মুম্বাইতে থ্যান্ডেল হিন্দি ট্রেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রযোজক অলু আরাভিন্দ এবং সালমান খান একসাথে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের মাঝখানে আরাভিন্দ বড় স্ক্রিনে ১০০০ কোটি টাকার চলচ্চিত্র তৈরির ইচ্ছা প্রকাশ করেন এবং সালমান খানের সঙ্গে কাজের সম্ভাবনা উল্লেখ করেন। এরপর তিনি হালকা স্বরে “Maybe Ghajini 2!” বলে ইঙ্গিত দেন, যা তৎক্ষণাৎ ভক্তদের মধ্যে ঘাজিনি ২’র প্রত্যাশা জাগিয়ে তুলেছে।
সালমান খান এই মন্তব্যের পরৎ উত্তর দেন, “নিশ্চয়ই, স্যার!” এবং অতিরিক্তভাবে উল্লেখ করেন যে ইন্টারনেটে ঘাজিনি ২’র সম্পর্কে প্রচুর গুজব ছড়িয়ে আছে। আরাভিন্দ হাসি দিয়ে বলেন, “মানুষই লিখতে শুরু করেছে,” ফলে এই সংক্ষিপ্ত বিনিময়টি মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করে। যদিও এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি, তবে এই ইঙ্গিতটি ঘাজিনি ২’র সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা পুনরায় তীব্র করে তুলেছে।
ঘাজিনি ২০০৮ সালে বলিউডে বিশাল সাফল্য অর্জন করে। এ.আর. মুরুগাদোস পরিচালিত এই ছবি তামিল ছবির রিমেক, যেখানে সালমান খান, আসিন এবং জিয়া খান প্রধান ভূমিকায় ছিলেন, আর প্রতিপক্ষের চরিত্রে প্রদীপ রাওয়াত অভিনয় করেছেন। ছবিটি ঘরে ঘরে ১১৪ কোটি টাকা সংগ্রহ করে প্রথম বলিউড চলচ্চিত্র হিসেবে ১০০ কোটি ক্লাবের সদস্য হয়। এছাড়া, ঘাজিনি হল একমাত্র বলিউড চলচ্চিত্র যার শিরোনামই খলনায়কের নাম, যা শিল্পে আলাদা পরিচয় তৈরি করেছে।
সালমান খান এই ভূমিকায় কোনো পুরস্কার না জিতলেও, সঞ্জয় সিংহানিয়ার চরিত্রটি তার ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় পারফরম্যান্স হিসেবে রয়ে গেছে। ছবির সাফল্য এবং চরিত্রের জনপ্রিয়তা আজও নতুন প্রজন্মের দর্শকদের মধ্যে আলোচনার বিষয়।
অন্যদিকে, থ্যান্ডেল ছবিটি নাগা চৈতন্য এবং সাই পল্লবীর নেতৃত্বে তৈরি, এবং ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে মুক্তি পাবে। এই তেলেগু চলচ্চিত্রটি হিন্দিতে ডাব করা হবে, যা বৃহত্তর দর্শকগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছানোর পরিকল্পনা নির্দেশ করে। থ্যান্ডেল একই সময়ে লভেয়াপা ছবির সঙ্গে বক্স অফিসে মুখোমুখি হবে, যেখানে সালমান খানের পুত্রের ছবি প্রদর্শিত হবে।
সালমান খান এই প্রতিযোগিতা সম্পর্কে মন্তব্য করে বলেন, “সবার ছবি বক্স অফিসে সফল হবে,” যা শিল্পের স্বচ্ছন্দ প্রতিযোগিতার প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে। থ্যান্ডেল এবং লভেয়াপা দুটোই বড় বাজেটের প্রকল্প, তাই দুটির পারফরম্যান্সের উপর নজর থাকবে।
ঘাজিনি ২’র সম্ভাবনা নিয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না থাকলেও, অলু আরাভিন্দের ইঙ্গিত এবং সালমান খানের ইতিবাচক সাড়া ভক্তদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে। ভবিষ্যতে যদি প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়, তবে তা বলিউডের বড় বাজেটের ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে।
এই মুহূর্তে সর্বোত্তম উপায় হল অফিসিয়াল সূত্র থেকে আপডেট অনুসরণ করা এবং গুজবের পরিবর্তে নিশ্চিত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে আলোচনা করা। চলচ্চিত্রের পরিকল্পনা ও মুক্তির তারিখ সম্পর্কে সঠিক তথ্য পাওয়া পর্যন্ত ধৈর্য্য বজায় রাখুন, যাতে কোনো ভুল ধারণা তৈরি না হয়।
চলচ্চিত্রপ্রেমীরা যদি ঘাজিনি ২’র সম্ভাবনা নিয়ে আগ্রহী হন, তবে প্রযোজক ও অভিনেতাদের ভবিষ্যৎ ঘোষণার জন্য অপেক্ষা করা এবং সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের সত্যতা যাচাই করা উচিৎ। এভাবে আপনি সর্বশেষ খবরের সঙ্গে আপডেটেড থাকতে পারবেন এবং আপনার সিনেমা অভিজ্ঞতা আরও সমৃদ্ধ হবে।



