক তদারকি এবং শাসনব্যবস্থা ও ব্যালান্স শিটের স্বচ্ছতা শক্তিশালী করার সুপারিশ করা হয়েছে।
মুদ্রা রিজার্ভ পুনর্গঠন এবং মুদ্রাস্ফীতি হ্রাসের জন্য কঠোর নীতি মিশ্রণ বজায় রাখা অপরিহার্য বলে তহবিল জোর দিয়েছে।
বিনিময় হার সংস্কারের পূর্ণ ও ধারাবাহিক বাস্তবায়ন, পাশাপাশি মুদ্রা নমনীয়তা বৃদ্ধি, অনিরাপদ তরলতা সমর্থনের বিরুদ্ধে সতর্কতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
মুদ্রা নীতি অবশ্যই মুদ্রাস্ফীতি স্পষ্টভাবে হ্রাসের পথে না আসা পর্যন্ত যথাযথভাবে কঠোর থাকতে হবে, যদিও সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা শিথিলতা দেখা গেছে।
ইতিবাচক দিক থেকে, অক্টোবর মাসে শিরোনাম মুদ্রাস্ফীতি ৮.২ শতাংশে নেমে এসেছে, যা আর্থিক বছরের শুরুর দ্বি‑সংখ্যা স্তর থেকে হ্রাস পেয়েছে। তবু, তহবিলের পূর্বাভাসে FY26-এ মুদ্রাস্ফীতি ৮.৯ শতাংশে থাকবে এবং FY27-এ প্রায় ৬ শতাংশে নামবে বলে অনুমান করা হয়েছে।
তবে, নীতি দেরি বা অপর্যাপ্ত পদক্ষেপ, বিনিময় হার সংস্কারের প্রত্যাহার এবং আর্থিক শৃঙ্খলা লঙ্ঘন হলে দৃষ্টিভঙ্গি নিম্নমুখী ঝুঁকির মুখে পড়বে।
বিস্তৃতভাবে, দুর্বল কর সংগ্রহ এবং আর্থিক খাতের সংবেদনশীলতা দেশের সামগ্রিক মাক্রো‑ফাইন্যান্সিয়াল চ্যালেঞ্জকে বাড়িয়ে তুলছে।
সারসংক্ষেপে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বাংলাদেশকে ব্যাংকিং খাতের সংস্কার, মুদ্রা নীতি কঠোরতা এবং বিনিময় হার সংস্কারের পূর্ণ বাস্তবায়নে দৃঢ়ভাবে অনুরোধ করেছে, যাতে আর্থিক স্থিতিশীলতা এবং টেকসই বৃদ্ধির পথে অগ্রসর হওয়া যায়।



