হ্যারি স্টাইলস ২০২৬ সালের জন্য তার “টুগেদার, টুগেদার” ট্যুরের তারিখ প্রকাশের পর ভক্তদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে যে ট্যুরটি মোট সাতটি শহরে সীমাবদ্ধ। যদিও মোট ৬৭টি শো নির্ধারিত হয়েছে, তবে এগুলোর বেশিরভাগই একাধিক রাতের রেসিডেন্সি হিসেবে পরিকল্পিত। লন্ডনে ১২ রাত, আমস্টারডামে ১০ রাত এবং নিউ ইয়র্ক সিটিতে ৩০ রাতের শো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বিকেলে জুন ও জুলাই মাসে লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের মাধ্যমে তিনি এক বছরের মধ্যে একই ভেন্যুতে সর্বোচ্চ শো করার রেকর্ডে পৌঁছাবেন, যা পূর্বে কোল্ডপ্লে ও টেলর সুইফটের অধীনে ছিল। এই রেকর্ডটি তার কনসার্টের স্কেল ও জনপ্রিয়তা নির্দেশ করে, তবে একই সঙ্গে ভক্তদের জন্য আর্থিক চাপ বাড়িয়ে দিয়েছে।
বহু ভক্ত টিকিটের পাশাপাশি হোটেল ও যাতায়াতের খরচে অতিরিক্ত ব্যয় করতে বাধ্য হচ্ছেন। নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের ৪২ বছর বয়সী চেরিল ডায়মন্ড ওয়েম্বলিতে উপস্থিত হতে টিকিটের জন্য £৭১ প্রদান করেছেন, তবে তিনি জানান যে হোটেল ও ভ্রমণের খরচ টিকিটের চেয়ে বেশি হবে। তবু তিনি স্টাইলসের বড় ভক্ত হওয়ায় যেকোনো দিক থেকে খরচ স্বীকার করতে প্রস্তুত।
ইংল্যান্ডের কটসওয়াল্ডস, পোর্টসমাউথ, বার্মিংহাম ও লিডস থেকে আসা ২৭ বছর বয়সী জর্জিয়া প্রিকেট এবং তার বন্ধুরা একই সমস্যার মুখোমুখি। তারা ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে দুইটি শোতে অংশ নিতে পরিকল্পনা করেছে, তবে হোটেল বুকিংয়ের দাম তারিখ প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে বাড়ে বলে তারা কনসার্টের পরই সরাসরি বাড়ি ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জর্জিয়া উল্লেখ করেন যে হোটেল দামের উত্থান তাকে শেষ ট্রেন ধরতে বাধ্য করবে, যদিও এতে তিনি কিছু গান মিস করতে পারেন।
স্টাইলসের পূর্বের “লাভ অন ট্যুর” ২০২০ সালে শুরু হওয়ার কথা ছিল, তবে কোভিড-১৯ মহামারির কারণে তা বিলম্বিত হয়। শেষ পর্যন্ত ট্যুরটি ২০২১ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত ২২ মাস স্থায়ী হয় এবং এতে নিউ ইয়র্কের ম্যাডিসন স্কোয়্যার গার্ডেনে ১৫ রাতের রেসিডেন্সি, ওয়েম্বলিতে ছয় রাতের পারফরম্যান্স এবং কোভেন্ট্রি, এডিনবরা, গ্লাসগো, ম্যানচেস্টার সহ বহু শহরে এক বা দুই রাতের শো অন্তর্ভুক্ত ছিল।
নতুন ট্যুরের পরিকল্পনা পূর্বের ট্যুরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে ভিন্ন। একাধিক শহরে এক-দুই রাতের শো করার পরিবর্তে লন্ডন, আমস্টারডাম ও নিউ ইয়র্কের মতো বড় শহরে দীর্ঘ সময়ের রেসিডেন্সি নির্ধারিত হয়েছে। এই পদ্ধতি শিল্পীর পারফরম্যান্সের গুণগত মান বাড়াতে পারে, তবে ভক্তদের জন্য ভ্রমণ ও থাকার খরচ বাড়িয়ে দেয়।
ভক্তদের মধ্যে এই ট্যুরের আর্থিক দিক নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে, বিশেষ করে যারা দূরবর্তী অঞ্চল থেকে আসছেন। হোটেল ও পরিবহন খরচের বৃদ্ধি টিকিটের মূল্যের তুলনায় বেশি হওয়ায় কিছু ভক্ত কনসার্টের পরে তৎক্ষণাৎ বাড়ি ফেরার পরিকল্পনা করছেন, যদিও এতে তারা পুরো শো উপভোগ করতে পারবেন না।
সারসংক্ষেপে, হ্যারি স্টাইলসের ২০২৬ বিশ্ব ট্যুরের রেসিডেন্সি ভিত্তিক পরিকল্পনা তার পারফরম্যান্সের পরিসর বাড়িয়েছে, তবে ভক্তদের জন্য অতিরিক্ত আর্থিক চাপের সৃষ্টি করেছে। ট্যুরের রেকর্ড ভেঙে নতুন মাইলফলক গড়ে তুললেও, ভক্তদের জন্য ভ্রমণ ও থাকার খরচের ভার ভারী হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা ভবিষ্যতে ট্যুর পরিকল্পনার সময় বিবেচনা করা প্রয়োজন।



