বগুড়া জেলার মোকমতলা বান্দরে আজ বিকাল প্রায় ৩:১৫ টায় অনুষ্ঠিত র্যালিতে বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমান ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে জেলার ভোটের প্রবণতা পার্টির শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে প্রমাণ হবে বলে জানান। তিনি উল্লেখ করেন, বগুড়া কেবল একটি ঐতিহ্যবাহী জায়গা নয়, বরং দলটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমর্থনভূমি।
র্যালি শুরু হওয়ার আগে দুপুর থেকে বগুড়া ও পার্শ্ববর্তী উপজেলা থেকে বহু নেতা ও কর্মী শোভাযাত্রা করে আসেন। উপস্থিত ভিড়ের মধ্যে পতাকা নাড়ানো, স্লোগান গাওয়া এবং উল্লাসের পরিবেশ দেখা যায়। তারেক রহমান মঞ্চে উঠে উচ্ছ্বাসের সঙ্গে স্বাগত পেয়ে তার বক্তব্য দেন।
তিনি অতীতের কৃষি সমৃদ্ধি ও দেশের উন্নয়নের কথা উল্লেখ করে বলেন, যখন দেশের অর্থনীতি ধানক্ষেত্রের উপর নির্ভরশীল ছিল, তখনই তিনি এবং তার দল সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা দিয়ে এই অঞ্চলের উন্নয়নে কাজ করেছে। তবে তিনি স্বীকার করেন, এখনও অনেক কাজ বাকি রয়েছে।
তারেক রহমান নিজেকে “বগুড়ার সন্তান” বলে পরিচয় দিয়ে, আল্লাহর ইচ্ছা হলে দেশের সেবা করার সুযোগ পেলে সকলের দোয়া কামনা করেন। তিনি উপস্থিতদেরকে একত্রে কাজ করার আহ্বান জানান এবং দেশের দায়িত্ব পেলে পুরো দেশ জুড়ে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
র্যালির পর তিনি বগুড়া শহরের বায়তুর রহমান সেন্ট্রাল মসজিদে জুমা নামাজে অংশ নেন। ২০০৪ সালের ২৬ মার্চ তিনি এই মসজিদের ভিত্তি শিলার কাজ করেন। নামাজের পর তিনি মসজিদটির নির্মাণের পেছনের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করেন, এটি বগুড়ার মানুষের জন্য নির্মিত এবং আল্লাহর অনুগ্রহে এ পর্যন্ত কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তবে তিনি জানান, এখনও কিছু কাজ অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে এবং ভবিষ্যতে সম্পূর্ণভাবে উন্নয়ন করা হবে।
মসজিদে তারেক রহমানের বক্তব্যে তিনি সকলকে একসাথে কাজ করার গুরুত্ব জোর দিয়ে বলেন, যদি আল্লাহ ইচ্ছা করেন এবং দেশের দায়িত্ব তাদের হাতে আসে, তবে তারা দেশের প্রতিটি কোণায় কাজ করবে।
র্যালি শেষের দিকে তিনি রাঙ্গপুরের পীরগঞ্জে শহীদ আবু সায়েদের সমাধি পরিদর্শনের জন্য রওনা হন। সমাধি দর্শনের সময় তিনি শহীদকে সম্মান জানিয়ে দেশের নিরাপত্তা ও উন্নয়নের জন্য ত্যাগ স্বীকারের কথা স্মরণ করেন।
বিএনপি নেতাদের উপস্থিতি ও সমর্থনকারী ভিড়ের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য ছিল, যা বগুড়া জেলায় পার্টির সংগঠনের শক্তি নির্দেশ করে। তবে একই সময়ে আওয়ামী লীগ ও অন্যান্য বিরোধী দলের কাছ থেকে কোনো তাত্ক্ষণিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, বগুড়া নির্বাচনী ফলাফল পার্টির ভবিষ্যৎ কৌশলে প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষত যদি এই ভিত্তি থেকে ভোটের প্রবাহ বজায় থাকে। তবে শেষ পর্যন্ত ভোটের ফলাফল নির্ধারিত হবে ভোটদানের পর।
এই র্যালি এবং তারেক রহমানের বক্তব্য বগুড়া জেলায় বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থানকে পুনরায় জোরদার করার একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। পার্টি তার সমর্থকদের সঙ্গে সংযোগ বাড়াতে এবং নির্বাচনী প্রস্তুতি ত্বরান্বিত করতে এই ধরনের জনসমাবেশ ব্যবহার করছে।
বগুড়া জেলায় ভোটের প্রস্তুতি চলাকালীন বিভিন্ন দল ও সংগঠন তাদের নিজস্ব প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে।
বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের এই সফর এবং র্যালি বগুড়া জেলায় পার্টির ভিত্তি শক্তিশালী করার লক্ষ্যে নেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



