সংযুক্ত আরব আমিরাতের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য নতুন স্কোয়াড ঘোষণার সঙ্গে ধ্রুভ পারাশার ও মায়াঙ্ক কুমার দলভুক্ত হয়েছেন। দুজনই আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে চলমান সিরিজে বাদ পড়া দুই খেলোয়াড়ের জায়গা নেন। দলটি ১০ ফেব্রুয়ারি চেন্নাইতে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দলের মুখোমুখি হয়ে টুর্নামেন্টের সূচনা করবে।
বেসিল হামিদ ও রাহুল চোপড়া, যারা বর্তমানে আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে দুইটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে অংশ নিচ্ছিলেন, তাদের পরিবর্তে পারাশার ও মায়াঙ্ককে ডাকা হয়েছে। দুজনের অন্তর্ভুক্তি দলের ব্যাটিং বিকল্পকে শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার মুহাম্মাদ ওয়াসিমের অধিনায়কত্বে ১৫ সদস্যের স্কোয়াড প্রকাশিত হয়েছে। ২০২২ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের স্কোয়াড থেকে মাত্র ওয়াসিম, আলিশান শারাফু ও জুনাইদ সিদ্দিকি এইবারের দলে রয়ে গেছেন।
ওয়াসিম সংযুক্ত আরব আমিরাতের জন্য সর্বাধিক ম্যাচ এবং সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী খেলোয়াড় হিসেবে তালিকায় শীর্ষে আছেন। জুনাইদ সিদ্দিকি দলের সর্বোচ্চ উইকেট গ্রহণকারী হিসেবে পরিচিত।
বামদিনে দুবাইতে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে হামিদ ব্যাটিংয়ে দুই অঙ্কের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারেননি এবং বোলিংয়ে দুই ওভারে ২৮ রান দিলেন। রাহুল চোপড়ার পারফরম্যান্সও প্রত্যাশা পূরণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় তাকে স্কোয়াড থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
২১ বছর বয়সী ধ্রুভ পারাশার এখন পর্যন্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের হয়ে ৩২টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন। ২৮ বছর বয়সী মায়াঙ্ক কুমার তিনটি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচে অংশগ্রহণের রেকর্ড রাখেন।
দলটি ১০ ফেব্রুয়ারি চেন্নাইতে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দলের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে পা রাখবে, যা তাদের বিশ্বকাপ অভিযানের সূচনা চিহ্নিত করবে। এই ম্যাচটি দুবাইতে অনুষ্ঠিত হবে এবং দলকে প্রথম গেমে আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলতে সাহায্য করবে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের দল ‘ডি’ গ্রুপে রয়েছে, যেখানে দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট দল, আফগানিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দল এবং কানাডা দলের মুখোমুখি হবে। এই তিনটি প্রতিপক্ষের সঙ্গে মোকাবিলা দলকে বিভিন্ন শর্তে খেলার অভিজ্ঞতা অর্জনে সহায়তা করবে।
দলটির ১৫ জন খেলোয়াড়ের মধ্যে ক্যাপ্টেন মুহাম্মাদ ওয়াসিমের পাশাপাশি বিভিন্ন বিভাগে দক্ষতা সম্পন্ন খেলোয়াড় রয়েছে। স্কোয়াডে আলিশান শারাফু, আরিয়ানশ শার্মা, ধ্রুভ পারাশার, হায়দার আলি, হার্শিত কৌশিক, জুনাইদ সিদ্দিকি, মায়াঙ্ক কুমার, মুহাম্মাদ আরফান, মুহাম্মাদ ফারুক, মুহাম্মাদ জাওয়াদউল্লাহ, মুহাম্মাদ জোহাইব, রোহিদ খান, শোয়েব খান এবং সিমরানজিত সিং অন্তর্ভুক্ত।
নির্বাচনের পেছনে অভিজ্ঞতা ও সাম্প্রতিক ফর্মের সমন্বয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। নতুন খেলোয়াড়দের অন্তর্ভুক্তি দলের ব্যাটিং গভীরতা বাড়িয়ে তুলবে বলে বিশ্লেষকরা আশা প্রকাশ করেছেন।
মুহাম্মাদ ওয়াসিমের অধিনায়কত্বে দলটি পূর্বে বেশ কিছু আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করেছে, যেখানে তার নেতৃত্বের গুণাবলি প্রশংসিত হয়েছে। ক্যাপ্টেনের নিজের ব্যাটিং ও বোলিং পারফরম্যান্সও দলের মোট পারফরম্যান্সে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ডে দলটি তিনটি ম্যাচ খেলবে, প্রতিটি ম্যাচে ২০ ওভার থাকবে। এই ফরম্যাটে দ্রুত স্কোরিং এবং সঠিক বোলিং পরিকল্পনা সফলতার মূল চাবিকাঠি হবে।



