SpaceX ২০২৬ সালে শেয়ার বাজারে ফিরে আসার সম্ভাবনা নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে, এবং এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে চারটি প্রধান ওয়াল স্ট্রিট ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা চলছে। একই সময়ে, প্রাইভেট পর্যায়ের বড় কোম্পানিগুলো কর্মচারী ও প্রাথমিক শেয়ারহোল্ডারদের জন্য তরলতা সৃষ্টির নতুন উপায় খুঁজে পাচ্ছে, যা সেকেন্ডারি মার্কেটের দ্রুত বৃদ্ধিকে নির্দেশ করে।
প্রাইভেট কোম্পানিগুলো এখন আগের তুলনায় বেশি সময় ধরে বেসরকারি অবস্থায় থাকে, এবং স্পেসএক্সের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোও শেয়ার বাজারে যাওয়ার আগে দীর্ঘ সময় ধরে বেসরকারি রয়ে গেছে। এই প্রবণতা বাজারের কাঠামোকে পরিবর্তন করছে, যেখানে উচ্চ মূল্যের শেয়ারধারীরা তাদের সম্পদের বড় অংশকে তরল করতে চান।
Rainmaker Securities-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর গ্রেগ মার্টিনের মতে, প্রাইভেট সেক্টরে বাজার মূলধনের অংশ ক্রমবর্ধমানভাবে বাড়ছে, ফলে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য সেকেন্ডারি লেনদেনের সুযোগও বাড়ছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, স্পেসএক্সের মতো কোম্পানিগুলো এখনো পাবলিক না হলেও তাদের মূল্যায়ন শীর্ষ ৩০টি S&P 500 কোম্পানির সমান হতে পারে।
সেকেন্ডারি মার্কেটের মূল কাজ হল প্রাইভেট শেয়ারগুলোকে বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে বা নতুন বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করা, যাতে কর্মচারী ও প্রতিষ্ঠাতারা তাদের অপশন বা শেয়ার থেকে নগদ অর্থ পেতে পারেন। এই প্রক্রিয়া কোম্পানির মূলধন কাঠামোতে কোনো পরিবর্তন না এনে তরলতা প্রদান করে।
স্পেসএক্সের IPO পরিকল্পনা এখনও চূড়ান্ত নয়, তবে চারটি বড় ব্যাংকের সঙ্গে সমন্বয় করা মানে কোম্পানি শেয়ার বাজারে পুনরায় প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় কাঠামো গড়ে তুলছে। এই ব্যাংকগুলো সাধারণত IPO প্রক্রিয়ার সব ধাপ—প্রস্তুতি, মূল্যায়ন, রেজিস্ট্রেশন এবং বিক্রয়—সামলাতে সক্ষম।
প্রাইভেট কোম্পানিগুলোর দীর্ঘ সময় বেসরকারি থাকা মূলত দুইটি কারণের ওপর নির্ভরশীল: একদিকে, তারা পাবলিক হওয়ার পরেও তহবিল সংগ্রহের জন্য বিকল্প পথ পেয়েছে; অন্যদিকে, শেয়ারহোল্ডারদের জন্য তরলতা নিশ্চিত করার জন্য সেকেন্ডারি লেনদেনের প্ল্যাটফর্মগুলো দ্রুত বিকশিত হয়েছে।
গ্রেগ মার্টিনের প্রতিষ্ঠিত Archer Capital Group এবং Liquid Stock নামের দুটি ফার্ম এই সেকেন্ডারি লেনদেনকে সহজতর করে। Archer Capital Group প্রাইভেট শেয়ার কেনা-বেচার মাধ্যমে বাজারে লিকুইডিটি যোগায়, আর Liquid Stock কর্মচারী ও এক্সিকিউটিভদের শেয়ারকে জামানত হিসেবে ব্যবহার করে অপশন এক্সারসাইজে সহায়তা করে।
এই ধরনের সেবা শেয়ারহোল্ডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ প্রাইভেট শেয়ারের মূল্যায়ন প্রায়শই অনিশ্চিত এবং বাজারে সরাসরি বিক্রি করা কঠিন। সেকেন্ডারি লেনদেনের মাধ্যমে তারা নির্দিষ্ট সময়ে নগদ অর্থ পেতে পারেন, যা তাদের আর্থিক পরিকল্পনায় স্থিতিশীলতা আনে।
বাজার বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন যে, প্রাইভেট সেক্টরে মোট বাজার মূলধনের অংশ ক্রমবর্ধমানভাবে বাড়ছে, ফলে সেকেন্ডারি লেনদেনের পরিমাণও তীব্রভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই প্রবণতা ভবিষ্যতে আরও বেশি বড় কোম্পানিকে বেসরকারি অবস্থায় দীর্ঘ সময় ধরে রাখতে পারে, তবে একই সঙ্গে তরলতা প্রদানকারী কাঠামোও শক্তিশালী হবে।
স্পেসএক্সের মতো উচ্চপ্রোফাইল কোম্পানিগুলোর IPO চক্র পুনরায় শুরু হলে, সেকেন্ডারি মার্কেটের অভিজ্ঞতা ও অবকাঠামো শেয়ারহোল্ডারদের জন্য অতিরিক্ত সুবিধা নিয়ে আসবে। তারা পাবলিক হওয়ার আগে ইতিমধ্যে শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে নগদ অর্থ পেতে পারবে, যা কোম্পানির আর্থিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব না ফেলেই সম্ভব।
অবশেষে, প্রাইভেট কোম্পানিগুলোর দীর্ঘ সময় বেসরকারি থাকা এবং সেকেন্ডারি লেনদেনের বৃদ্ধি একসাথে বাজারের নতুন গতিপথ গড়ে তুলছে। শেয়ারহোল্ডার, কর্মচারী এবং বিনিয়োগকারীরা উভয়ই এই পরিবর্তন থেকে উপকৃত হতে পারেন, তবে একই সঙ্গে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও শেয়ার মূল্যায়নের স্বচ্ছতা বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
ভবিষ্যতে, স্পেসএক্সের IPO যদি ২০২৬ সালে বাস্তবায়িত হয়, তবে এটি পাবলিক বাজারে প্রবেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হবে, এবং সেকেন্ডারি লেনদেনের মাধ্যমে গড়ে ওঠা তরলতা মডেল অন্যান্য প্রাইভেট কোম্পানির জন্য রেফারেন্স পয়েন্ট হতে পারে। এই প্রক্রিয়া বিনিয়োগের নতুন সুযোগ তৈরি করবে, তবে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য যথাযথ তথ্য ও ঝুঁকি বিশ্লেষণ অপরিহার্য থাকবে।



