ডা. শফিকুর রহমান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’র আমির, শুক্রবার ৩০ জানুয়ারি রাত ৯:৩০ টার দিকে কুমিল্লা নগরীর টাউন হল ময়দানে অনুষ্ঠিত ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনী সমাবেশে বক্তৃতা দেন। তিনি উপস্থিত ভক্তদের সামনে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ, সরকারী নীতি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে বিশদভাবে ব্যাখ্যা করেন।
বক্তৃতার শুরুতে তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সময়ে নতুন ফ্যাসিবাদী প্রবণতা গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে, তবে জুলাইয়ের যোদ্ধারা তা রোধে সক্রিয় থাকবে। তিনি এই প্রচেষ্টাকে দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেন এবং জনগণের অধিকার রক্ষার আহ্বান জানান।
ডা. শফিকুর রহমান স্পষ্ট করে বলেন, ভবিষ্যতে অপরাধে জড়িয়ে যদি কোনো রাজনৈতিক নেতা, এমনকি প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপতি, দোষী প্রমাণিত হন, তবে তাদেরও শাস্তি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোনো উচ্চপদস্থ ব্যক্তি আইন থেকে বিশেষ সুবিধা পাবেন না।
পূর্ববর্তী সরকারের প্রতি তার সমালোচনা তীব্র ছিল; তিনি উল্লেখ করেন, অতীতের সরকার দেশ ও জাতির ওপর প্রতিশোধমূলক রাজনীতি চালিয়েছে। জামায়াতে ইসলামী এই ধরনের নীতি গ্রহণ করবে না এবং তা হারাম বলে গণ্য করে। তার মতে, নীতির ভিত্তিতে পরিচালিত সরকারই দেশের সঠিক পথ।
অধিকন্তু, তিনি বললেন, যারা লংকায় গিয়ে রাবণ হয়ে ওঠে, তাদের সঙ্গে কোনো সমঝোতা নেই; তবে জামায়াতে ইসলামী কথায় অটল থেকে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে। এই বক্তব্যে তিনি দলীয় নীতির প্রতি অটুট বিশ্বাস প্রকাশ করেন।
ডা. শফিকুর রহমানের মতে, জামায়াতে ইসলামী সর্বাধিক দমন ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, অন্য কোনো দলকে কখনো ১ থেকে ১১ পর্যন্ত হত্যা, অফিস বন্ধ, নিবন্ধন জব্দ, নিষেধাজ্ঞা বা নেতার বাড়ি ধ্বংসের মতো শাস্তি দেওয়া হয়নি। শুধুমাত্র তার দলের নেতাদের বাড়ি ভেঙে দেওয়া এবং অন্যান্য আক্রমণ ঘটেছে।
তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী দলের কর্মীরা শীর্ষ স্তরে গুমের শিকার হয়েছে; ১৯৭১ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় শিহরণময় রক্তের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদের অবসান ঘটেছে, তা তিনি উল্লেখ করে দলের ইতিহাসের গৌরবকে পুনর্ব্যক্ত করেন।
ভবিষ্যৎ সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে তিনি বললেন, যদি জামায়াতে ইসলামী সরকার গঠন করে, তবে সমাজ থেকে চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ এবং লুটতরাজের মতো অবৈধ উপাদানগুলোকে সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করা হবে। মিথ্যা মামলা এবং ফ্যাসিবাদী নীতি দিয়ে জনগণের অধিকার হরণ করা বন্ধ হবে।
শেষে, ডা. শফিকুর রহমান আইনশৃঙ্খলা রক্ষার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, অপরাধের জন্য আইনই বিচার করবে এবং কোনো নাগরিককে মামলায় হয়রানির শিকার হতে দেওয়া হবে না। তিনি আশ্বাস দেন, যদি কোনো ব্যক্তি তার ওপর অন্যায় করে, তবে তা আখেরাতের ময়দানে ন্যায়বিচার পাবে।



