16 C
Dhaka
Saturday, January 31, 2026
Google search engine
Homeবিজ্ঞাননাসা পার্সিভারেন্স রোভারকে অ্যানথ্রপিকের ক্লড দিয়ে জেজেরো গর্তে পথ নির্ধারণ

নাসা পার্সিভারেন্স রোভারকে অ্যানথ্রপিকের ক্লড দিয়ে জেজেরো গর্তে পথ নির্ধারণ

ডিসেম্বরে নাসা পার্সিভারেন্স রোভার জেজেরো গর্তের একটি অংশে ৪০০ মিটার পথ অতিক্রম করে, যা অ্যানথ্রপিকের ক্লড চ্যাটবটের সাহায্যে পরিকল্পনা করা হয়। রোভারটি ২০২১ সালে ল্যান্ডিংয়ের পর থেকে বহু ঐতিহাসিক অর্জন করেছে, যার মধ্যে মঙ্গল গ্রহের প্রথম অডিও রেকর্ডিং পাঠানো অন্তর্ভুক্ত। এই চালনা নাসার জন্য প্রথমবারের মতো বৃহৎ ভাষা মডেল ব্যবহার করে রোভারকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

পার্সিভারেন্স রোভার ল্যান্ডিংয়ের পর থেকে শিলার গর্তে গিয়ে নমুনা সংগ্রহ, পরিবেশ বিশ্লেষণ এবং গ্রহের পৃষ্ঠের ছবি তোলার মতো কাজ সম্পন্ন করেছে। রোভারটি মঙ্গলের প্রথম শব্দ রেকর্ড করার পাশাপাশি জৈবিক পদার্থের সন্ধানেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করেছে। এই ধারাবাহিক সাফল্যের পর, নাসা রোভারকে আরও স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালনা করার সম্ভাবনা অনুসন্ধান করেছে।

ক্লডের মাধ্যমে রোভারের পথ নির্ধারণের প্রক্রিয়া একাধিক ধাপের সমন্বয়ে গঠিত। প্রথমে নাসা ক্লড কোড, অ্যানথ্রপিকের প্রোগ্রামিং এজেন্টকে রোভার থেকে সংগৃহীত বহু বছরের ডেটা সরবরাহ করে। এই ডেটা রোভারের ক্যামেরা, সেন্সর এবং পূর্বের চালনার রেকর্ড অন্তর্ভুক্ত করে, যা মডেলকে মঙ্গলের পৃষ্ঠের বৈশিষ্ট্য বুঝতে সহায়তা করে।

ডেটা পাওয়ার পর ক্লড রোভারকে অতিক্রম করতে হবে এমন এলাকা ১০ মিটার করে ভাগ করে পথের মূলবিন্দু (ওয়েপয়েন্ট) তৈরি করে। প্রতিটি সেগমেন্টের জন্য মডেল সম্ভাব্য ঝুঁকি, শিলার ঘনত্ব এবং রোভারের গতি সীমা বিবেচনা করে সর্বোত্তম পথ প্রস্তাব করে। প্রাথমিক পরিকল্পনা সম্পন্ন হলে ক্লড নিজেই তা পুনরায় বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করে, ফলে একাধিক পুনরাবৃত্তি শেষে চূড়ান্ত রুট তৈরি হয়।

ক্লডের প্রস্তাবিত ওয়েপয়েন্টগুলো জেট প্রোপালশন ল্যাবরেটরি (JPL) এর ইঞ্জিনিয়াররা সতর্কতার সাথে পর্যালোচনা করে। তারা রোভারকে পাঠানোর আগে একটি সিমুলেশন পরিবেশে এই পথ পরীক্ষা করে, যাতে কোনো অপ্রত্যাশিত স্লাইড, টিপ বা চাকার ঘূর্ণন ঘটতে না পারে। সিমুলেশন ফলাফলের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সামান্য পরিবর্তন করা হয়, যা রোভারকে নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে সহায়তা করে।

ডিসেম্বর ৮ থেকে ১০ তারিখের মধ্যে পার্সিভারেন্স প্রায় ৪০০ মিটার (প্রায় ৪৩৭ গজ) শিলার ক্ষেত্র অতিক্রম করে, যা ক্লডের পরিকল্পিত রুটের বেশিরভাগই অনুসরণ করে। নাসা জানায়, রোভার চালনার সময় কোনো বড় পরিবর্তন প্রয়োজন হয়নি; শুধুমাত্র একাধিক ছোটখাটো সমন্বয় করা হয়েছে, যা মূলত সিমুলেশন পর্যায়ে সনাক্ত করা সূক্ষ্ম পার্থক্যগুলো সংশোধন করেছে।

এই সফল চালনা নাসার জন্য একটি মাইলফলক, কারণ এটি প্রথমবারের মতো বৃহৎ ভাষা মডেলকে রোভার পরিচালনার সরাসরি সহায়ক হিসেবে ব্যবহার করেছে। পূর্বে রোভার চালনার জন্য মানব অপারেটররা ছবি এবং সেন্সর ডেটার ভিত্তিতে ‘ব্রেডক্রাম্ব ট্রেইল’ নামে পরিচিত পয়েন্টগুলো হাতে হাতে নির্ধারণ করতেন। ক্লডের অংশগ্রহণ এই প্রক্রিয়াকে দ্রুততর এবং সম্ভাব্যভাবে কম মানবিক ত্রুটি যুক্ত করে তুলতে পারে।

নাসা জোর দিয়ে বলেছে, প্রতিটি রোভার চালনা সতর্ক পরিকল্পনা ছাড়া সম্ভব নয়; রোভার স্লাইড, টিপ, চাকার ঘূর্ণন বা বীচে আটকে যাওয়ার ঝুঁকি সর্বদা থাকে। তাই মানব বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে ক্লডের রুটকে সিমুলেশন দিয়ে যাচাই করা হয়েছে, যাতে রোভার নিরাপদে কাজ চালিয়ে যেতে পারে। এই পদ্ধতি ভবিষ্যতে রোভারকে আরও জটিল ভূখণ্ডে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলাচল করতে সহায়তা করতে পারে।

পর্যবেক্ষকরা আশা করছেন, ক্লডের মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সরঞ্জামগুলো ভবিষ্যতে মঙ্গল বা অন্য গ্রহে রোভার মিশনের স্বয়ংক্রিয়তা বাড়াবে, ফলে মিশনের সময়সীমা কমবে এবং বৈজ্ঞানিক ডেটার সংগ্রহ বাড়বে। তবে প্রযুক্তির নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করতে মানব তত্ত্বাবধান অবশ্যম্ভাবী থাকবে।

আপনার মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি ভবিষ্যতে মহাকাশ অনুসন্ধানে মানবের ভূমিকা পরিবর্তন করবে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে আরও গবেষণা এবং পরীক্ষার প্রয়োজন।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Engadget
খবরিয়া প্রতিবেদক
খবরিয়া প্রতিবেদক
AI Powered by NewsForge (https://newsforge.news)
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments