শুক্রবার বিকেলে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বাবনপুরে অনুষ্ঠিত একটি সমাবেশে, জুলাই ২০২৪ গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের পিতা মকবুল হোসেন স্পষ্টভাবে জানালেন যে তিনি বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমানকে দেশের শীর্ষমন্ত্রীর পদে দেখতে চান। তিনি উল্লেখ করেন, তারেকের নেতৃত্বে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হবে এবং শহীদদের আত্মত্যাগের ফলস্বরূপ একটি সমান সুযোগের বাংলাদেশ গড়ে উঠবে।
জুলাই ২০২৪-এ দেশের বিভিন্ন অংশে ব্যাপক প্রতিবাদ ও অবৈধ দমনমূলক কার্যক্রমের পর, রক্তাক্ত সংঘর্ষে প্রথম শহীদ হিসেবে আবু সাঈদের নাম ইতিহাসে অঙ্কিত হয়েছে। তার মৃত্যু দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে গভীর প্রভাব ফেলেছে এবং তার পরিবার এখন দেশের ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারকদের প্রতি উচ্চ প্রত্যাশা রাখে।
মকবুল হোসেনের মতে, যদি তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হন, তবে জুলাই আন্দোলনের শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে তারেকের শাসনামলে বৈষম্যহীন নীতি চালু হবে এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পুনর্স্থাপিত হবে। এ ধরনের পরিবর্তন দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
তবে এই দাবির পেছনে মকবুলের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও আবেগের মিশ্রণ রয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, তারেকের সঙ্গে গত শুক্রবারের সাক্ষাতে তিনি পরিবারের অবস্থা সম্পর্কে জানার সুযোগ পেয়েছেন এবং তারেকের সহানুভূতিশীল আচরণকে প্রশংসা করেছেন। মকবুলের মতে, এই ধরনের মানবিক সম্পর্ক রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির ভিত্তি গড়ে তুলতে সহায়ক।
বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের একই দিনে বাবনপুরে আবু সাঈদের কবরের পাশে উপস্থিতি ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইঙ্গিত। তিনি কবর জিয়ারত করার পর পরিবারকে সমর্থন জানিয়ে, তাদের কষ্টের কথা শোনেন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে আলোচনা করেন। তারেকের এই পদক্ষেপকে পার্টির সমর্থকরা তার শীর্ষস্থানীয় নেতৃত্বের ইচ্ছা প্রকাশের একটি স্পষ্ট সংকেত হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন।
তারা উল্লেখ করেন, কবর জিয়ারতের সময় তারেকের ভাষণ সংক্ষিপ্ত হলেও শক্তিশালী ছিল; তিনি দেশের ন্যায়বিচার ও সমতা প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন এবং শহীদদের ত্যাগকে স্মরণ করে দেশের উন্নয়নের দায়িত্ব গ্রহণের আহ্বান জানান। এই বক্তব্যের পর পরিবার ও সমাবেশের উপস্থিতিরা তারেককে উল্লাসের সাথে স্বাগত জানায়।
বিএনপি এই ধরনের কর্মকাণ্ডকে তার রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবে ব্যবহার করছে, যা জুলাই ২০২৪-এ ঘটিত ঘটনাগুলোর স্মরণীয়তা বজায় রেখে পার্টির জনপ্রিয়তা বাড়ানোর লক্ষ্য রাখে। পার্টির অভ্যন্তরে তারেকের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা বাড়ছে, যদিও সরকারী স্তরে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নেই।
অন্যদিকে, শীর্ষস্থানীয় বিরোধী দল আওয়ামী লীগ, যার নেতৃত্বে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আছেন, এই দাবিকে তীব্রভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা উল্লেখ করে, দেশের শাসনব্যবস্থা সংবিধানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত এবং কোনো একক ব্যক্তির ওপর নির্ভরশীল নয়। এছাড়া, তারা যুক্তি দেয় যে দেশের উন্নয়নের জন্য স্থিতিশীল ও অভিজ্ঞ নেতৃত্ব প্রয়োজন, যা বর্তমান সরকারই প্রদান করছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলেন, যদি তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা বাস্তবায়িত হয়, তবে তা দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে পারে। বিশেষ করে, যুবক ও কর্মরত শ্রেণীর মধ্যে তার জনপ্রিয়তা বাড়তে পারে, যা ভোটের গতিবিধিকে প্রভাবিত করবে। তবে একই সঙ্গে, বিরোধী দলের সঙ্গে তীব্র রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং নীতি-নির্ধারণে সংঘাতের সম্ভাবনা বাড়বে।
মকবুল হোসেনের দাবি দেশের কিছু অংশে সমর্থন পেয়েছে, বিশেষত যারা জুলাই আন্দোলনের সময় শোষিত বা ক্ষতিগ্রস্ত বোধ করেন। তারা বিশ্বাস করে, তারেকের নেতৃত্বে ন্যায়বিচার ও সমতা প্রতিষ্ঠা হবে এবং শহীদদের ত্যাগের স্বীকৃতি পাবেন। এই ধরনের প্রত্যাশা দেশের রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
অবশেষে, রাজনৈতিক পরিবেশের এই পরিবর্তনগুলো আগামী নির্বাচনের পূর্বে বিশেষ গুরুত্ব পাবে। পার্টিগুলো এখন কৌশল নির্ধারণে মনোযোগ দিচ্ছে, যাতে তারা ভোটারদের মনোভাবের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে পারে। মকবুল হোসেনের মতামত এই প্রক্রিয়ার একটি অংশ হিসেবে গণ্য হবে, যা দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের গঠনকে প্রভাবিত করতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, মকবুল হোসেনের প্রকাশ্য বক্তব্য এবং তারেকের কবর জিয়ারত সফর দুটোই দেশের রাজনৈতিক গতিপথে নতুন দিক নির্দেশ করে। এই ঘটনাগুলো দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্বাচন প্রক্রিয়ার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে এবং ভবিষ্যৎ নীতি-নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সময়ই বলবে, এই দাবি বাস্তবে রূপ নেবে কিনা এবং দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে কী ধরনের পরিবর্তন ঘটবে।



