চট্টগ্রাম জেলার আনোয়ারার রশত ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিমচাল গ্রামে গতকাল বিকেলে দুই শিশুর দরজা আটকে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তিন বছর ও দেড় বছর বয়সের দুই মেয়ে ঘরের ভিতরে খেলতে গিয়ে দরজা বন্ধ করে ফেলেছিল এবং নিজে খুলতে না পারায় কান্না শুরু করে। মা‑বাবা ও আশেপাশের লোকজনের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় শেষ পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের দল হস্তক্ষেপ করে দরজা কেটে শিশুরা উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার সময় শিশুর মা‑বাবা ঘরের বাইরে কাজ করছিলেন। তারা কাজ শেষ করে ফিরে আসার আগে দুই সন্তান ঘরের ভিতরে খেলতে গিয়েছিল। খেলাধুলার সময় দরজা বন্ধ হয়ে গিয়ে শিশুরা ভিতরে আটকে যায়। দরজা খুলতে না পারায় শিশুরা কান্না করতে থাকে এবং আশেপাশের মানুষদের ডাকে, তবে দরজা সুরক্ষিতভাবে বন্ধ থাকায় কোনো উপায় না পায়।
মা‑বাবা এবং প্রতিবেশীরা দরজা খুলতে চেষ্টার পরেও ব্যর্থ হন। শিশুরা ক্রমশ বেশি কাঁদতে থাকে, ফলে আশেপাশের লোকজনের উদ্বেগ বাড়ে। শেষ পর্যন্ত স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে ফায়ার সার্ভিসকে ডাকা হয়।
ফায়ার সার্ভিসের দল ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর দ্রুত পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে। দলটি জানে যে দরজা কাটা ছাড়া শিশুরা নিরাপদে বের করা সম্ভব নয়, তাই সরঞ্জাম ব্যবহার করে দরজা কেটে বের করার কাজ শুরু করে। কাজটি প্রায় ২০ মিনিটের মধ্যে সম্পন্ন হয় এবং দুই শিশুকে নিরাপদে মা‑বাবার কোলে ফিরিয়ে আনা হয়।
শিশুর বাবা মো. ইসমাইল বলেন, “আমার দুই মেয়ে ঘরের ভেতরে ঢুকে দরজা আটকে দেয়। চেষ্টা করেও খুলতে পারিনি। পরে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন এসে আমার দুই মেয়েকে উদ্ধার করেছে।” তিনি জানান, ঘটনাটির পর থেকে শিশুরা বারবার কাঁদছে, তবে শারীরিক কোনো ক্ষতি হয়নি।
আনোয়ারা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন লিডার মো. মুজিবুর রহমান জানান, “শিশু আটকে যাওয়ার খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়েছি। ২০ মিনিটের মধ্যে শিশু দুটিকে উদ্ধার করে মা‑বাবার কোলে তুলে দিয়েছি। শিশুরা ভয় পেয়েও শারীরিক ক্ষতি হয়নি।” তিনি অতিরিক্তভাবে উল্লেখ করেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে দরজা ও জানালার নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানো প্রয়োজন।
শিশুরা নিরাপদে বাড়ি ফিরে যাওয়ার পর স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীরা তাদের শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করে নিশ্চিত করেন যে কোনো আঘাত নেই। মা‑বাবা ঘটনাটির শোক প্রকাশের পাশাপাশি ভবিষ্যতে সন্তানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাড়ির



