19 C
Dhaka
Saturday, January 31, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাসোনার দাম রেকর্ড উচ্চে, বিনিয়োগকারীদের জন্য বাজারে হ্রাসের কারণও প্রকাশিত

সোনার দাম রেকর্ড উচ্চে, বিনিয়োগকারীদের জন্য বাজারে হ্রাসের কারণও প্রকাশিত

সোনার দাম সাম্প্রতিক সপ্তাহে রেকর্ড স্তরে পৌঁছেছে, এক আউন্সে $5,000 অতিক্রম করে প্রথমবার $5,500 পর্যন্ত ছুঁয়ে, এরপর সামান্য হ্রাস পেয়েছে। এই উচ্চতা গ্লোবাল অর্থনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে বিনিয়োগকারীদের নিরাপদ সম্পদে রূপান্তরকে প্রতিফলিত করে।

একই সময়ে রূপার দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, বর্তমানে প্রতি আউন্সে প্রায় $98 এ ট্রেড হচ্ছে, যা এক বছর আগে $35 থেকে তীব্র বৃদ্ধি। রূপার উত্থান সোনার সঙ্গে সমান্তরালভাবে নিরাপদ সম্পদে চাহিদা বাড়ার সূচক।

সোনার দাম সাময়িকভাবে সাম্প্রতিক শীর্ষ থেকে সামান্য নেমে আসলেও, বিনিয়োগকারীরা এখনও এই ধাতুকে ঝুঁকিপূর্ণ বাজারে আশ্রয়স্থল হিসেবে বেছে নিচ্ছেন। নিরাপদ সম্পদে রূপান্তর মূলত বৈশ্বিক রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও বাণিজ্যিক উত্তেজনা দ্বারা চালিত।

বাণিজ্যিক পরিবেশে অস্থিরতা মূলত মার্কিন সরকার কর্তৃক ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে আরোপিত শুল্ক নীতির ফলে উদ্ভূত হয়েছে। ট্রাম্পের শুল্ক নীতি এমন দেশগুলোর ওপর লক্ষ্য করে, যেগুলোকে তিনি অপ্রিয় বলে গণ্য করেন, ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যাহত হয়েছে।

জানুয়ারিতে সোনা ও রূপার দাম রেকর্ড উচ্চে পৌঁছানোর পর শেয়ার বাজারে পতন দেখা যায়, কারণ ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের পরিকল্পনা বিরোধী আটটি ইউরোপীয় দেশের ওপর নতুন শুল্কের হুমকি বাজারকে অস্থির করে। এই শুল্ক হুমকি শেয়ার মূল্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

ক্যাপিটাল ইকোনমিক্সের অর্থনীতিবিদ হামাদ হুসেইন উল্লেখ করেন, সোনাকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হচ্ছে, বিশেষ করে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অধীনে মার্কিন সরকারের বিদেশি ও আর্থিক নীতির ঝুঁকির তুলনায়। এই ধারণা সোনার চাহিদা বাড়িয়ে তুলেছে এবং ধাতুকে মিডিয়ার আলোতে এনেছে।

ইউক্রেন ও গাজা অঞ্চলের যুদ্ধ, পাশাপাশি মার্কিন সরকারের ভেনেজুয়েলান প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তার করা, বিশ্বব্যাপী রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বাড়িয়ে তুলেছে। এসব ঘটনা সোনার দামের তীব্র উত্থানে সহায়তা করেছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড সংক্রান্ত হুমকি বৈশ্বিক রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে দেয়, ফলে মার্কিন ডলারের প্রতি আস্থা হ্রাস পায়। ডলারের অবমূল্যায়ন সোনার মতো নিরাপদ সম্পদে বিনিয়োগ বাড়িয়ে দেয়। ট্রাম্পের শাসনকালে ‘লিবারেশন ডে’ শুল্ক ঘোষণার পর ডলারের সবচেয়ে বড় পতন ঘটে।

হারগ্রেভস ল্যান্সডাউনের প্রধান বিনিয়োগ কৌশলবিদ এমা ওয়াল উল্লেখ করেন, বিশ্ব যখন অস্থিরতা অনুভব করে, সোনার দাম স্বাভাবিকভাবে বাড়ে, কারণ বাণিজ্যিক উত্তেজনা, ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বাড়ে। এই প্রবণতা সোনাকে নিরাপদ সম্পদ হিসেবে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করে।

মার্কিন, কানাডা ও চীনের মধ্যে নতুন বাণিজ্যিক টানাপোড়েন, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা সোনার চাহিদা আরও বাড়িয়ে তুলছে। বিনিয়োগকারীরা ডলার দুর্বলতা ও বৈশ্বিক ঝুঁকি মোকাবেলায় সোনা ও রূপার দিকে ঝুঁকছেন।

বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, বর্তমান রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে সোনার দাম পুনরায় শীর্ষে পৌঁছাতে পারে, তবে শুল্ক নীতি ও ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার পরিবর্তন দ্রুত দামের ওঠানামা প্রভাবিত করবে। বিনিয়োগকারীদের জন্য মূল বিষয় হল ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং বাজারের পরিবর্তনশীল গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments