বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ২০২৬ সালের জাতীয় দলের কেন্দ্রীয় চুক্তি তালিকা চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। যদিও এখনো কোনো সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়নি, তবে বোর্ডের অভ্যন্তরীণ সূত্র থেকে জানা যায় যে চুক্তির আওতায় থাকা খেলোয়াড়ের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে।
গত বছর ২২ জন খেলোয়াড়ের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছিল, আর এবার সেই সংখ্যা ২৭‑এ পৌঁছাবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হল দলের গঠনকে আরও শক্তিশালী করা এবং দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
বর্ধিত তালিকায় চারজন নতুন মুখের অন্তর্ভুক্তি হবে। সাইফ হাসান, পারভেজ হোসেন ইমন, তানভীর ইসলাম এবং হাসান মুরাদ প্রথমবারের মতো কেন্দ্রীয় চুক্তির আওতায় আসছেন। তাদের যোগদানের ফলে দলীয় বিকল্পের পরিসর উল্লেখযোগ্যভাবে বিস্তৃত হবে।
চুক্তির সংখ্যা বাড়লেও বেতন কাঠামোতে কোনো পরিবর্তন আনা হবে না। অর্থাৎ, নতুন খেলোয়াড়দের বেতন পূর্বনির্ধারিত মানদণ্ডের মধ্যে থাকবে, যা দলের আর্থিক সামঞ্জস্য বজায় রাখবে।
ফরম্যাটভিত্তিক কিছু পরিবর্তনের সম্ভাবনাও উন্মুক্ত রয়েছে। বিশেষ করে, সব ফরম্যাটের চুক্তিতে পেসার তাসকিন আহমেদ অন্তর্ভুক্ত না থাকার বিষয়টি উল্লেখযোগ্য। এই সিদ্ধান্তটি সম্ভবত তার পারফরম্যান্স এবং দলের কৌশলগত চাহিদার ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে।
গত বছরের মতোই, উইকেটকিপার‑ব্যাটার নুরুল হাসান সোহাগ এইবারও কেন্দ্রীয় চুক্তির বাইরে থাকবে। তার অব্যাহতি দলের নির্বাচনী নীতির ধারাবাহিকতা নির্দেশ করে এবং ভবিষ্যতে তার পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে।
বিসিবি এই পদক্ষেপের মাধ্যমে জাতীয় দলের স্কোয়াডের গভীরতা বৃদ্ধি করতে চায়। অধিক সংখ্যক খেলোয়াড়কে আর্থিক নিরাপত্তা প্রদান করা হলে, তাদের পারফরম্যান্সে আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পাবে এবং দলীয় পরিবেশে ইতিবাচক প্রতিযোগিতা গড়ে উঠবে।
বর্ধিত চুক্তি তালিকা দলের অভ্যন্তরে স্বাভাবিক প্রতিযোগিতা ত্বরান্বিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রতিটি খেলোয়াড়ের জন্য নিয়মিত ম্যাচে অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হবে, যা তাদের দক্ষতা উন্নয়নে সহায়ক হবে।
এছাড়া, নতুন খেলোয়াড়দের অন্তর্ভুক্তি দীর্ঘমেয়াদে বিকল্প খেলোয়াড়ের একটি সুদৃঢ় পুল গড়ে তুলবে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স বজায় রাখতে এই পুলের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হবে।
বিসিবি কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন, সবকিছু ঠিকঠাক হলে শীঘ্রই ২০২৬ সালের পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় চুক্তি তালিকা প্রকাশ করা হবে। তালিকাটি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে নির্বাচনী কমিটি তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবহার করতে পারবে।
বিস্তৃত চুক্তি তালিকা দলের প্রস্তুতি এবং আসন্ন সিরিজে খেলোয়াড়ের নির্বাচন প্রক্রিয়াকে সহজতর করবে। কোচিং স্টাফের জন্য এখন আরও বেশি বিকল্প থাকবে, যা কৌশলগত পরিকল্পনা তৈরিতে সহায়ক হবে।
পূর্ববর্তী বছরের মতোই, এই পদক্ষেপটি দলের দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নের অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অতিরিক্ত চুক্তি খেলোয়াড়দের জন্য স্থিতিশীলতা এনে দেবে এবং দেশের ক্রিকেটের সামগ্রিক গুণগত মানকে উন্নত করবে।
সারসংক্ষেপে, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ২০২৬ সালের কেন্দ্রীয় চুক্তি তালিকায় ২৭ জন খেলোয়াড়ের অন্তর্ভুক্তি, নতুন মুখের যোগদান এবং ফরম্যাটভিত্তিক পরিবর্তনের মাধ্যমে দলকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য স্পষ্ট। তালিকাটি শীঘ্রই প্রকাশের অপেক্ষায়, যা দেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



