উগান্ডার সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল মুহুজি কাইনরুগাবা, দেশের সর্বশেষ প্রেসিডেন্টিয়াল নির্বাচনের সময় বিরোধী সমর্থকদের হত্যার বিষয়ে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন। তিনি একই প্ল্যাটফর্মে ববি ওয়াইন নামের প্রতিদ্বন্দ্বীর বিরুদ্ধে শারীরিক হুমকি জানিয়ে পোস্ট করেন, যা পরে মুছে ফেলা হয়।
মুহুজি কাইনরুগাবা, দেশের দীর্ঘমেয়াদী শাসক ইয়োওরী মুসেভেনির পুত্র, একাধিক বার এক্স (পূর্বে টুইটার) এ লিখে বলেন যে নির্বাচনের সময় বিরোধী সমর্থকদের গুলিবিদ্ধ করা হয়েছে। এই পোস্টগুলো পরে মুছে ফেলা হলেও, তার মন্তব্যগুলো ইতিমধ্যে ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
মুহুজি কাইনরুগাবা ববি ওয়াইনের বিরুদ্ধে সরাসরি হুমকি দেন, যেখানে তিনি উল্লেখ করেন যে নির্বাচনে পরাজিত হলে ববি ওয়াইনের বীর্যাংশ কেটে ফেলা হবে। এই হুমকি প্রকাশের পর সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক নিন্দা ও উদ্বেগের স্রোত দেখা যায়।
এই নির্বাচনটি ৮১ বছর বয়সী প্রেসিডেন্ট মুসেভেনির সপ্তম মেয়াদে বিজয়ী হওয়ার মাধ্যমে শেষ হয়েছে, যেখানে তিনি ৭০ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন। বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন যে এই মেয়াদটি মুসেভেনির শেষ হতে পারে এবং তিনি তার ৫১ বছর বয়সী পুত্রকে উত্তরসূরি হিসেবে প্রস্তুত করছেন।
মুসেভেনি, মুহুজি কাইনরুগাবা এবং মুসেভেনির ভাই ও বিশেষ উপদেষ্টা সলিম স্যালেহের গঠন করা ত্রয়ীকে কিছু সমালোচক “অপবিত্র ত্রিত্ব” বলে উল্লেখ করেন। এই শব্দটি খ্রিস্টীয় পবিত্র ত্রিত্বের বিপরীত রূপে ব্যবহার করা হয়েছে, যেখানে মুসেভেনি পিতা, মুহুজি পুত্র এবং স্যালেহকে অশুভ আত্মা হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে।
ইনস্টিটিউট ফর সিকিউরিটি স্টাডিজের কেনিয়াভিত্তিক বিশ্লেষক নিকোডেমাস মিন্ডে সম্প্রতি উগান্ডা সফরের সময় এই বর্ণনা শোনেন। তিনি বলেন, “পিতা হলেন মুসেভেনি, পুত্র হলেন মুহুজি, আর অশুভ আত্মা হতে পারেন স্যালেহ, যিনি মুসেভেনির ভাই।” এই মন্তব্যটি স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে উল্লেখিত হয়েছে।
মিন্ডে স্যালেহকে “পর্দার পিছনের শক্তি” হিসেবে বর্ণনা করেন, যিনি অর্থ, ব্যবসা এবং উচ্চ পর্যায়ের প্রবেশাধিকার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য প্রভাব রাখেন। তার ভূমিকা সরকারী নীতি ও সিদ্ধান্তে প্রায়শই অদৃশ্যভাবে কাজ করে বলে বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন।
বিপক্ষের সমর্থকরা মুসেভেনি পরিবারকে ঈশ্বরের কাছ থেকে প্রাপ্ত শাসন অধিকার দাবি করার অভিযোগে অভিযুক্ত করেন। তারা বলেন, মুসেভেনি ৪০ বছরের বেশি সময় ধরে ক্ষমতা ধরে রেখেছেন এবং নির্বাচনে ৭০ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে তার শাসনকে দেবীয় হিসেবে উপস্থাপন করছেন।
গত বছর জাতীয় সংসদের শেষ অধিবেশনে স্পিকার অনিতা আমংও একই রকম ধর্মীয় রূপক ব্যবহার করে ভোটারদের মুসেভেনি ও তার পরিবারকে সমর্থন করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “ঈশ্বর পিতা হলেন প্রেসিডেন্ট মুসেভেনি, ঈশ্বর পুত্র হলেন মুহুজি কাইনরুগাবা, আর ভোটাররা হলেন পবিত্র আত্মা।” এই বক্তব্যের পর সমালোচনার স্রোতও তীব্র হয়।
ববি ওয়াইন, যিনি প্রধান বিরোধী প্রার্থী ছিলেন, মোট ভোটের প্রায় ২৪ শতাংশ পেয়েছেন। তার সমর্থকরা ফলাফলকে অনিয়মিত বলে দাবি করে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের কাছে আপিল জানিয়েছেন, যদিও সরকারী সূত্রে ফলাফল নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিশ্লেষকরা ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দৃশ্যপট নিয়ে সতর্কতা প্রকাশ করছেন। মুসেভেনির শেষ মেয়াদে তিনি তার পুত্রকে উত্তরসূরি হিসেবে গড়ে তুলছেন, যা দেশের সামরিক ও রাজনৈতিক কাঠামোর মধ্যে পারিবারিক নিয়ন্ত্রণকে আরও দৃঢ় করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়া উগান্ডার গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও স্বায়ত্তশাসনের ওপর প্রশ্ন তুলতে পারে।
উগান্ডার রাজনৈতিক পরিবেশে এই ঘটনাগুলি নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। মুসেভেনি ও তার পরিবার কীভাবে পরবর্তী সময়ে ক্ষমতা হস্তান্তর পরিচালনা করবেন, তা দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের নজরে থাকবে।



