বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান নির্বাচনের পূর্বে একটি গোষ্ঠী ভোট কেনার মাধ্যমে নির্বাচনী প্রক্রিয়া ব্যাহত করার পরিকল্পনা করছে বলে অভিযোগ উত্থাপন করেন এবং নাগরিকদের সতর্ক থাকতে আহ্বান জানান। এই মন্তব্যগুলো শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি, জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত “প্রবাসীদের ভোট, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন এবং নাগরিক ভাবনা” শীর্ষক আলোচনায় করা হয়। তিনি উল্লেখ করেন, ভোট কেনা ও নির্বাচনী হস্তক্ষেপের ঝুঁকি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশের গণতান্ত্রিক গতি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
বিএনপি নেতার মতে, ১৭ বছরের বিরতির পর বাংলাদেশ আবার সংসদীয় নির্বাচনের পথে অগ্রসর হচ্ছে এবং এই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে শুধুমাত্র ভোটের হিসাব নয়, বরং দেশের মুক্তির সংকেত হিসেবে দেখা উচিত। তিনি অতীতের রাজনৈতিক সহিংসতার কথা স্মরণ করে বলেন, বহু নেতা ও কর্মী গুম হয়েছেন বা নিহত হয়েছেন, তাই এই নির্বাচনকে দেশের স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচারের পুনর্নির্মাণের সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।
সেলিমা রহমান বর্তমান সরকারকে প্রবাসী বাংলাদেশীদের প্রতি সম্মান ও গর্বের দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণের প্রশংসা করেন, এবং পূর্বের শাসনকালে প্রবাসীদের অবদানকে অবমূল্যায়ন করা হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রবাসী ভোটের স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করা না হলে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া দুর্বল হয়ে পড়বে।
আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর শরাফত আলী সাপু, নির্বাহী কমিটির সদস্য রফিক সিকদার, জাতীয়তাবাদী তাঁতী দলের নেতা কাজী মনিরুজ্জামান মনির এবং আয়োজক সংগঠনের সভাপতি ঢালী আমিনুল ইসলাম রিপন। সকল অংশগ্রহণকারী একমত হন যে ভোট কেনার মতো অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
সেলিমা রহমানের বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে, কিছু গোষ্ঠী প্রবাসী ভোটারদের লক্ষ্য করে আর্থিক প্রণোদনা দিয়ে ভোট সংগ্রহের চেষ্টা করছে, যা নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারকে ক্ষুণ্ন করতে পারে। তিনি এই ধরনের কর্মকাণ্ডকে রোধ করতে নির্বাচনী কমিশনকে তদারকি বাড়াতে এবং প্রবাসী ভোটের রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়াকে কঠোর করতে আহ্বান জানান।
বিএনপি এই মুহূর্তে নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রবাসী ভোটারদের তালিকা যাচাই, ভোটার কার্ডের বৈধতা নিশ্চিতকরণ এবং ভোটদান প্রক্রিয়ার পর্যবেক্ষণে স্বতন্ত্র পর্যবেক্ষক সংস্থার অংশগ্রহণের দাবি তুলে ধরেছে। দলটি দাবি করে যে, ভোট কেনার অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
বিএনপি নেতারা উল্লেখ করেন, দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার বজায় রাখাই ভবিষ্যৎ গণতন্ত্রের মেরুদণ্ড। তারা জোর দিয়ে বলেন, যদি ভোট কেনার মতো অনৈতিক প্রথা চালু থাকে, তবে তা নির্বাচনের বৈধতা ও ফলাফলে প্রশ্ন তুলবে এবং দেশের আন্তর্জাতিক সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
প্রবাসী ভোটের গুরুত্ব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলই প্রবাসী ভোটারদের মতামত সংগ্রহে সক্রিয় হয়েছে। তবে সেলিমা রহমানের মতে, এই প্রক্রিয়ায় কোনো আর্থিক লেনদেন বা অনৈতিক প্রভাব না থাকাই একমাত্র সঠিক পদ্ধতি। তিনি সকল রাজনৈতিক দলকে প্রবাসী ভোটারদের স্বতন্ত্র ও স্বচ্ছভাবে ভোটদান নিশ্চিত করার জন্য একত্রে কাজ করার আহ্বান জানান।
বিএনপি এই আলোচনার মাধ্যমে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য একটি সমন্বিত কৌশল গড়ে তুলতে চায়। দলটি পরিকল্পনা করেছে যে, প্রবাসী ভোটারদের জন্য বিশেষ পর্যবেক্ষণ দল গঠন করা হবে, যাতে কোনো অনিয়ম দ্রুত সনাক্ত ও প্রতিরোধ করা যায়। এছাড়া, ভোট কেনার অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহ করা হবে।
অবশেষে, সেলিমা রহমান উল্লেখ করেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেশের রাজনৈতিক পুনর্গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক এবং এর সাফল্য নির্ভর করবে সকল অংশগ্রহণকারীর স্বচ্ছতা, সততা ও ন্যায়বিচারের উপর। তিনি সকল নাগরিককে আহ্বান করেন, ভোট কেনার মতো অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিতে এবং দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা নিতে।
এই আলোচনার পর, বিএনপি দল নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রবাসী ভোটারদের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য নির্দিষ্ট নির্দেশনা ও তদারকি ব্যবস্থা প্রণয়নের অনুরোধ জানাবে। একই সঙ্গে, দলটি ভোট কেনার অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যাতে নির্বাচনের ফলাফলকে ন্যায়সঙ্গত ও বৈধ করা যায়।
জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত এই সভা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার বজায় রাখার গুরুত্বকে পুনরায় জোরদার করেছে এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে সকল রাজনৈতিক শক্তিকে সতর্ক ও দায়িত্বশীল হতে আহ্বান জানিয়েছে।



