ইংলিশ ফুটবল লীগ (ইএফএল) শেফিল্ড ওয়েডনেসডের সম্ভাব্য অধিগ্রহণের তহবিলের উৎস পরীক্ষা করছে, কারণ কনসোর্টিয়ামের অর্থের বেশিরভাগ গ্যাম্বলিং ও ক্রিপ্টো‑গ্যাম্বলিং কার্যক্রম থেকে আসতে পারে। এই যাচাই প্রক্রিয়া ক্লাবের ভবিষ্যৎ মালিকানা নিশ্চিত করার আগে সম্পন্ন করা জরুরি বলে ইএফএল উল্লেখ করেছে।
শেফিল্ড ওয়েডনেসডের প্রশাসকরা ক্রিসমাসের আগের রাতে একটি কনসোর্টিয়ামকে প্রিফার্ড বিডার হিসেবে নির্ধারণ করেন। এই কনসোর্টিয়ামের দুইজন মূল সদস্য হলেন পেশাদার পোকার খেলোয়াড় জেমস বর্ড এবং ক্রিপ্টো‑গ্যাম্বলিং ক্যাসিনো মালিক ফেলিক্স রোমার। তাদের প্রস্তাবিত তহবিলের উৎস গ্যাম্বলিং ও ডিজিটাল ক্যাসিনো কার্যক্রমের আয় থেকে আসছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইএফএল বর্তমানে এই কনসোর্টিয়ামটি মালিক‑ডিরেক্টর টেস্ট (ODT) মানদণ্ড পূরণ করে কিনা তা মূল্যায়ন করছে। মৌসুমের শেষের দিকে এই মূল্যায়ন স্বাধীন ফুটবল রেগুলেটর (IFR) দ্বারা গ্রহণ করা হবে, এবং শেফিল্ড ওয়েডনেসডের কেস সম্পন্ন না হলে IFR তা হস্তান্তর নিতে পারে। IFR-কে ইএফএলের তুলনায় অধিক তদন্ত, শাস্তি ও প্রয়োগের ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে।
কনসোর্টিয়াম ইতিমধ্যে বহু মিলিয়ন পাউন্ডের ডিপোজিট প্রদান করে একচেটিয়া আলোচনার অধিকার নিশ্চিত করেছে। প্রশাসক বেগবিস ট্রেইনারকে তারা ৩০ মিলিয়ন পাউন্ডের বেশি মূল্যের ক্রয় এবং পরবর্তী তিন বছরের পরিচালন ব্যয় মেটাতে পর্যাপ্ত তহবিল আছে বলে প্রমাণ উপস্থাপন করেছে। এই আর্থিক প্রমাণের ভিত্তিতে অধিগ্রহণের পরিকল্পনা গৃহীত হয়েছে, তবে তহবিলের উৎসের বিশদ বিশ্লেষণ এখনও চলমান।
ইএফএল কর্তৃক তহবিলের উৎসের বিশ্লেষণ গ্যাম্বলিং সংক্রান্ত অংশকে জটিল করে তুলতে পারে, কারণ গ্যাম্বলিং আয় থেকে প্রাপ্ত তহবিলের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্কতা প্রয়োজন। বর্তমান পর্যায়ে ডিউ ডিলিজেন্স প্রক্রিয়া প্রাথমিক স্তরে রয়েছে এবং কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি।
ইএফএলের এক মুখপাত্র উল্লেখ করেছেন যে ODT প্রক্রিয়া এখনও চলমান এবং সকল প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অনুমোদন প্রদান করা হবে না। এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে অধিগ্রহণের চূড়ান্ত অনুমোদন এখনও অনিশ্চিত।
গ্যাম্বলিং সংস্থার মালিকানাধীন ক্লাবের ক্ষেত্রে পূর্বে কিছু ব্যতিক্রমমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। টনি ব্লুমের মালিকানাধীন ব্রাইটন এবং ম্যাথিউ বেনহামের মালিকানাধীন ব্রেন্টফোর্ড উভয়ই ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের অনুমোদন পেয়েছে, যদিও তাদের মূল ব্যবসা গ্যাম্বলিং। ২০১৪ সালে ফুটবলে অংশগ্রহণকারী সকলের জন্য গ্যাম্বলিং নিষিদ্ধ করা হয়েছিল, তবে এই দুই ক্লাবকে বিশেষ ছাড় প্রদান করা হয়েছে।
ব্রাইটনের ক্ষেত্রে ব্লুমের বেটিং পরামর্শদাতা স্টারলিজার্ড এবং ব্রেন্টফোর্ডের স্মার্টডসের হিসাব ফেডারেশন স্বতন্ত্রভাবে অডিট করে নিশ্চিত করে যে তারা ফুটবলে কোনো বাজি ধরছে না। এই অডিট ব্যবস্থা ফেডারেশনের শর্ত অনুসারে নিয়মিতভাবে পরিচালিত হয়।
বর্ড ও রোমারকে একই ধরনের স্বচ্ছতা প্রদর্শন করতে হবে, যাতে তাদের গ্যাম্বলিং-সম্পর্কিত আয় ফুটবলে কোনো অনৈতিক প্রভাব না ফেলে তা প্রমাণ করা যায়। যদি ইএফএল বা IFR এই শর্তে সন্তুষ্ট না হয়, তবে অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া স্থগিত বা বাতিল হতে পারে।
সারসংক্ষেপে, শেফিল্ড ওয়েডনেসডের অধিগ্রহণের জন্য প্রস্তাবিত তহবিলের উৎস গ্যাম্বলিং ও ক্রিপ্টো‑গ্যাম্বলিং থেকে আসা হওয়ায় ইএফএল কঠোরভাবে যাচাই করছে। কনসোর্টিয়াম ইতিমধ্যে ডিপোজিট প্রদান ও আর্থিক সক্ষমতা প্রমাণ করেছে, তবে ODT মানদণ্ডের পূর্ণতা এবং গ্যাম্বলিং তহবিলের স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত অনুমোদন অপেক্ষা করবে। ভবিষ্যতে স্বাধীন ফুটবল রেগুলেটর এই বিষয়টি তদারকি করতে পারে, এবং অন্যান্য গ্যাম্বলিং‑মালিকানার ক্লাবের মতোই অতিরিক্ত অডিট শর্ত আরোপিত হতে পারে।



