শুক্রবার রাত প্রায় আটটায় নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার জিরতলী ইউনিয়নের রুগুরামপুর গ্রামে একটি ক্রিকেট ম্যাচের সময় বিরোধে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে। ২০ বছর বয়সী মো. আরিফ হোসেন, কুতুবপুর গ্রাম সিরাজ মিয়ার সন্তান, এই আক্রমণে প্রাণ হারিয়েছেন।
আরিফের পরিবার জানায়, তিনি ঢাকায় তার মামার সঙ্গে একটি কারখানায় কাজ করতেন এবং এক সপ্তাহ আগে বাড়ি ফিরে এসেছিলেন। বাড়িতে ফিরে আসার পরই তিনি গ্রামের মাঠে বন্ধুদের সঙ্গে ক্রিকেট খেলতে গিয়েছিলেন।
মাঠে দুই দল গঠন করে খেলতে গিয়ে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে কথোপকথন তীব্র হয়ে যায়। উভয় পক্ষের মধ্যে বাজি ধরা এবং স্কোর নিয়ে মতবিরোধ দেখা দেয়, যা দ্রুত উত্তেজনায় রূপ নেয়।
আরিফের বড় ভাই আকিলের মতে, বিরোধের মুহূর্তে আরিফকে কিছু লোক বাধা দেয় এবং শারীরিকভাবে আক্রমণ করে। তিনি বলেন, “বিরোধের সময় আমার ভাইকে থামাতে গিয়ে কয়েকজন তাকে মারধর করে।” এরপর একই সন্ধ্যায় আক্রমণকারীরা আবার ফিরে এসে আরিফের পাশাপাশি তার চাচাতো ভাই উমায়ের (২১) এবং ওমর (২২) নামের দুই যুবককেও ছুরিকাঘাত করে।
উমায়ের এবং ওমরের অবস্থাও গুরুতর, তবে তারা এখনও জীবিত। আহতদের অবস্থা জরুরি সেবার মাধ্যমে স্থিতিশীল করা হয়েছে, তবে উভয়েরই জীবনহানির ঝুঁকি রয়ে গেছে।
বেগমগঞ্জ থানার ওয়েসি মো. শামসুজ্জামান জানান, “বাজি ধরে ক্রিকেট খেলা নিয়ে বিরোধের ফলে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।” তিনি যোগ করেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় পুলিশ দল রুগুরামপুর গ্রাম ও আশেপাশের এলাকায় গৃহপরিদর্শন, সাক্ষী সংগ্রহ এবং সম্ভাব্য অস্ত্রের সন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে। ঘটনাস্থলে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আক্রমণকারীরা ছুরি ব্যবহার করে গুলি না করে সরাসরি আঘাত করেছে।
পুলিশের মতে, লিখিত অভিযোগ পাওয়া মাত্রই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি দায়ের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে এবং তদন্তের অগ্রগতি অনুযায়ী আদালতে মামলা দায়ের করা হবে।
এই ধরনের স্থানীয় স্তরে ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত বাজি ধরা এবং বিরোধের ঘটনা পূর্বে কখনও না ঘটলেও, সাম্প্রতিক সময়ে গ্রামীণ এলাকায় খেলাধুলা সংক্রান্ত মতবিরোধে হিংসা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে স্থানীয় প্রশাসন সতর্কতা প্রকাশ করেছে।
অধিক তদন্তের জন্য পুলিশ দল গ্রামবাসীর সঙ্গে আলাপ চালিয়ে যাচ্ছে এবং সম্ভাব্য গোপন সাক্ষী বা অতিরিক্ত প্রমাণ সংগ্রহের জন্য বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত দল গঠন করেছে।
আহতদের পরিবার এখনো শোকাহত এবং ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা করছে। স্থানীয় সমাজও এই ঘটনার শোক প্রকাশ করে, ভবিষ্যতে এমন হিংসাত্মক ঘটনা রোধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানাচ্ছে।
প্রাসঙ্গিক কর্তৃপক্ষের মতে, এই ধরনের হিংসা রোধে খেলাধুলা সংক্রান্ত বিরোধের সময় মধ্যস্থতা ব্যবস্থা এবং আইনগত শাস্তি কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হবে। বর্তমানে তদন্ত চলমান, এবং সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা প্রত্যাশা করা হচ্ছে।



