লস এঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ২০২৬ অক্সফোর্ড পুরস্কার অনুষ্ঠানে, সেরা মূল গানের শীর্ষ প্রার্থী পাঁচটির মধ্যে মাত্র দুইটি গানের লাইভ পারফরম্যান্স থাকবে বলে ঘোষণা করা হয়েছে। গত বছর মূল গানের লাইভ পারফরম্যান্স বাদ দেওয়া হয়েছিল, আর এবার আবার দুইটি গানে মঞ্চে সুরের ঝলক দেখা যাবে।
লাইভ পারফরম্যান্সের সুযোগ পাবে ‘গোল্ডেন’ শিরোনামের গান, যা কেপপ থ্রিলার ‘ডেমন হান্টার্স’ ছবির অংশ, এবং ‘আই লায়েড টু ইউ’ শিরোনামের ট্র্যাক, যা ‘সিনার্স’ ছবির সাউন্ডট্র্যাক। উভয় গানের সুরকার ও গায়করা এই সুযোগের জন্য উচ্ছ্বসিত, কারণ মঞ্চে সরাসরি পরিবেশনের মাধ্যমে দর্শকদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করা সম্ভব হবে।
অক্সফোর্ড পুরস্কার দলের নির্বাহী প্রযোজক রাজ কাপুর, ক্যাটি মুল্লান এবং প্রযোজক টারিন হার্ডের স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে এই সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করা হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই দুইটি গানের সৃষ্টিকর্তা ও পারফরমারদের কাজকে বিশেষভাবে তুলে ধরতে চাওয়া হয়েছে, যাতে দর্শকরা সঙ্গীতের মূল সত্তা অনুভব করতে পারেন।
অবশিষ্ট তিনটি মূল গানের জন্য আলাদা পদ্ধতি গ্রহণ করা হবে। নিক কেভ ও ব্রাইস ডেসনারের ‘ট্রেন ড্রিমস’ (ফিল্ম ‘ট্রেন ড্রিমস’ থেকে), ডায়ান ওয়ারেনের ‘ডিয়ার মি’ (ফিল্ম ‘ডায়ান ওয়ারেন: রিলেন্টলেস’ থেকে) এবং নিকোলাস পাইকের ‘সুইট ড্রিমস অব জয়’ (ফিল্ম ‘ভিভা ভার্দি!’ থেকে) গানগুলোকে কাস্টম-প্রোডিউসড সেগমেন্টের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হবে। এই সেগমেন্টগুলোতে চলচ্চিত্রের দৃশ্য, ব্যাকস্টেজ ফুটেজ এবং গানের সৃষ্টিকর্তাদের মন্তব্য অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
প্রযোজক দল জোর দিয়ে বলেছে যে, এই বছর মূল গানের প্রার্থীদের সঙ্গে অন্যান্য পুরস্কার বিভাগের সমান যত্ন ও গল্পবর্ণনা করা হবে। তারা উল্লেখ করেছে, “আপনার কাজ আমাদের সিনেমাটিক ইকোসিস্টেমের অবিচ্ছেদ্য অংশ, এবং আমরা শোতে তা সম্মানিত করতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে সঙ্গীতের শিল্পকে সমগ্র চলচ্চিত্র শিল্পের সঙ্গে সমান মর্যাদা দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করা হয়েছে।
অক্সফোর্ড পুরস্কার অনুষ্ঠান সাধারণত তিন ঘন্টার বেশি সময় ধরে চলে, এবং গত বছর পারফরম্যান্স বাদ দিলেও শোটি নির্ধারিত সময়ের চেয়ে প্রায় বিশ মিনিট বেশি লম্বা হয়েছিল। অতিরিক্ত সময়ের প্রধান কারণ ছিল হোস্ট কনান ও’ব্রায়েনের ‘আই ওয়োন্ট ওয়েস্ট টাইম’ গানের দীর্ঘস্থায়ী পারফরম্যান্স। এই অভিজ্ঞতা থেকে শোয়ের সময়সূচি আরও সুনির্দিষ্ট করার প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়েছে।
২০২৬ সালে শোতে নতুন ২৪তম বিভাগ, ‘সেরা কাস্টিং’ যোগ করা হয়েছে। এই নতুন বিভাগ এবং পূর্বের অতিরিক্ত সময়ের অভিজ্ঞতা মিলিয়ে, প্রযোজকরা শোকে দ্রুতগতি, বিনোদনমূলক এবং সঙ্গতিপূর্ণ রাখতে চেয়েছেন। তাই মূল গানের লাইভ পারফরম্যান্সের সংখ্যা সীমিত করা হয়েছে, যাতে সামগ্রিক সময়সীমা বজায় থাকে।
লাইভ পারফরম্যান্স না পাওয়া তিনটি গানের জন্য সামাজিক মিডিয়ায় ব্যাপক প্রচার পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রতিটি গানের জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা ভিডিও ক্লিপ, ব্যাকস্টেজ দৃশ্য এবং সৃষ্টিকর্তাদের মন্তব্য শেয়ার করা হবে, যাতে দর্শকরা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে গানের সঙ্গে সংযুক্ত হতে পারেন। এই ডিজিটাল প্রচার শোয়ের সময়সীমা সীমাবদ্ধতা পূরণে সহায়তা করবে।
প্রযোজকরা উল্লেখ করেছেন, সঙ্গীত চলচ্চিত্রের আবেগময় কাঠামো গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই তারা নিশ্চিত করতে চেয়েছেন যে, সেরা মূল গানের প্রার্থীরা শোয়ের অন্যান্য বিভাগগুলোর মতোই সম্মানিত হবে এবং তাদের কাজকে যথাযথভাবে উপস্থাপন করা হবে।
অক্সফোর্ড পুরস্কার শোয়ের দর্শকরা এখনো এই পরিবর্তনকে স্বাগত জানাচ্ছেন। লাইভ পারফরম্যান্সের সংখ্যা কমলেও, গানের গুণগত মান ও সৃষ্টিকর্তাদের সম্মান বজায় রাখার প্রচেষ্টা প্রশংসিত হচ্ছে। সামাজিক মিডিয়ার মাধ্যমে গানের প্রচারও দর্শকদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা এনে দেবে।
সারসংক্ষেপে, ২০২৬ অক্সফোর্ড পুরস্কার শোতে ‘গোল্ডেন’ ও ‘আই লায়েড টু ইউ’ গানের লাইভ পারফরম্যান্স হবে, আর বাকি তিনটি গানের জন্য কাস্টম সেগমেন্ট ও ডিজিটাল প্রচার চালু হবে। এই ব্যবস্থা শোকে সময়সীমার মধ্যে রাখার পাশাপাশি সঙ্গীতের শিল্পকে যথাযথ মর্যাদা দেওয়ার লক্ষ্য রাখে।
শোয়ের শেষ পর্যন্ত, সঙ্গীতের গুরুত্ব ও চলচ্চিত্রের সঙ্গে তার সমন্বয়কে পুনরায় জোর দেওয়া হবে, এবং দর্শকরা প্রত্যাশা করতে পারেন একটি দ্রুতগতি, বিনোদনপূর্ণ এবং সঙ্গতিপূর্ণ অনুষ্ঠান, যেখানে সেরা মূল গানের সৃষ্টিকর্তাদের কাজকে সম্মানিত করা হবে।



