19 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধমুগদা হাসপাতাল গেটের বাইরে তিন বছর বয়সী শিশুর অপহরণে পাঁচজনের গ্রেপ্তার

মুগদা হাসপাতাল গেটের বাইরে তিন বছর বয়সী শিশুর অপহরণে পাঁচজনের গ্রেপ্তার

ঢাকা শহরের মুগদা হাসপাতালের গেটের বাইরে এক তিন বছর বয়সী শিশুকে অপহরণ করার অভিযোগে রিকশা চালক চাঁন মিয়া এবং তার ছোট ভাইসহ মোট পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারগুলো ঘটেছে শুক্রবার ভোরে, যখন মুগদা থানা পুলিশ উত্তর মান্ডার মাহিমের গ্যারেজ থেকে মো. জাকির হোসেন (৩৪) নামের সন্দেহভাজনকে ধরেছে। একই দিনে রিকশা চালক চাঁন মিয়ার ছোট ভাইকে আদালতে হাজির করে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমানকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়।

শিশুটির বাবা বিদেশে কাজ করেন, মা-ছেলে ঢাকা শবুজবাগে বসবাস করেন। বুধবার সকাল ১১টায় শিশুটিকে সুমাইয়া আক্তার নামের এক নারী হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ডাক্তারের পরামর্শে পরীক্ষা করিয়ে দেয়া হয়। দুপুর ১টার দিকে সুমাইয়া শিশুটিকে ব্যাটারির রিকশায় নিয়ে হাসপাতালের প্রধান গেটের সামনে রাস্তায় নেমে দেয়। শিশুটি পানির জন্য পাশের দোকানে যাওয়ার সময় রিকশা ও শিশুটি উভয়ই অদৃশ্য হয়ে যায়।

অপহরণের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর মুগদা থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়। তদন্তের সময় চাঁন মিয়া রিকশা চালকের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে চাঁন মিয়ার মা-বাবা মো. নূর মোহাম্মদ ও চাঁন মালা, এবং মোসাম্মৎ কুলসুম বেগম নামের এক নারীকে গ্রেফতার করা হয়।

মুক্তিপ্রার্থনা শুনানিতে চাঁন মিয়ার ভাইয়ের আইনজীবী মো. মাহবুবুর রহমান খান জামিনের আবেদন করেন, তবে বিচারক জামিনের আবেদন প্রত্যাখ্যান করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। তদন্ত কর্মকর্তা এসআই নাজমুল আলম জানান, জাকির হোসেনের সঙ্গে অপরাধের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে এবং তিনি পূর্বে চুরি, ছিনতাই ও অপহরণে জড়িত ছিলেন। জাকিরকে জামিন দিলে পালিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকায় তাকে জেলখানায় রাখা প্রয়োজন বলে তিনি জোর দেন।

মুক্তিপ্রার্থনা প্রত্যাখ্যানের পর চাঁন মিয়ার ভাইকে আদালতে হাজির করা হয় এবং মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। একই সময়ে চাঁন মিয়া, তার বাবা-মা ও এক নারীকে র‌্যাব (রিপিটিটিভ অ্যাপার্টমেন্ট বন্ড) শর্তে জেলখানায় রাখা হয়। মামলায় জড়িত সকল সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া চালু রয়েছে এবং তদন্ত চলমান।

অপহরণ ঘটার পর শিশুটির পরিবার দ্রুত পুলিশকে জানায় এবং শিশুটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। শিশুটিকে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং বর্তমানে তার স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। মামলার পরবর্তী ধাপগুলোতে আদালত ও তদন্তকারী সংস্থার সমন্বয়ে আরও তথ্য সংগ্রহ ও প্রমাণ উপস্থাপন করা হবে।

এই ঘটনার ফলে মুগদা হাসপাতালের আশেপাশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে এবং রিকশা চালকদের ওপর নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ উভয়ই ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ রোধে সতর্কতা অবলম্বন করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments