জাতীয় নাগরিক দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ৩০ জানুয়ারি গুলশানের লেকশোর গ্র্যান্ড হোটেলে অনুষ্ঠিত ইশতেহার ঘোষণায় জোট গঠন সত্ত্বেও নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের সংগ্রাম চালিয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন।
দলটি ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের মাধ্যমে সংস্কার বাস্তবায়নকে মূল লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করেছে এবং এ লক্ষ্যে ইশতেহার প্রকাশ করেছে।
নাহিদ ইসলাম এটিকে দলের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করেন; গণঅভ্যুত্থানের পর ২০২৪‑এর পরে নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশের পর জোট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্বাচনে অংশ নেওয়া হচ্ছে।
দল গঠনের সময় ঘোষিত প্রতিশ্রুতি ও ঘোষণাপত্রের সঙ্গে বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান যুক্ত হয়েছে, যা ভবিষ্যৎ কর্মসূচির ভিত্তি গঠন করে।
গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে নেতৃত্ব ও আদর্শের ভিত্তি গড়ে তোলা হয়েছে; আগস্টে শহীদ মিনারে ফ্যাসিবাদী শাসনের বিলোপ এবং নতুন বন্দোবস্তের দাবি তোলার পরেও দলটি সেই দাবিতে অটল রয়েছে।
নাহিদ ইসলাম উল্লেখ করেন, গত ১৬ বছর এবং স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময়ের রাজনৈতিক কাঠামো দেশের প্রকৃত গণতন্ত্র থেকে বঞ্চিত করেছে।
পূর্বের শাসনকালে দমন, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার অবনতি, এবং জাতীয় মর্যাদার ক্ষয় ইত্যাদির ফলে জনগণ রাস্তায় নেমে এসেছে।
নতুন বন্দোবস্তের মধ্যে স্বৈরতন্ত্রের পুনরাবৃত্তি রোধ, গণতন্ত্রের সুরক্ষা, অর্থনৈতিক বৈষম্য হ্রাস এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠন অন্তর্ভুক্ত।
এছাড়া ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য রক্ষা করে আন্তর্জাতিক মঞ্চে জাতীয় মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা লক্ষ্য।
জোট গঠন নিয়ে সমালোচনার মুখে নাহিদ ইসলাম জোর দিয়ে বলেন, এটি কেবল নির্বাচনী জোট, যেখানে ন্যূনতম বিষয়ের ওপর ঐকমত্য রয়েছে এবং সংস্কার বাস্তবায়নের মাধ্যম হবে।
এই কারণে দলটি আলাদাভাবে নিজস্ব ইশতেহার প্রকাশ করেছে, যা জোটের মধ্যে থেকে স্বতন্ত্র অবস্থান বজায় রাখে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে পূর্ণাঙ্গ সাংবিধানিক সংস্কার সম্ভব না হলেও, বিভিন্ন সংস্কারের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে, যা নির্বাচনের মাধ্যমে গণভোটে বাস্তবায়িত হবে।
জাতীয় নাগরিক দল নতুন বন্দোবস্তের সংগ্রামকে দীর্ঘমেয়াদি লড়াই হিসেবে দেখছে এবং তা বাস্তবায়নের জন্য কৌশলগত পরিকল্পনা গড়ে তুলছে।
ইশতেহার ঘোষণায় দলটি ৩৬ দফা নীতি প্রকাশ করেছে; শীর্ষ নেতারা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের অংশগ্রহণে এই নীতি সমন্বিত হয়েছে।
নির্বাচনের কাছাকাছি সময়ে জোটের ভূমিকা এবং দলের স্বতন্ত্র পরিকল্পনা দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যে কী প্রভাব ফেলবে তা নজরে থাকবে।



