বিএনপির চেয়ারম্যানের সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান ৩০ জানুয়ারি বিকেলে বগুড়ার নাজ গার্ডেন হোটেলের বলরুমে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু ও কিশোরদের জন্য হুইলচেয়ার বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে দেশের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও ক্রীড়া ক্ষেত্রে নতুন প্রকল্পের পরিকল্পনা জানিয়ে দেন।
অনুষ্ঠানটি সিএসএফ গ্লোবালের চেয়ারম্যান এম এ মুহিতের আয়োজন ও সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন।
বিতরণে মোট কয়েকশো হুইলচেয়ার সরবরাহ করা হয় এবং একই সঙ্গে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু-কিশোরদের জন্য শিক্ষামূলক সহায়তা প্যাকেজও প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী শিশুরা নিজেদের তৈরি হস্তশিল্প উপহার হিসেবে উপস্থাপন করে, এরপর তারা ‘প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ’ গানের মাধ্যমে উপস্থিতদের মনোযোগ আকর্ষণ করে।
জুবাইদা রহমান উল্লেখ করেন যে, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের প্রতিভা স্বর্গের মতো এবং তাদের এমন পরিবেশে গড়ে তুলতে হবে যেখানে তারা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে অন্ধকার থেকে আলোয় এগিয়ে যেতে পারে। তিনি এ কথাটি জোর দিয়ে বলেন যে, এই তরুণরা ভবিষ্যতে দেশের গঠনমূলক শক্তি হবে।
তিনি সিএসএফ গ্লোবালের প্রশংসা করে বলেন, এই সংস্থার সহায়তায় আজকের শিশুরা আগামী দিনের দেশ গড়ার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করবে। এ ধরনের সহযোগিতা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের স্বনির্ভরতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানও উপস্থিত থেকে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু-কিশোরদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সামাজিক, রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় স্তরে এই শিশুদের জন্য ন্যূনতম সুযোগ তৈরি করা দরকার, যাতে তারা তাদের প্রতিভা বিকশিত করতে পারে।
তারেকের মতে, এই তরুণরা আমাদের পরিবারের অংশ এবং তাদের সাফল্য পুরো জাতির সমৃদ্ধিতে অবদান রাখবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সরকার ও সমাজের সমন্বিত প্রচেষ্টায় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য আরও প্রশিক্ষণ ও খেলাধুলার সুবিধা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে জুবাইদা এবং তারেক উভয়েই ভবিষ্যতে বিভিন্ন জেলায় ক্রীড়া প্রতিষ্ঠান স্থাপন, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য প্রকল্প চালু করার কথা জানান। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সহায়তা করা হবে।
এই ঘোষণাটি বিএনপির সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিকল্পনার ধারাবাহিকতা, যেখানে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও ক্রীড়া ক্ষেত্রে সমন্বিত উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে আসন্ন নির্বাচনের পূর্বে এসব প্রকল্পের বাস্তবায়ন পার্টির ভোটার ভিত্তি শক্তিশালী করার লক্ষ্য বহন করে।
অন্যদিকে, ruling party থেকে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে সরকারী দৃষ্টিকোণ থেকে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য নীতি ও বাজেটের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা চলমান বলে অনুমান করা হচ্ছে।
উল্লেখযোগ্য যে, হুইলচেয়ার বিতরণ এবং শিক্ষাসহায়তা কার্যক্রমের মাধ্যমে বগুড়ার বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু-কিশোরদের জন্য তাত্ক্ষণিক সহায়তা নিশ্চিত করা হয়েছে, এবং ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত প্রকল্পের মাধ্যমে তাদের সামাজিক অন্তর্ভুক্তি বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।



