মালি সাময়িক সংসদের সদস্য মামদৌ হাওয়া গাসসামা, যিনি সামরিক শাসনের অধীনে গঠিত, জুলাই মাসে আইভরি কোস্টে ভ্রমণের সময় গ্রেফতার হন এবং তিন বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন। গাসসামা ইভোরিয়ান রাষ্ট্রপতি আলাসান উয়াত্তারাকে ‘তানাশাহ’ এবং ‘মালির শত্রু’ বলে সমালোচনা করে, যা আইভরি কোস্টের আদালতকে অপমানের অপরাধ হিসেবে গণ্য করেছে।
গাসসামা ২০২০ সালে মালের সামরিক কুপের পর গঠিত অস্থায়ী সংসদের সদস্য হিসেবে কাজ করছিলেন। তার গ্রেফতারের সময় তিনি আইভরি কোস্টের রাজধানী আবিজ্যানে ছিলেন, যেখানে তিনি সামাজিক মিডিয়া ও সাক্ষাৎকারে উয়াত্তারার নেতৃত্বকে কঠোরভাবে সমালোচনা করছিলেন। আদালত তার মন্তব্যকে রাজনৈতিক সমালোচনার সীমা অতিক্রম করে, ইভোরিয়ান প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করার এবং দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ হিসেবে বিবেচনা করেছে।
মালির সামরিক শাসক দল ২০২০ থেকে ক্ষমতায় থাকায় আইভরি কোস্টের সঙ্গে সম্পর্ক ক্রমশ টানটান হয়েছে। উয়াত্তারা, যিনি ৮৪ বছর বয়সে চতুর্থ মেয়াদে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন, ফ্রান্সের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখেন এবং পশ্চিম আফ্রিকায় সামরিক হস্তক্ষেপের সমালোচক হিসেবে পরিচিত। তার নীতি ও মন্তব্যের ফলে মালের সামরিক শাসনের প্রতি সমালোচনা বাড়ে, যা দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে দেয়।
গাসসামার আইনজীবী মামদৌ ইসমাইলা কোয়ানাতে এফপিএ সংবাদ সংস্থার মাধ্যমে প্রকাশিত মন্তব্যে আদালতের সিদ্ধান্তকে ‘অত্যধিক’ এবং ‘গুরুতর’ বলে সমালোচনা করেন। তবে, মালি সরকারের পক্ষ থেকে গাসসামার মামলায় কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
এই মামলা পূর্বের কূটনৈতিক সংঘাতের ধারাবাহিকতা, যেখানে দুই বছর আগে মালে ৪৯টি আইভরি কোস্টের সৈন্যকে রাষ্ট্র নিরাপত্তা হ্রাসের অভিযোগে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। সেই সময় আইভরি কোস্টের দাবি ছিল যে ওই সৈন্যরা ইউএন মিশনের অংশ হিসেবে মালের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে লড়াই করতে পাঠানো হয়েছিল। তবু টোগোর মধ্যস্থতায় উভয় পক্ষের সমঝোতার মাধ্যমে তারা মুক্তি পায়।
মালের সামরিক শাসকরা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউএন শান্তি রক্ষাকারী মিশন ও ২০১৩ সালে ফ্রান্সের সামরিক সহায়তা থেকে সরে গিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়ে তুলেছে। রাশিয়ান বেসামরিক সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সেহেল অঞ্চলের নিরাপত্তা সমস্যার মোকাবিলায় আনা হয়েছে, যা মালের নিরাপত্তা নীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের দিক পরিবর্তন করেছে।
গাসসামার দণ্ডাদেশ আইভরি কোস্টে রাজনৈতিক মতপ্রকাশের সীমা ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্পর্কের জটিলতা উন্মোচন করে। উয়াত্তারার সমালোচকরা দাবি করেন যে এই ধরনের কঠোর শাস্তি স্বতন্ত্র মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে হুমকি দেয়, অন্যদিকে আইভরি কোস্টের বিচারিক ব্যবস্থা তার রাষ্ট্রপ্রধানের মর্যাদা রক্ষার জন্য কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্যবোধ করে।
ভবিষ্যতে এই মামলার ফলাফল মালের রাজনৈতিক পরিবেশ ও আইভরি কোস্টের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। যদি গাসসামা আপিলের মাধ্যমে দণ্ড হ্রাসের সুযোগ পান, তবে তা মালের সরকারী নীতি ও আন্তর্জাতিক সমর্থনের মধ্যে নতুন সমন্বয়কে নির্দেশ করতে পারে। অন্যদিকে, যদি শাস্তি বজায় থাকে, তবে এটি দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলতে পারে এবং অঞ্চলের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করতে পারে।
এই ঘটনাটি আফ্রিকান মহাদেশের রাজনৈতিক গতিবিধি ও নিরাপত্তা নীতির পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে দেশীয় শাসন কাঠামো, আন্তর্জাতিক জোট এবং মানবাধিকার সংক্রান্ত প্রশ্নগুলো একসঙ্গে জটিলভাবে জড়িয়ে আছে।



