কোরিয়ান সময় ৩০ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার রাতে, ঢাকা থেকে সরাসরি উড়ে বাংলাদেশী বাণিজ্যিক বিমান BGI‑৩৪১ করাচি জিন্নাহ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এ উড়ানটি ১৪ বছর পর প্রথমবারের মতো পাকিস্তানের মাটিতে পা রাখে এবং ঐতিহ্যবাহী জলধারার স্বাগত (ওয়াটার ক্যানন স্যালুট) দিয়ে স্বাগত জানানো হয়।
বিমানটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রাত ৮:১৫ টায় রওনা হয় এবং পাকিস্তানি সময় রাত ১১:০৩ টায় করাচিতে ল্যান্ড করে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর রেকর্ড অনুযায়ী উড়ানের সময়সূচি এবং উড্ডয়ন পথের তথ্য একইভাবে নিশ্চিত হয়েছে।
পাকিস্তান এয়ারপোর্টস অথরিটি (পিএএ) এই উড়ানকে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের একটি নতুন অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত করেছে। পিএএর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সরাসরি সংযোগের পুনরায় সূচনা উভয় দেশের বাণিজ্য, পর্যটন ও সাংস্কৃতিক বিনিময়কে ত্বরান্বিত করবে।
এই উড়ানের পূর্বে, চলতি মাসের শুরুর দিকে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সরাসরি বিমান চলাচল পুনরায় শুরু করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। সেই ঘোষণার পর থেকে উভয় পক্ষই ফ্লাইটের সময়সূচি, টিকিটের মূল্য এবং সেবা মান নির্ধারণে কাজ করে আসছে।
ঢাকায় পাকিস্তান হাইকমিশনও পূর্ণ আসন নিয়ে উড়ানটি চালু করার তথ্য জানায়। উড়ানের সময় বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন বিষয়ক উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দিন, পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে আনুষ্ঠানিক বিদায় জানান।
আঞ্চলিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বিমান সংযোগের পুনরায় উন্মুক্তি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দ্রুত বাড়ছে। উদাহরণস্বরূপ, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমিত ফ্লাইট পুনরায় চালু হওয়া, এবং বাংলাদেশ-নেপাল সরাসরি রুটের সম্প্রসারণ এই প্রবণতাকে সমর্থন করে। এই ধারা দক্ষিণ এশিয়ার বাণিজ্যিক মঞ্চকে আরও সংহত করতে সহায়তা করবে।
একজন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক মন্তব্য করেন, “বিমান সংযোগের পুনরায় সূচনা কেবল পরিবহন সুবিধা নয়, এটি কূটনৈতিক আস্থা গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ।” তিনি যোগ করেন, উভয় দেশের সরকার এ ধরনের পদক্ষেপকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার ভিত্তি হিসেবে দেখছে।
অর্থনৈতিক দিক থেকে, সরাসরি ফ্লাইটের মাধ্যমে ব্যবসায়িক ভ্রমণ, পণ্য রপ্তানি-আমদানি এবং পর্যটন শিল্পে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি প্রত্যাশিত। বিশেষ করে ধর্মীয় পর্যটন, চিকিৎসা ভ্রমণ এবং শিক্ষামূলক আদান-প্রদান এই সংযোগের মাধ্যমে ত্বরান্বিত হতে পারে।
দুই দেশের বিমান সংস্থাগুলো আগামী কয়েক মাসের মধ্যে অতিরিক্ত ফ্লাইট চালু করার পরিকল্পনা করেছে। বর্তমানে সপ্তাহে একবারের এই উড়ানটি পূর্ণ ক্ষমতায় পরিচালিত হবে, তবে চাহিদা অনুযায়ী ফ্রিকোয়েন্সি বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
দ্বিপাক্ষিক চুক্তি অনুযায়ী, ভবিষ্যতে বাণিজ্যিক, চাহিদা-ভিত্তিক এবং চরম জরুরি সেবার জন্য বিশেষ ফ্লাইটের ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া, বিমান নিরাপত্তা ও সেবা মান উন্নয়নের জন্য উভয় দেশের সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের মধ্যে নিয়মিত সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হবে।
সংক্ষেপে, ১৪ বছর পর বাংলাদেশী বিমান করাচিতে অবতরণ করা কেবল একটি লজিস্টিক্যাল ঘটনা নয়; এটি দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের পুনর্জাগরণ, আঞ্চলিক সংহতি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন সূচনা নির্দেশ করে। ভবিষ্যতে এই সংযোগের বিস্তার দক্ষিণ এশিয়ার সামগ্রিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



