শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) সকাল প্রায় আটটায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি ও চান্দিনা উপজেলার সীমানা পার হয়ে ইলিয়াটগঞ্জ-মুরাদনগর রোডের মাথা এলাকায় একটি বাস সংঘর্ষ ঘটেছে। ঘটনায় এক নারী ও তার পাঁচ বছর বয়সী সন্তান দুজনই প্রাণ হারিয়েছেন, অন্যদিকে একটি ছোট কাভার্ড ভ্যানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সংঘর্ষের সময় স্থানীয় বাস পরিষেবা “পাপিয়া সার্ভিস” নামে একটি গাড়ি কুমিল্লা থেকে চলছিল। গাড়ির ভেতরে অজানা এক নারী তার কন্যা শিশুকে কোলে নিয়ে চড়ে ছিলেন। একই সময়ে, দ্রুতগতিতে নীলাচল নামের আরেকটি বাস পেছন দিক থেকে গাড়ির দিকে এগিয়ে আসে এবং দুজনকে আঘাত করে।
আঘাতের ফলে নারীর মৃত্যু তৎক্ষণাৎ ঘটেছে। শিশুটি গুরুতরভাবে আহত অবস্থায় গাড়ি থেকে বের করা হয় এবং নিকটস্থ একটি স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার পরেও শিশুর অবস্থা খারাপ হয়ে যায়, ফলে তাকে দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্থানান্তর করা হয়, যেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বসের সঙ্গে সংঘর্ষের পর, গাড়িটি সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি মিনি কাভার্ড ভ্যানের সঙ্গে ধাক্কা খায়। ভ্যানের পেছনের অংশ ভেঙে যায়, তবে ভ্যানের ভিতরে কোনো যাত্রী আহত হয়নি বলে জানা যায়।
ইলিয়াটগঞ্জ হাইওয়ে থানার ওসি রুহুল আমিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে গাড়ি ও ক্ষতিগ্রস্ত ভ্যানকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যান। তিনি জানান, গাড়ি ও ভ্যানের মালিকানা, চালকসহ সংশ্লিষ্ট তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে এবং মৃতদের পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
পুলিশের মতে, দুর্ঘটনার মূল কারণ দ্রুতগতিতে চলা নীলাচল বাসের পেছন দিক থেকে আঘাত হওয়া। তবে পুরো ঘটনার তদন্ত চলমান, তাই অতিরিক্ত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চালু রয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ ঘটনায় শোক প্রকাশ করে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে সড়ক নিরাপত্তা বাড়ানোর আহ্বান জানায়। একই সঙ্গে, দুর্ঘটনা সংক্রান্ত সকল নথি ও ভিডিও রেকর্ড সংরক্ষণ করে তদন্তের অগ্রগতি নিশ্চিত করা হবে।
এই দুঃখজনক ঘটনা কুমিল্লা ও চান্দিনা অঞ্চলে রাস্তায় নিরাপদ চলাচলের গুরুত্বকে আবারও তুলে ধরেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ত্বরিত পদক্ষেপ এবং আইনি প্রক্রিয়ার সুষ্ঠু বাস্তবায়ন ঘটনার পরিণতি ন্যায়সঙ্গতভাবে নির্ধারণে সহায়তা করবে।



