বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশব্যাপী ৩৭ হাজারেরও অধিক কর্মী মোতায়েনের পরিকল্পনা জানিয়েছে। ভোটারদের নিরাপদ ও স্বচ্ছ পরিবেশে ভোটদান নিশ্চিত করা মূল লক্ষ্য হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তুতি ইতিমধ্যে শুরু হওয়ায় নির্বাচনের দিনগুলোতে দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেওয়ার সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।
বিজিবি সদর দফতরের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৪,৪২৭ কিলোমিটার সীমান্ত সম্পূর্ণভাবে সুরক্ষিত রাখতে অতিরিক্ত কর্মী নিযুক্ত করা হবে। এই সংখ্যা পূর্বের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়ে ৩৭,০০০‑এরও বেশি সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। সীমান্ত রক্ষার পাশাপাশি অভ্যন্তরে নির্বাচনী নিরাপত্তা বজায় রাখতে এই বিশাল মানবসম্পদ ব্যবহার করা হবে।
দেশের ৪৯৫টি উপজেলায় থেকে ৪৮৯টি উপজেলায় বিজিবি নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবে। অবশিষ্ট ছয়টি উপজেলায় অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থা সমন্বয়ে কাজ চালানো হবে। এভাবে অধিকাংশ স্থানীয় স্তরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নির্বাচনকালীন জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য বিজিবি র্যাপিড অ্যাকশন টিম (আরএটি) গঠন করা হয়েছে। আরএটি দ্রুতগতি সম্পন্ন ইউনিট হিসেবে ঘটনার স্থানে তৎক্ষণাৎ পৌঁছাতে সক্ষম হবে। একই সঙ্গে কুইক রেস্পন্স ফোর্স (কিউআরএফ) হেলিকপ্টারসহ মোবাইল ইউনিটের সমন্বয়ে কাজ করবে।
হেলিকপ্টারসহ কিউআরএফের উপস্থিতি জরুরি অবস্থায় দ্রুত পরিবহন ও ত্রাণ কাজকে সহজ করবে। এ ধরনের এভিয়েশন সমর্থন নির্বাচনী এলাকাগুলোর মধ্যে দূরত্ব কমাতে সহায়তা করবে। ফলে ভোটার ও কর্মীদের নিরাপত্তা ঝুঁকি কমে যাবে।
বিজিবি কর্তৃক গৃহীত এই ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভোটারদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। নিরাপদ পরিবেশে ভোটদান নিশ্চিত হলে ভোটার অংশগ্রহণের হারও উন্নত হতে পারে। নির্বাচনের ফলাফলকে প্রভাবিত করা কোনো অনধিকৃত ঘটনার সম্ভাবনা কমে যাবে।
বিপক্ষের কিছু রাজনৈতিক দল নিরাপত্তা ব্যবস্থার ব্যাপকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তারা উল্লেখ করেছে যে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভোটারদের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। তবে সরকারী সূত্রে বলা হয়েছে, সব পদক্ষেপই ভোটারদের স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে নেওয়া হয়েছে।
নির্বাচনের পরবর্তী পর্যায়ে বিজিবি নিরাপত্তা দলগুলো পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাবে এবং প্রয়োজন অনুসারে অতিরিক্ত সহায়তা প্রদান করবে। নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার পরেও জরুরি সেবা চালু থাকবে। এই ধারাবাহিকতা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সার্বিকভাবে, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ যে বিশাল মানব ও যান্ত্রিক সম্পদ মোতায়েন করেছে, তা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সুষ্ঠু পরিচালনা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। নিরাপদ ভোটদান নিশ্চিত করতে এই প্রস্তুতি দেশের নিরাপত্তা কাঠামোর একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে।



