আজ বিকেলে নোয়াখালী জিলা স্কুলের মাঠে ১১ দলীয় নির্বাচনী জোটের আয়োজনে একটি র্যালি অনুষ্ঠিত হয়। র্যালিতে জামায়াত-এ-ইসলামি আমীর শফিকুর রহমান উপস্থিত হয়ে দলীয় কর্মসূচি ও দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য রাখেন।
শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, ক্ষমতা গ্রহণের আগে যদি জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না যায়, তবে শাসনের পর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অসম্ভব। তিনি এ কথা দিয়ে বর্তমান শাসনব্যবস্থার নিরাপত্তা নীতির সমালোচনা করেন।
তিনি আরও বলেন, দেশের যুবসমাজ ইতিমধ্যে জুলাই বিদ্রোহের ধারাকে ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যাবে এবং মা ও বোনেরা এখন বুঝতে পারছেন, তাদের গৌরবের রক্ষা কার হাতে। এভাবে তিনি তরুণ ও নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।
শফিকুর রহমানের মতে, যদি দেশকে এমন লোকদের হাতে দেওয়া হয় যারা দেশের প্রতি তাদের ভালবাসা প্রমাণ করেছে, তবে সহানুভূতিপূর্ণ সমাজ গড়া সম্ভব। তিনি যুক্তি দেন, জনগণ এই ধারণা গ্রহণ করেছে এবং ন্যায়বিচারের তরঙ্গ এখন দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে।
বক্তা জোর দিয়ে বলেন, তারা একটি দুর্নীতিমুক্ত, শোষণ ও অবিচারমুক্ত বাংলাদেশ চাইছে। তিনি অতীতের পনেরো বছর ও অর্ধের অবিচার পুনরায় ফিরে না আসার আহ্বান জানান। এভাবে তিনি বর্তমান শাসনের নীতির বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান গ্রহণ করেন।
র্যালির প্রধান অতিথি হিসেবে শফিকুর রহমান নোয়াখালীকে শহর কর্পোরেশনে রূপান্তর এবং হাটিয়া, কম্পানিগঞ্জ, সুভর্ণাচার এলাকায় নদীর ক্ষয় রোধের জন্য কার্যকর পদক্ষেপের প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি এ উদ্যোগগুলোকে স্থানীয় উন্নয়নের মূল অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি জামায়াতকে “সবচেয়ে বেশি নিপীড়িত দল” বলে বর্ণনা করেন এবং অতীতে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে তারা প্রতিশোধ নেবে না, মামলা দায়েরের ব্যবসা করবে না। তিনি বলেন, দল এই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছে, তবে কিছু সদস্য তা মেনে চলতে ব্যর্থ হয়েছে।
র্যালি সমাপ্তির সময় নোয়াখালী জেলার জামায়াতের জেলা আমীর এবং নোয়াখালী-৪ (সুভর্ণাচার ও সদর অংশ) নির্বাচনের প্রার্থী ইশাক খন্দকারের নেতৃত্বে সমাপ্ত হয়। তিনি র্যালির প্রধান ভূমিকা পালন করেন।
অন্যান্য উপস্থিতদের মধ্যে জেলা জামায়াতের সচিব মাওলানা বোরহান উদ্দিন এবং ১১ দলীয় জোটের নোয়াখালী-৬ (কম্পানিগঞ্জ) নির্বাচনের প্রার্থী আবদুল হান্নান মাসুদও বক্তব্য রাখেন। তাদের বক্তব্যে দলীয় সংহতি ও নির্বাচনী কৌশল তুলে ধরা হয়।
শফিকুর রহমান দুপুর ১২:১৫ টার দিকে ফেনি থেকে হেলিকপ্টার দিয়ে নোয়াখালীতে পৌঁছান। তার আগমনের সঙ্গে সঙ্গে র্যালি শুরু হয় এবং উপস্থিত ভক্তদের উচ্ছ্বাসে পরিবেশ গরম হয়ে ওঠে।
র্যালিতে উপস্থিত ভক্ত ও সমর্থকরা শফিকুর রহমানের প্রতিশ্রুতি ও রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আলোচনা করেন এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনে দলকে সমর্থন করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
এই র্যালি নোয়াখালী অঞ্চলে জামায়াত-এ-ইসলামির রাজনৈতিক উপস্থিতি দৃঢ় করার পাশাপাশি স্থানীয় উন্নয়নমূলক প্রকল্পের ঘোষণা দিয়ে শেষ হয়।



