ফিল্ম স্টাডিজের শিক্ষকরা সম্প্রতি জানিয়েছেন যে, ক্লাসে নির্ধারিত সিনেমা সম্পূর্ণ দেখার ক্ষেত্রে ছাত্রদের মনোযোগ বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। এই সমস্যার ওপর ভিত্তি করে ২০ জন ফিল্ম‑স্টাডিজের অধ্যাপককে সমীক্ষা করা হয় এবং তাদের অভিজ্ঞতা প্রকাশিত হয়েছে।
সমীক্ষা অনুসারে, বেশিরভাগ ছাত্রই সিনেমা দেখার সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করে বা অন্য কাজের সঙ্গে মনোযোগ ভাগ করে নেয়, ফলে চলচ্চিত্রের মূল বিষয়বস্তু বুঝতে ব্যর্থ হয়। ফলে, ক্লাসের শেষে চলচ্চিত্র সংক্রান্ত মৌলিক প্রশ্নের সঠিক উত্তর দেওয়াও কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।
একটি উদাহরণে, উইসকনসিন‑ম্যাডিসন বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপক জেফ স্মিথের ক্লাসে ১৯৬২ সালের ফ্রাঁসোয়া ট্রুফোয়ের “জুলস অ্যান্ড জিম” চলচ্চিত্রের সমাপ্তি সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়। শিক্ষার্থীদের অধিকাংশই ভুল উত্তর বেছে নেয়, যেমন চরিত্রগুলো নাৎসিদের থেকে লুকিয়ে থাকে (যদিও চলচ্চিত্রটি প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়ের) অথবা তারা এরনেস্ট হেমিংওয়ের সঙ্গে মদ্যপান করে (হেমিংওয়ে ছবিতে উপস্থিত নয়)।
এই ধরনের ভুল উত্তরগুলো শিক্ষকদের মধ্যে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, কারণ তা নির্দেশ করে যে ছাত্ররা চলচ্চিত্রের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও কাহিনীর মূল দিকগুলো সঠিকভাবে ধরতে পারছে না। ফলে, শিক্ষণ প্রক্রিয়ায় চলচ্চিত্রের বিশ্লেষণমূলক দিকগুলো যথাযথভাবে ব্যবহার করা কঠিন হয়ে পড়ে।
কিছু শিক্ষক এখন পুরো চলচ্চিত্রের পরিবর্তে শুধুমাত্র নির্দিষ্ট অংশ দেখার নির্দেশনা দিচ্ছেন। এই পদ্ধতি উচ্চ বিদ্যালয়ের ইংরেজি ক্লাসে বইয়ের অংশবিশেষ পাঠের সঙ্গে তুলনীয়, যেখানে পুরো বই না পড়ে নির্দিষ্ট অধ্যায়ে ফোকাস করা হয়। যদিও এটি সময় সাশ্রয় করে, তবে চলচ্চিত্রের সামগ্রিক বর্ণনা ও শৈলীর সম্পূর্ণ অভিজ্ঞতা দিতে পারে না।
অন্যদিকে, জেনারেশন জেডের মধ্যে সিনেমা হলের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। তরুণরা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে চলচ্চিত্রের রেটিং ও রিভিউ শেয়ার করে, এবং সামাজিক মিডিয়ায় চলচ্চিত্রের আলোচনা সক্রিয়ভাবে চালিয়ে যায়। এই প্রবণতাকে “লেটারবক্সড জেনারেশন” বলা হয়, কারণ তারা লেটারবক্সড অ্যাপের মাধ্যমে চলচ্চিত্রের তালিকা তৈরি করে এবং বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করে।
গত বছর এই তরুণ দর্শকদের সমর্থনে অপ্রত্যাশিত হিট চলচ্চিত্রগুলো বক্স অফিসে সাফল্য অর্জন করেছে। উদাহরণস্বরূপ, কিছু স্বতন্ত্র স্বতন্ত্র চলচ্চিত্রের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আগে কম প্রচার পেয়েছিল। এই প্রবণতা চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য নতুন বাজারের সম্ভাবনা নির্দেশ করে।
নর্থওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের লিন স্পিগেল উল্লেখ করেছেন যে, চলচ্চিত্র শিখতে সত্যিকারের আগ্রহী ছাত্ররা সব সময়ই সিনেমার প্রতি উত্সাহী থাকে এবং এখনো তেমনই থাকে। তার মতে, প্রযুক্তি ও সামাজিক মিডিয়া ছাত্রদের চলচ্চিত্রের প্রতি আগ্রহ বাড়িয়ে তুলতে পারে, তবে শিক্ষকের দায়িত্ব হল সেই আগ্রহকে সঠিক বিশ্লেষণ ও সমালোচনার দিকে পরিচালিত করা।
শিক্ষা নীতির দৃষ্টিকোণ থেকে, ফিল্ম স্টাডিজের পাঠ্যক্রমে ছাত্রদের মনোযোগ বজায় রাখতে নতুন পদ্ধতি প্রয়োগ করা প্রয়োজন। উদাহরণস্বরূপ, ক্লাসে সক্রিয় আলোচনা, ছোট গ্রুপে বিশ্লেষণ এবং তাত্ক্ষণিক প্রশ্নোত্তর সেশন অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। এতে ছাত্ররা চলচ্চিত্রের মূল থিম ও কৌশলগুলো দ্রুত ধরতে পারবে।
অধিকন্তু, শিক্ষার্থীদের জন্য চলচ্চিত্রের পূর্বে সংক্ষিপ্ত পটভূমি তথ্য প্রদান করা সহায়ক হতে পারে। ইতিহাস, সময়কাল এবং পরিচালক সম্পর্কে মৌলিক তথ্য জানলে ছাত্ররা সিনেমার বিষয়বস্তু সহজে বুঝতে পারবে এবং ভুল ব্যাখ্যা কমে যাবে।
প্রযুক্তিগত দিক থেকে, ক্লাসে মোবাইল ফোনের ব্যবহার সীমিত করা বা নির্দিষ্ট সময়ে তা নিষ্ক্রিয় করার নীতি গ্রহণ করা যেতে পারে। এছাড়া, ইন্টারেক্টিভ অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করে রিয়েল‑টাইম পোল বা কুইজ চালিয়ে ছাত্রদের মনোযোগ বাড়ানো সম্ভব।
সারসংক্ষেপে, ফিল্ম স্টাডিজের শিক্ষার্থীরা বর্তমানে দীর্ঘ চলচ্চিত্র দেখার সময় মনোযোগের সমস্যার সম্মুখীন, তবে নতুন শিক্ষণ পদ্ধতি ও প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার দিয়ে এই বাধা অতিক্রম করা সম্ভব।
**ব্যবহারিক টিপস:** ক্লাসে সিনেমা দেখার আগে শিক্ষকরা সংক্ষিপ্ত পটভূমি নোট প্রস্তুত করুন, দেখার সময় ছোট বিরতি দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্যের ওপর আলোচনা করুন, এবং শেষে তাত্ক্ষণিক কুইজের মাধ্যমে ছাত্রদের ধারণা যাচাই করুন। এভাবে ছাত্রদের মনোযোগ বজায় রেখে চলচ্চিত্রের শিক্ষামূলক মূল্য সর্বোচ্চ করা যাবে।



