24 C
Dhaka
Saturday, January 31, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাবিশ্ব স্বর্ণের দাম দুই দিনে প্রায় ৮০ হাজার টাকা হ্রাস, বাংলাদেশে তোলার...

বিশ্ব স্বর্ণের দাম দুই দিনে প্রায় ৮০ হাজার টাকা হ্রাস, বাংলাদেশে তোলার মূল্যে তীব্র ওঠানামা

বিশ্বব্যাপী স্বর্ণের দাম গত ২৪ ঘন্টার মধ্যে তীব্র পতন দেখেছে; ৩০ জানুয়ারি রাত ২:৩০ টায় স্পট গোল্ডের মূল্য প্রতি আউন্স ৪,৮৯০ ডলারে নেমে আসে, যা একদিনে প্রায় ৮.২২ শতাংশ হ্রাস। পূর্বে একদিন আগে দাম প্রায় ৫,২০০ ডলার এবং বৃহস্পতিবার সকালে সর্বোচ্চ ৫,৫৫০ ডলারের উপরে পৌঁছেছিল, যা ঐতিহাসিক শীর্ষে গিয়েছিল। রেকর্ড স্তরে পৌঁছানোর মাত্র দুই দিনের মধ্যে স্বর্ণের দাম প্রায় ৬৬০ ডলার, অর্থাৎ বাংলাদেশি মুদ্রায় ৮০,৫০০ টাকার বেশি কমেছে।

বিশ্ব বাজারে স্বর্ণের দাম দ্রুত বাড়ার পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো গোষ্ঠীর মধ্যে গ্রিনল্যান্ড সংক্রান্ত উত্তেজনা, ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সামরিক সংঘাত এবং সামগ্রিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা উল্লেখ করা হয়। তবে শীর্ষে পৌঁছানোর পর একই কারণগুলোই বিনিয়োগকারীদের লাভের সুযোগ দেখে দ্রুত বিক্রয় করতে উদ্বুদ্ধ করেছে। একই সঙ্গে ডলারের শক্তিশালী গতি এবং দীর্ঘমেয়াদে সুদের হার উচ্চ থাকার সম্ভাবনা স্বর্ণের মূল্যে চাপ সৃষ্টি করেছে, ফলে স্বাভাবিক মূল্য সংশোধনের সঙ্গে সাম্প্রতিক পতন যুক্ত হয়েছে।

বাংলাদেশের বাজারে এই আন্তর্জাতিক দামের পরিবর্তন দ্রুত প্রতিফলিত হয়েছে। ২৯ জানুয়ারি সকালে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) ভরিপ্রতি স্বর্ণের দাম এক ধাপে ১৬,২১৩ টাকা বাড়িয়ে ২,৮৬,০০০ টাকার শীর্ষে পৌঁছায়, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ স্তর। তবে ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে দাম হ্রাসের ঘোষণা দেয়া হয়। ৩০ জানুয়ারি সকাল ১০:৪৫ টায় ভরিপ্রতি স্বর্ণের দাম সর্বোচ্চ ১৪,৬০০ টাকা কমিয়ে ২,৭১,০০০ টাকায় নেমে আসে। এই হ্রাসের ফলে স্বল্প সময়ের মধ্যে স্বর্ণের দামে উল্লেখযোগ্য ওঠানামা দেখা যায়।

রূপার দামের ক্ষেত্রেও সমন্বয় করা হয়েছে; ২২ ক্যারেটের এক ভরি রূপার মূল্য নতুন করে নির্ধারিত হয়েছে, যদিও নির্দিষ্ট পরিমাণ এখানে উল্লেখ করা হয়নি। স্বর্ণ ও রূপার দামের এই পরিবর্তন স্থানীয় গহনা ব্যবসা, বিনিয়োগকারী এবং সাধারণ ক্রেতাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সংকেত বহন করে, কারণ উভয় ধাতুই ঐতিহ্যগতভাবে নিরাপদ সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হয়।

বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন যে, স্বর্ণের দাম দ্রুত বাড়ার সময়ই বিনিয়োগকারীরা মুনাফা তোলার জন্য বিক্রয় চালিয়ে যায়, ফলে বাজারে অস্থিরতা বাড়ে। ডলার শক্তিশালী হওয়া এবং সুদের হার উচ্চ থাকলে স্বর্ণের চাহিদা হ্রাস পেতে পারে, যদিও ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এখনও স্বর্ণকে নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে রাখে। তাই স্বল্পমেয়াদে দামের ওঠানামা চালু থাকতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদে ডলার ও সুদের হার গতিবিধি মূল দিক নির্ধারণ করবে।

বাংলাদেশের গহনা শিল্প ও রিটেলারদের জন্য এখনই সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি; দাম পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে স্টক ম্যানেজমেন্ট ও মূল্য নির্ধারণে নমনীয়তা বজায় রাখতে হবে। একই সঙ্গে, বিনিয়োগকারীদের জন্য স্বর্ণ ও রূপার পোর্টফোলিওতে ঝুঁকি ও রিটার্নের ভারসাম্য রক্ষা করা প্রয়োজন। ভবিষ্যতে ডলারের গতি, যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রা নীতি এবং আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্বর্ণের দামের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে রয়ে যাবে, তাই বাজারের গতিপথ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা উচিত।

সংক্ষেপে, আন্তর্জাতিক স্বর্ণের দামের তীব্র পতন এবং বাংলাদেশে স্বর্ণের দামের দ্রুত সমন্বয় বাজারের অস্থিরতা প্রকাশ করে। বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে কৌশলগত পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে সম্ভাব্য ঝুঁকি কমিয়ে লাভের সুযোগ সর্বোচ্চ করা যায়।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments