পোকহারা, নেপাল – আজ সাফের নারী U‑19 চ্যাম্পিয়নশিপের উদ্বোধনী ম্যাচে শিরোপা রক্ষাকারী বাংলাদেশ দল ভুটানের মুখোমুখি হবে। পোকহারা রাঙ্গাসালা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচটি চারটি দলের মধ্যে প্রথম, যেখানে বাংলাদেশকে পূর্বাভাসে প্রিয় দল হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।
২০১৮ সালে সাফের নারী যুব স্তরের প্রতিযোগিতা শুরু হওয়ার পর থেকে বাংলাদেশ ছয়টি সংস্করণে পাঁচবার শিরোপা জিতেছে। তাই এই সপ্তম সংস্করণে তারা পুনরায় শিরোপা রক্ষার জন্য আত্মবিশ্বাসী। দলটি ভুটানের সঙ্গে প্রথম ম্যাচে প্রবেশের আগে পোকহারায় মাত্র এক দিনের প্রশিক্ষণ নিতে পেরেছে, কারণ বেশিরভাগ খেলোয়াড়ই বাংলাদেশ নারী ফুটবল লিগে অংশগ্রহণের পরই এখানে পৌঁছেছে।
ইংরেজ কোচ পিটার বাটলার পরিচালিত দলটি ভুটানের বিরুদ্ধে পূর্বের পাঁচটি মুখোমুখি ম্যাচে কখনো পরাজিত হয়নি এবং প্রতিটি খেলায় চার গোলের বেশি করে স্কোর করেছে। এই রেকর্ডের ভিত্তিতে বাটলার দলের ওপর উচ্চ প্রত্যাশা রাখছেন। তবে তিনি টুর্নামেন্টকে মূলত একটি বিকাশমূলক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দেখছেন, শিরোপা জয়ের চেয়ে তরুণ খেলোয়াড়দের চিহ্নিত করা ও এশিয়ান কাপ ও U‑20 চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য প্রস্তুত করা তার প্রধান লক্ষ্য।
বাটলার টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী সম্মেলনে বলেন, “আমি এখানে শিরোপা জেতার জন্য আসিনি। আমার প্রধান কাজ হল এই তরুণ মেয়েদের পারফরম্যান্স পর্যবেক্ষণ করা, যাতে তারা প্রথম এশিয়ান কাপ U‑20‑এ অংশ নিতে পারে।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমার মূল উদ্দেশ্য হল তাদের মূল্যায়ন করা এবং ভবিষ্যতে AFC U‑20 চ্যাম্পিয়নশিপে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে এমন খেলোয়াড়দের চিহ্নিত করা।”
দলের ক্যাপ্টেন আর্পিতা বিশ্বাস, “প্রশিক্ষণের সময় কম হলেও আমরা নারী ফুটবল লিগে নিয়মিত খেলা চালিয়ে আসছি, তাই আমাদের সমন্বয় ভালো। আমাদের লক্ষ্য হল প্রতিটি ম্যাচ জয় করা এবং ফাইনালে পৌঁছানো।” আর্পিতা দলের অভ্যন্তরীণ সমঝোতা ও লিগের অভিজ্ঞতাকে শক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন, যা তাদের দ্রুত মানিয়ে নিতে সহায়তা করবে।
প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর মধ্যে রয়েছে ভারত ও নেপাল, যারা একই গ্রুপে অংশগ্রহণ করবে। চারটি দলই একে অপরের সঙ্গে একে একে ম্যাচ খেলবে, ফলে গ্রুপ পর্যায়ের ফলাফল নির্ধারণে প্রতিটি ম্যাচের গুরুত্ব বাড়বে।
বাংলাদেশের নারী U‑19 দল ভুটানের বিরুদ্ধে ম্যাচে প্রবেশের আগে শেষ মুহূর্তে কিছুটা উদ্বেগ প্রকাশ করলেও, কোচ ও ক্যাপ্টেনের স্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি ও প্রস্তুতি পরিকল্পনা দলকে আত্মবিশ্বাসী করেছে। বাটলারের দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিভঙ্গি এবং আর্পিতার নেতৃত্বে দলটি শিরোপা রক্ষার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ এশিয়ান টুর্নামেন্টের জন্য মূল খেলোয়াড়দের নির্বাচন করতে চায়।
এই ম্যাচের ফলাফল সাফের নারী U‑19 চ্যাম্পিয়নশিপের সামগ্রিক গতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ভুটানকে পরাজিত করে যদি বাংলাদেশ জয়লাভ করে, তবে তারা গ্রুপের শীর্ষে উঠে পরবর্তী রাউন্ডে অগ্রসর হতে পারবে। অন্যদিকে, ভুটানও পূর্বের রেকর্ড ভাঙতে চায়, যা ম্যাচকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলবে।
সফলতা অর্জনের জন্য বাংলাদেশ দলকে কেবল শারীরিক প্রস্তুতি নয়, মানসিক দৃঢ়তা ও ট্যাকটিক্যাল শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। বাটলারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি খেলোয়াড়ের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে ভবিষ্যৎ আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের জন্য সেরা কনফিগারেশন তৈরি করা হবে।
গ্রুপের শেষ ম্যাচগুলোতে ভারত ও নেপালের পারফরম্যান্সও দৃষ্টির কেন্দ্রে থাকবে, কারণ তাদের ফলাফল সরাসরি বাংলাদেশের ফাইনাল যাত্রাকে প্রভাবিত করবে। সুতরাং, পোকহারার এই চারদলীয় টুর্নামেন্টে প্রতিটি দলই শিরোপা জয়ের স্বপ্নে লিপ্ত, তবে বাংলাদেশ এখনো তার দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
এইভাবে, পোকহারা রাঙ্গাসালা স্টেডিয়ামে শুরু হওয়া সাফের নারী U‑19 চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ দল শিরোপা রক্ষার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ এশিয়ান টুর্নামেন্টের জন্য নতুন প্রতিভা আবিষ্কারের মঞ্চ তৈরি করতে চলেছে।



